কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পতাকা বৈঠকের পর তাঁদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা দুজন হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকার ২০৫৭ নম্বর মূল সীমান্ত পিলারের কাছে বৈঠকটি হয়। আটক থেকে ফেরত পর্যন্ত সময় লেগেছে প্রায় ১৪ ঘণ্টা।
ঘটনার শুরু বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তের শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকায় ২০৫৯ নম্বর পিলারের কাছে অভিযানে যান দুই পুলিশ সদস্য। তাঁদের দেখে সন্দেহভাজন এক মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করেন। কনস্টেবল রোহিত তাঁকে ধাওয়া করেন। সীমান্তের কাছে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে আটক করেন। সহকর্মীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরানকেও আটক করা হয়। এরপর রাতেই দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম ও শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তকবির হোসেন। আরও ছিলেন দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন। কর্মকর্তারা জানান, হস্তান্তরের আগে বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার পরই দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দেওয়া হয়। বৈঠকে আর কী নিয়ে কথা হয়েছে, তার বিস্তারিত জানা যায়নি।
মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালায় পুলিশ ও বিজিবি। অনেক জায়গায় শূন্যরেখার খুব কাছেই বসতি ও চাষের জমি। রাতে ধাওয়ার সময় সীমান্তরেখা ঠিকমতো বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় সামান্য ভুলেই একজন অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়তে পারেন। এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করে। তবে এবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এক দিনের মধ্যেই বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
দুর্গাপূজা ঘিরে সীমান্তে এখন বাড়তি সতর্কতা চলছে। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি ১৮টি বেস ক্যাম্প বসিয়েছে এবং টহল বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তের এই ঘটনা মাঠপর্যায়ে দুই বাহিনীর সমন্বয়ের গুরুত্ব আবার সামনে আনল। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় রাতের অভিযানে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রয়োজনও দেখা দিচ্ছে।












