দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু থামছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজন মারা গেছেন। তাঁদের একজন খুলনা বিভাগের, অন্যজন সিলেট বিভাগের। এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর নেই। বিজ্ঞপ্তির হিসাব ধরা হয়েছে ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫১। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১৪৬ জন। পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। সাত মাসের বেশি সময় ধরে এই প্রাদুর্ভাব চলছে। অথচ এখনো প্রতিদিনই নতুন রোগী ধরা পড়ছে। প্রাণহানি এক হাজার পেরোনোর পরও প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর খবর আসছে। ফলে হাম উপসর্গে মৃত্যুর তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ কমেনি।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৭৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে রোগী পাওয়া গেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৩ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৭৭০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮ জন। মার্চের পর মোট ভর্তি ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৩৯ জন, আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯৯ জন। অর্থাৎ ভর্তি রোগীদের প্রায় ৮৬ শতাংশ ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই হিসাবে মার্চের পর থেকে উপসর্গ নিয়ে আসা প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ১ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে।
বিভাগওয়ারি হিসাবে ঢাকায় নতুন রোগী সবচেয়ে বেশি, ৪৯৭ জন। চট্টগ্রামে ২৫৯, সিলেটে ১৩৯ ও বরিশালে ১৩০ জন রোগী পাওয়া গেছে। খুলনায় ১১৪, ময়মনসিংহে ১০৪, রাজশাহীতে ৪৪ ও রংপুরে ২৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ কোনো বিভাগই হামের ঝুঁকির বাইরে নেই। দিনে হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের সংখ্যা বলছে, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শুধু ঢাকাতেই দিনের মোট নতুন রোগীর প্রায় ৩৮ শতাংশ ধরা পড়েছে।
হাম মূলত শিশুদের রোগ, আর টিকা না নেওয়া শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও গায়ে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শিশুর টিকার কার্ড দেখে নিন যে হামের টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না। বাদ পড়ে থাকলে দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যান। হাম উপসর্গে মৃত্যু ঠেকাতে সময়মতো চিকিৎসা আর টিকাই প্রধান ভরসা। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা ভালো। তাকে প্রচুর পানি ও তরল খাবার দিতে হবে, আর চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়ম মেনে খাওয়াতে হবে। স্কুল বা খেলার সঙ্গীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও এতে কমে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক হিসাবে এখন পর্যন্ত যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে সামনের দিনগুলোতেও সতর্ক থাকতে হবে।












