চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এপ্রিলে সংস্থাটি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছিল। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় ১৩ অক্টোবর এই হিসাব প্রকাশ করা হয়। একই সভার ফাঁকে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।
আইএমএফের হিসাবে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাব ৪ শতাংশ। অর্থাৎ বড় তিন উন্নয়ন সহযোগীর মধ্যে আইএমএফের পূর্বাভাসই সবচেয়ে কম। সরকারের লক্ষ্য অবশ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। সংস্থাগুলোর হিসাবের সঙ্গে এই লক্ষ্যের ফারাক অনেক বড়।
ব্যাংককে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকের পর তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে নতুন ঋণের সঙ্গে শর্ত থাকবে, যা বাংলাদেশকে পূরণ করতে হবে। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন-চন্দ্র জানান, ঋণের পরিমাণ ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশে নেমেছে, যা বিশ্বে সবচেয়ে কমগুলোর একটি। চলতি মাসের শেষে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকায় আসার কথা। তখন ঋণের অঙ্ক ও শর্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
আইএমএফের অগ্রাধিকারে আছে রাজস্ব আদায় বাড়ানো আর ব্যাংক খাতের সংস্কার। ২০২৩ সালের ঋণ চুক্তিতে ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশে নামানোর অঙ্গীকার ছিল। বাস্তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জুনে তা দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে। আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমেছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দাম। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠলে বাজারে চাপ আরও বাড়বে। কম প্রবৃদ্ধি মানে নতুন কর্মসংস্থানও কম।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ঋণের অঙ্ক ও কিস্তি ঠিক হবে স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা ও আইএমএফ বোর্ডে। তাঁর মতে, ২০৩০ সালের নির্বাচনের আগে ২০২৯ সালের মধ্যেই সংস্কারের কাজগুলো শেষ করতে হবে। ব্যাংককের বার্ষিক সভা চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। আইএমএফের পূর্বাভাস আর নতুন ঋণের শর্ত মিলিয়েই আগামী কয়েক মাসের অর্থনৈতিক নীতির দিক ঠিক হবে।












