দেশে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আটটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে জরুরি চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের জন্য বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্পেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৪তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনা হবে
বৈঠকে দেশের জরুরি গ্যাস চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুটি করে মোট আটটি এলএনজি কার্গো কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, অস্ট্রেলিয়ার গ্লোবাল ফুয়েল সাপ্লাইজ প্রাইভেট লিমিটেড, মালয়েশিয়ার প্লেনটিটিউড এনার্জি এসডিএন বিএইচডি এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
বৈঠকে জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি কেনার প্রস্তাব আনা হয়, যাতে দেশে গ্যাস সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
জরুরি চাহিদায় এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রয় পদ্ধতিতে স্পিড মার্কেটিং করপোরেশনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন (প্রায় পাঁচ শতাংশ কমবেশি) এলপিজি কেনার নীতিগত অনুমোদনও দেয়।
সৌদি আরামকোর নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ৯৭ মার্কিন ডলার যোগ করে এই গ্যাস কেনা হবে। এতে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ প্রোপেন এবং ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বিউটেন থাকবে।
সরকারের আশা, এই এলপিজি জরুরি চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে, বাজারে সরকারের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে।
দুই শতাধিক বৈদ্যুতিক বাস কেনার পরিকল্পনা
পরিবহন খাতেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের জন্য প্রায় ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনা, নারীদের জন্য বিশেষ বাস অন্তর্ভুক্ত করা, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার
অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি ২০২৬ (সমতল অঞ্চল)’–এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে নেওয়া এসব সিদ্ধান্তকে সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।












