চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা। লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, তামা ও বিরল মৃত্তিকা মৌলের মতো উপাদানের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবার বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে দেশটি। এর মাধ্যমে একদিকে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমানো, অন্যদিকে উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।
চীনের সস্তা বৈদ্যুতিক গাড়ির রপ্তানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে গাড়ির বাজারের পাশাপাশি ব্যাটারি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ইউরোপের উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি বাতিল হওয়ার পর সেগুলো থেকে মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। ব্যাটারি ভেঙে যে কালো গুঁড়ার মতো পদার্থ পাওয়া যায়, সেটিকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক মাস’। এটি থেকে লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো ধাতু সংগ্রহ করে নতুন ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য নিজেদের অঞ্চলে প্রক্রিয়াজাত করতে উৎসাহিত করছে ইউরোপ। যুক্তরাষ্ট্রও চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি আমদানি করে। ফলে ব্যাটারির বর্জ্য ও মূল্যবান খনিজের পুনর্ব্যবহার নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।
তবে এসব উদ্যোগ চীনের জন্য বড় সংকট তৈরি করবে, এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। বরং রিসাইক্লিং শিল্পে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে সম্ভাব্য সরবরাহসংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে পুনর্ব্যবহৃত ব্যাটারির বর্জ্য থেকে বৈশ্বিক ব্যাটারি-ধাতুর চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত সম্পদ
একসময় চীনে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশদূষণ কমানো। এখন সেই লক্ষ্য আরও বিস্তৃত হয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করাই হয়ে উঠছে বড় অগ্রাধিকার।
চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বর্জ্য উৎপাদনকারী দেশ। পৌর বর্জ্যের পাশাপাশি শিল্পকারখানার বর্জ্য, ধাতব টুকরা, নির্মাণসামগ্রী, ছাই ও অন্যান্য অবশিষ্ট পদার্থের পরিমাণও সেখানে বিপুল।
১৯৮০-এর দশকে চীন উন্নত দেশগুলো থেকে কাগজ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত সামগ্রী আমদানি শুরু করে। এর ফলে দেশটিতে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার খাত গড়ে ওঠে। তবে বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সামগ্রী খোলা জায়গায় পোড়ানো হতো কিংবা ভাগাড়ে ফেলে রাখা হতো। এতে বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ত এবং বায়ুদূষণ বাড়ত।
২০১৩ সালে দূষণবিরোধী উদ্যোগ জোরদার করে চীন। একই সঙ্গে দেশটি প্রথমবারের মতো বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর আওতায় ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিরাপদে প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা, গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ভাগাড়ের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০১৭ সালে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য আমদানি বন্ধের পদক্ষেপ নেয় চীন। ২০২১ সালে কঠিন বর্জ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে দেশটির অধিকাংশ শহরে গৃহস্থালি বর্জ্য আলাদা করে ফেলার নিয়ম চালু হয়েছে।
তবে ইউরোপের উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তুলনায় চীন এখনো পিছিয়ে। দেশটির গ্রামীণ অনেক এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়ে গেছে। আবার পুনর্ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত জাতীয় তথ্যও নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। তারপরও বড় শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে মূল্যবান সম্পদ আহরণের দিকে নজর বাড়িয়েছে সরকার।
উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে কাঁচামালের নিশ্চয়তা
চীনের রিসাইক্লিং পরিকল্পনার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, রোবট, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় দেশটি। দ্বিতীয়ত, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় বেইজিং।
চীন বর্তমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পরিশোধনের বৈশ্বিক সক্ষমতার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এসব খনিজের আকরিকের জন্য দেশটিকে এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো চীনা কারখানার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। ফলে ভবিষ্যতে কাঁচামালের সরবরাহ রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুনর্ব্যবহারকে সরবরাহনিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে চীন। দেশটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৫১ কোটি টন শিল্পজাত উপাদান পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সরবরাহ করা। বর্তমান পর্যায়ের তুলনায় এটি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।
ইস্পাত, তামা ও অ্যালুমিনিয়াম পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার তুলনামূলক জটিল হলেও এর মাধ্যমে তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।
চীনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশটিতে প্রতিবছর বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন থেকে ৫ লাখ টন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি থেকে ১০ লাখ টন এবং সৌর প্যানেল থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন বর্জ্য তৈরি হতে পারে। এসব বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে এমন অনেক উপাদান, যেগুলো পুনরুদ্ধার করে নতুন শিল্পপণ্যে ব্যবহার করা সম্ভব।
ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারে চীনের বড় সুবিধা
চীন নিজেই যখন বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সৌর প্যানেল উৎপাদন করছে, তখন এসব পণ্যের পুনর্ব্যবহারও তুলনামূলক সহজ হতে পারে। উৎপাদনের সময়ই পণ্য এমনভাবে নকশা করা সম্ভব, যাতে মেয়াদ শেষে সেগুলো খুলে মূল্যবান উপাদান সংগ্রহ করা যায়।
ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু প্রযুক্তি পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগে। যেমন, রাসায়নিক পদার্থ ও তাপ ব্যবহার করে মূল্যবান ধাতু আলাদা করা যায়।
চীনের ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএটিএল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারি নির্মাতাদের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ব্যাটারির বড় অংশই চীনের বাজারে বিক্রি হয়। ব্যবহারের পর এসব ব্যাটারির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সিএটিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্রুনপের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারের সুযোগ পায়। ব্রুনপ বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।
উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারের মধ্যে এমন সংযোগ চীনকে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ে বড় সুবিধা দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের মোট ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার সক্ষমতার প্রায় ৮৫ শতাংশের অধিকারী।
সক্ষমতা থাকলেও রয়েছে বড় বাধা
চীনের রিসাইক্লিং শিল্পের সামনে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, অনেক পুরোনো ব্যাটারি আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থায় না গিয়ে অনানুষ্ঠানিক স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। এসব ব্যাটারি থেকে মূল্যবান উপাদান যথাযথভাবে সংগ্রহ করা হয় না। অনেক ব্যাটারি আবার সরাসরি ফেলে দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধভাবে ব্যাটারি সংগ্রহের নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে কয়েকটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সৌর প্যানেল ও বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনের বর্জ্য সংগ্রহ করাও কঠিন। কারণ, এসব সরঞ্জামের অনেকগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপন করা হয়। আবার এগুলোতে থাকা মূল্যবান উপাদান—যেমন সৌর প্যানেলে রুপা এবং বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনে নিওডিমিয়াম—তুলনামূলক অল্প পরিমাণে থাকে। ফলে এসব উপাদান আলাদা করা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে ওঠে।
এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে চীন। ২০২৪ সালে দেশটি চায়না রিসোর্সেস রিসাইক্লিং গ্রুপ নামে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গঠন করে। এর লক্ষ্য হলো পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের সমন্বয় করা এবং বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির পণ্য থেকে মূল্যবান উপাদান সংগ্রহ বাড়ানো।
বিভিন্ন পুনর্ব্যবহার কারখানায় বর্জ্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে বাছাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের পণ্যে ডিজিটাল পরিচিতি যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্যের জীবনচক্র অনুসরণ করা যায়। উৎপাদিত ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের আইনি দায়িত্বও নির্মাতাদের ওপর দেওয়া হয়েছে।
বিরল মৃত্তিকা পুনর্ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ
চীনের দাবি, দেশটির বিরল মৃত্তিকা মৌলের সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ ইতিমধ্যে পুনর্ব্যবহার থেকে আসে। তবে এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদন খরচ এখনো নতুন কাঁচামাল থেকে খনিজ আহরণের তুলনায় বেশি।
তারপরও বিরল মৃত্তিকা খাতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সব ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক লাভের হিসাবকে অগ্রাধিকার দেয় না। কলোরাডো স্কুল অব মাইনসের গবেষক করবি অ্যান্ডারসনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হলেও কৌশলগত কারণে কিছু পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পুনর্ব্যবহার কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত কাঁচামাল নিশ্চিত করতে চীন বিদেশি বর্জ্য আমদানির ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করছে। ২০২৪ সালে কিছু ধরনের তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ক্র্যাপ আমদানিতে ছাড় দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে ব্যাটারির বর্জ্য থেকে পাওয়া ব্ল্যাক মাস আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই উপাদানের আমদানি শুল্ক ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়।
আগামী পাঁচ বছরে উচ্চমানের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানের আমদানি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন সরকার।
পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কতটা কঠিন হবে প্রতিযোগিতা?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখন নিজেদের মূল্যবান বর্জ্য দেশে রেখে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংগ্রহ করতে চায়। এতে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা কমতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে চীনের ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান জিইএমের উপমহাব্যবস্থাপক ঝাং ইউপিং মনে করেন, চীনের আধিপত্য সহজে কমবে না। তাঁর মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমা দেশগুলোর এ ধরনের পদক্ষেপের যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু চীনের বাইরে পুনর্ব্যবহার শিল্প গড়ে তোলা এবং বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে।
এখানেই চীনের দীর্ঘদিনের শিল্পভিত্তি, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উৎপাদনব্যবস্থার সুবিধা কাজ করতে পারে। ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন থেকে শুরু করে বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান সরবরাহ—পুরো ব্যবস্থাকে একই শিল্পপরিসরে যুক্ত করতে পারলে চীন কাঁচামালের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে পারবে।
সব মিলিয়ে, চীনের কাছে রিসাইক্লিং এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি শিল্পনীতি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতারও অংশ। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক চাহিদা যত বাড়বে, ব্যবহৃত ব্যাটারি, সৌর প্যানেল ও অন্যান্য শিল্পপণ্য থেকে উপাদান পুনরুদ্ধারের গুরুত্বও তত বাড়বে। এই পরিবর্তনে চীন তার বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে।












