সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয়, তাঁদের নিজ নিজ জেলা এবং পরিবারের তথ্য শনাক্ত করার কাজ চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা হবে। আহত চারজনের পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
পরিচয় শনাক্তে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
শামা ওবায়েদ জানান, রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সংঘাত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হওয়ায় পরিচয় শনাক্তের কাজ জটিল হয়ে উঠেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সৌদি আরবে অবস্থানরত অন্য বাংলাদেশিদের পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে বাংলাদেশের মিশন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশিদের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে পরিবারের জন্য পরিশ্রম করা প্রবাসীরা সংঘাতের শিকার হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুদ্ধ ও হামলা বন্ধ হবে এবং নতুন করে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত ১৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
মরদেহ দেশে ফেরাতে সরকারি সহায়তা
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে সাধারণত সরকার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যয় বহন করে। এ ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কোনো বাংলাদেশি বিমান সংস্থা বা নির্দিষ্ট ফ্লাইট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন তথ্য সরকারের কাছে নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
হামলার নিন্দা বাংলাদেশের
১০ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার এর আগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন এবং আহতদের অনেকে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
বিবৃতিতে বেসামরিক মানুষের জীবন ও বেসামরিক অবকাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন হামলাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে চলমান সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।












