বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহকারী ওমানের ওকিউ ট্রেডিং (ওকিউটি) সরবরাহ আবার শুরু করতে নতুন দামের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি মানলে এলএনজির দাম চুক্তিতে ঠিক করা দামের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এই প্রস্তাব নাকচ করেছে। তাদের অবস্থান, বিদ্যমান চুক্তির দামেই এলএনজি সরবরাহ করতে হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চিঠি চালাচালিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ওকিউটি চাইছে এশিয়ার স্পট বাজারের মানদণ্ড জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) থেকে প্রতি এমএমবিটিইউতে ৪ সেন্ট কম দাম। ১৪ অক্টোবরের জেকেএম দর ধরলে এই দাম দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ২৩৫ ডলার। বাংলাদেশের সঙ্গে ওকিউটির দুটি চুক্তিই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত। প্রথম চুক্তিতে দাম ব্রেন্টের ১২ শতাংশ যোগ ৪০ সেন্ট। দ্বিতীয়টিতে ব্রেন্টের ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ যোগ ৫০ সেন্ট। একই দিনের ব্রেন্ট দরে প্রথম চুক্তিতে দাম পড়ত প্রায় ১৩ দশমিক ২০ ডলার, দ্বিতীয়টিতে প্রায় ১৪ দশমিক ৬৯ ডলার। অর্থাৎ নতুন প্রস্তাবে দাম প্রথম চুক্তির চেয়ে প্রায় ৯৯ শতাংশ আর দ্বিতীয়টির চেয়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে ওকিউটি ফোর্স মেজার দেখিয়ে চুক্তির এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ১৮ অক্টোবর আসার কথা থাকা একটি কার্গোতেও একই কারণ দেখানো হয়েছে। প্রথম চুক্তি হয় ২০১৮ সালের ৬ মে, দ্বিতীয়টি ২০২৩ সালের ১৯ জুন। প্রতিটি চুক্তিতে বছরে ১৬টি করে কার্গো আসার কথা। ২০২৭ সালের ৩২টি কার্গো নিশ্চিত করতে ৯ অক্টোবর ওকিউটিকে চিঠি দেয় আরপিজিসিএল। জবাবে ওকিউটি মাত্র ১৬টি কার্গোর পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, যা প্রাপ্যের অর্ধেক। সবগুলোই কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে লোড করার কথা বলা হয়েছে, অথচ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকেই সরবরাহ বন্ধের কারণ বলছে প্রতিষ্ঠানটি। আরপিজিসিএল বলছে, চুক্তিতে দাম পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই এবং অন্য দেশের উৎস থেকেও সরবরাহ দিতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশকে চড়া দামে স্পট বাজার থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কাতারএনার্জি ও এক্সিলারেট এনার্জিও এ বছর ফোর্স মেজার দেখিয়েছে। ২০২৫ সালে স্পট বাজার থেকে ৪৯টি কার্গো এসেছিল। চলতি বছর জুলাইয়ের শেষ পর্যন্তই কেনা হয়েছে ৩৮টি। পেট্রোবাংলার হিসাবে ৩১ জুলাই দেশে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে দিনে প্রায় ২ হাজার ১৫৩ মিলিয়ন ঘনফুটে। সংকটের আগে তা ছিল ২ হাজার ৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। এলএনজির বাড়তি দাম মানে বিদ্যুৎ ও শিল্পে খরচ বাড়া, আর ভর্তুকির চাপ সরকারের ঘাড়ে।
২০২৭ সালের জন্য পেট্রোবাংলা প্রাথমিকভাবে ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছে, যার ৩২টি ওকিউটির কাছ থেকে আসার কথা। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ওকিউটি চুক্তিমতো সরবরাহ না দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। আরপিজিসিএলও চিঠিতে বিষয়টিকে চুক্তিভঙ্গ হিসেবে বিবেচনার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। এলএনজি সরবরাহে ওকিউটির সঙ্গে এই দর-কষাকষির ফল আগামী বছরের গ্যাস পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।












