রাজবাড়ী শহরে দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পিয়ারুল সরদার (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন একটি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
নিহত পিয়ারুল সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হারুন সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদক, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সদর থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি। তারা খুব কাছ থেকে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পিয়ারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে দুটি গুলির ক্ষত ছিল।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অনিক কুমার মণ্ডল জানান, শুক্রবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে পিয়ারুলকে হাসপাতালে আনা হয়। দ্রুত ইসিজি পরীক্ষা করে তাকে মৃত পাওয়া যায়। এ সময় তার স্বজনেরা মরদেহ ফরিদপুরে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পিয়ারুলের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদক, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
হত্যার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি পিয়ারুলকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তবে পিয়ারুলকে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।












