ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে চীন ও রাশিয়া তেহরানকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা দিচ্ছে বলে বিশ্বাস করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানকে সহায়তা করতে গিয়ে চীন ও রাশিয়ার নিজেদেরই অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও দুই দেশ ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না—এমন দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁর সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের কাছ থেকে তিনি এমন মন্তব্য শুনেছেন যে চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে। তবে এ ধরনের সহায়তা থাকলেও তা খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, চীন ও রাশিয়া যদি ইরানকে সহায়তা করেও থাকে, তবে তা খুবই সামান্য। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, দেশ দুটি আদৌ এমন কোনো সহায়তা দিচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে সহায়তা করলে চীন ও রাশিয়ার অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পারবে এবং খুব দ্রুতই তা জানতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগেও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে একই ধরনের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। জুলাই মাসে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে চীন ও রাশিয়ার ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে। তবে দেশ দুটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ।
যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইরানের সঙ্গে বেইজিং ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সংঘাতের মধ্যে দেশ দুটি কী ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের বক্তব্য, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।
গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্প তাঁকে ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সে সময় চীন এমন সহায়তা দেবে না বলে আশ্বাস পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন চীনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।
তবে এর মধ্যেই ইরানকে চীনের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি চীনের সহায়তায় ইরান তেল বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার উপায় খুঁজে পেয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য অবশ্য ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তুলে ধরেননি।
এ ছাড়া গত জুলাইয়ে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ইরান ওই ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করেছিল বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প সেই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিতে চাননি।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প দুই দেশকে সরাসরি ইরানকে সহায়তা করা থেকে বিরত রয়েছে বলে মনে করলেও, তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত নয়।












