ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন। আগের বছর একই সময়ে শীর্ষে থাকা জার্মানি নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে, স্পেনে রপ্তানি হয়েছে ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি পোশাক। একই সময়ে জার্মানিতে গেছে ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পোশাক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এক বছর আগে চিত্রটা ছিল উল্টো। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জার্মানিতে রপ্তানি ছিল ১১২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি, স্পেনে প্রায় ১০০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এক বছরে স্পেনে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বা প্রায় ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। জার্মানিতে কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। ফ্রান্সে কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে বেড়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
পুরো ইইউতে প্রথম প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। শুধু সেপ্টেম্বরে ইইউতে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪১ কোটি ডলারে। ওই মাসে পোল্যান্ডে রপ্তানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ। বড় পাঁচ বাজারের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মাসিক প্রবৃদ্ধি। তবে বড় পাঁচের বাইরের ইইউ দেশগুলোতে সম্মিলিত রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।
ইইউ বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক বাজার। এর ভেতরে বাজার বদলের মানে, ক্রেতার ভিত্তি একটি দেশের ওপর আর আগের মতো নির্ভর করছে না। জার্মানি ও ফ্রান্সে চাহিদা কমার মধ্যেও মোট রপ্তানি বেড়েছে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের কারণে। দেশের ভেতরে অবশ্য পোশাক খাত চাপের মধ্যে আছে। শ্রমিকেরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জ্বালানি সংকটও কারখানার খরচ বাড়াচ্ছে।
বছরের বাকি সময়ে স্পেন শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে কি না, তা বোঝা যাবে পরের প্রান্তিকগুলোর তথ্যে। তবে প্রথম তিন মাসের হিসাব বলছে, ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মানচিত্র ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। নতুন বাজারে এই গতি ধরে রাখতে পারলে একক দেশের চাহিদা কমার ঝুঁকিও কমবে।












