বিখ্যাত ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান ম্যাকলমোরকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নিজের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায়, বিপর্যয়কর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টে প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন শিরান। এর আগে চলতি সপ্তাহে র্যাপার ম্যাকলমোরকে তার কনসার্ট সফরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
কনসার্টের শুরুতেই শিরান ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার কথা উল্লেখ করেন। হামাসের ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। তবে এরপর গাজায় ইসরায়েলের চালানো যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
শিরানের ভাষায়, গাজায় ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক অভিযান ‘বিপর্যয়কর, অন্যায় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’। এই যুদ্ধে হাজারো ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পপ তারকা। সেখানে ইসরায়েলের ডানপন্থী জোট সরকারের অধীনে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ‘পদ্ধতিগত অবিচার’-এর কথা বলেন।
নিজের ভূমিকা নিয়ে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেখতে চাননি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্বের অন্যতম জটিল রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝখানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, আবার ভুলও করেছি। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
শিরানের এই বক্তব্য চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া তার অবস্থান থেকে স্পষ্টতই ভিন্ন। তখন ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, তার কনসার্টে আসা দর্শকেরা কোনো ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ প্রত্যাশা করেন না।
কীভাবে শুরু হয় বিতর্ক
ম্যাকলমোর ইনস্টাগ্রামে দাবি করেছিলেন, নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফট তাকে শিরানের সফরের অংশ হিসেবে ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামে পারফর্ম করতে না দেওয়ার বিষয়ে শিরানকে চাপ দিয়েছিলেন।
আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ওই স্টেডিয়ামে শিরানের কনসার্ট হওয়ার কথা রয়েছে।
ম্যাকলমোরের দাবি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলার পর ক্রাফটসহ কয়েকটি স্টেডিয়ামের মালিক শিরানকে জানান, ম্যাকলমোর সফরে থাকলে তাদের ভেন্যুতে অনুষ্ঠান করা যাবে না।
এরপর সফরের অন্য কয়েকজন সহযোগী শিল্পী ম্যাকলমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরে দাঁড়ান।
স্টেডিয়াম মালিকদের দাবির কাছে শেষ পর্যন্ত ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেন শিরান। তবে শনিবারের কনসার্টে তিনি জানান, সংগীতশিল্পীদের বক্তব্য ও পরিবেশনা নিয়ে কনসার্ট ভেন্যুগুলোর এমন যাচাই-বাছাই নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
শিরান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তিনি এমন পরিস্থিতি দেখেছেন। কিন্তু ‘মুক্ত বিশ্বে’ এমনটা কখনোই হওয়া উচিত নয়।
কনসার্টের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ
এদিকে শিরানের ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টকে ঘিরে বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে জড়ো হন।
বিক্ষোভকারীরা গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কাজ করা স্থানীয় সংগঠনগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
ম্যাকলমোরকে ঘিরে বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত শুধু একজন শিল্পীকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা হিসেবে থাকেনি। এটি শিল্পীদের রাজনৈতিক বক্তব্য, কনসার্টের মঞ্চে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।












