খোয়াই নদীর পানি বেড়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে দ্বিতীয় দফায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রোববার বিকেলে বাঁধের ভাঙন দেখা দেয়।
উজান থেকে ভারতের পানি আসায় খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় কালিগঞ্জ এলাকায় বাঁধটি ভেঙে যায়। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লস্করপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছে পরিবার
বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবনের কারণে বসতবাড়ির পাশাপাশি কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে প্রায় ১২৫ হেক্টর জমির দাঁড়িয়ে থাকা আউশ ধান, ৯৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ২২ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৫ হেক্টর জমির সবজি তলিয়ে গেছে। ফলে চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাঁধ মেরামতে ৮৮ লাখ টাকার কাজ
সর্বশেষ যে স্থানে বাঁধটি ভেঙেছে, একই স্থানে গত ৯ জুলাইও ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি মেরামতে ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করছে। সর্বশেষ ভাঙনের আগে এ কাজে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রোববার সকালে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁধ মেরামতের কাজ দেখেন। এ সময় তিনি কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মেরামতের স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ জানান।
ত্রাণ হিসেবে ১০ টন চাল বরাদ্দ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিকেলে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে নদীর পানি ও বন্যার প্রভাবে এলাকার ঘরবাড়ি এবং কৃষিজমিতে এখনো পানি জমে থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।
খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি, আর আউশ-আমন ধান, বীজতলা ও সবজিসহ কয়েক শ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। প্লাবিত হয়েছে ফসলের জমি ও বসতবাড়ি।












