কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিনটি আবাসিক হলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় ঘুম ও পড়াশোনায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি পানির সংকট, খাবার প্রস্তুত এবং মোবাইল ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের।
বিদ্যুৎহীন থাকা হল তিনটি হলো—বেগম খালেদা জিয়া হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং শাহ আজিজুর রহমান হল।
শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এসব হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ এই সময়ে তীব্র গরমে হলে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দৈনন্দিন কাজেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের।
বিশেষ করে যারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের ভোগান্তি ছিল আরও বেশি। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো ঘুমানো এবং পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
শাহ আজিজুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান ফয়সাল বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা খুবই কষ্টকর। যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, তাদের সমস্যাটা আরও বেশি। একটি আবাসিক হল ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়া থাকবে—এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না।
বেগম খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী নাদিয়া ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নোটিশ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিষয়টির জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বন্ধ না হয়ে শুক্রবার সকাল থেকে তিনটি হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সমস্যাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসিক চলাকালে এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পানি ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় কীভাবে তারা পরিস্থিতি সামাল দেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর আগে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়ে একটি নোটিশ দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে সেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়নি। এর পরিবর্তে শুক্রবার সকাল থেকে তিনটি আবাসিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক জানান, উপকেন্দ্রে সংস্কারকাজ চলার সময় বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, শুক্রবার রাতের মধ্যে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেনারেটর লাইনের মাধ্যমে হলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করে।
তবে সেই প্রচেষ্টাতেও বাধা তৈরি হয়। আবদুল মালেক জানান, হলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করাও সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হলে তিনটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান হয়। তবে প্রায় ৩০ ঘণ্টার এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আবাসিক হলগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আবারও সামনে এসেছে।












