পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো এমন এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে, যেখানে বহুদিনের প্রতিষ্ঠিত মিত্রতা ও নির্ভরতার পাশাপাশি নতুন কৌশলগত জোটের সন্ধানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে ঘোষিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ তাই শুধু তিন দেশের সামরিক সহযোগিতার একটি ব্যবস্থা নয়। এর তাৎপর্য আরও বিস্তৃত। এটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতি ক্রমহ্রাসমান আস্থা, পাকিস্তানের পশ্চিমমুখী কৌশল এবং পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার সামনে নতুন জটিলতার প্রতিফলন।
ইরান সংঘাত দ্রুত থামাতে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তার সীমাবদ্ধতা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ওয়াশিংটন পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি উদ্যোগকে মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তার দায় ভাগাভাগির ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারে। কিন্তু একই ঘটনার অন্য অর্থও রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে আঞ্চলিক শক্তিগুলো বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তিন দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বিবেচনায় এই উদ্যোগের একটি স্পষ্ট কৌশলগত যুক্তি রয়েছে। পাকিস্তানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র, তুরস্কের রয়েছে দ্রুত বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্প, আর সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্য। এই তিন উপাদানের সমন্বয় কাগজে-কলমে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্ব তার ঘোষণায় নয়, শেষ পর্যন্ত তার কার্যকারিতায় নির্ধারিত হয়। মক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি সেখানেই। তিন দেশ কি যৌথ কমান্ড কাঠামো গড়ে তুলবে? সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগাভাগি কত দূর এগোবে? মিসরের মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আরব রাষ্ট্র কি ভবিষ্যতে এতে যুক্ত হবে? সুদান বা ইয়েমেনের মতো সংঘাতপূর্ণ ক্ষেত্রে এই জোট আদৌ কোনো ভূমিকা নেবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই এর প্রকৃত কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ করবে।
এক জোট, তিন ভিন্ন প্রতিপক্ষ
চুক্তিটিকে ইতোমধ্যে কেউ কেউ ‘সুন্নি ন্যাটো’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর পেছনে রয়েছে ‘সমষ্টিগত নিরাপত্তা’ ও যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘সমষ্টিগত প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার ঘোষণা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ধারণাগত ভিত্তির সঙ্গে ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের মিল রয়েছে।
কিন্তু এখানেই জোটটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও দৃশ্যমান। ন্যাটোর সদস্যরা অন্তত একটি অভিন্ন নিরাপত্তা ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সেই অভিন্নতা অনেক কম।
পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ ভারতকে কেন্দ্র করে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা হিসাবের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে ইরান। অন্যদিকে তুরস্কের কাছে ইসরায়েল ক্রমেই বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে এক দেশের কাছে যে রাষ্ট্র প্রধান প্রতিপক্ষ, অন্য সদস্যের কাছে সেটিই হয়তো সহযোগিতার ক্ষেত্র অথবা এমন একটি শক্তি, যার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর কোনো আগ্রহ নেই।
এই বৈপরীত্য সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সংহতি—দুই ক্ষেত্রেই সীমা তৈরি করবে।
আরও জটিল প্রশ্ন পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঘিরে। ইসলামাবাদ কি সৌদি আরব বা তুরস্কের জন্য কার্যত সম্প্রসারিত পারমাণবিক প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত? ইরান সংঘাতের সময় পাকিস্তান-সৌদি কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সীমিত ভূমিকা এ প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে। পাকিস্তান একদিকে ইরান সংকটে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হওয়ার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ থাকা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করবে—এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ হবে না।
পাকিস্তানের পশ্চিমমুখী কৌশল
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এই জোটের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হচ্ছে।
একসময় ভারতের বিরুদ্ধে নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়াতে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে ‘কৌশলগত গভীরতা’র ধারণা অনুসরণ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের পশ্চিমমুখী কূটনীতির মধ্যে একই ধরনের একটি বৃহত্তর কৌশলগত উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে। ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা, বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়া, গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সর্বশেষ তুরস্ক-সৌদি আরবের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে পাকিস্তান তার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিসর পশ্চিম দিকে সম্প্রসারণ করছে।
তবে বৈশ্বিক ভূমিকার এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পাকিস্তানের নিজস্ব আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের একটি স্পষ্ট টানাপোড়েন রয়েছে। ফলে মক্কা চুক্তি সত্যিই দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে, নাকি স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার বাগদাদ চুক্তি কিংবা সেন্টোর মতো শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব হারাবে—তা এখনই নিশ্চিত নয়।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে কী করবে রিয়াদ ও আঙ্কারা
ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সৌদি আরব ও তুরস্কের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাদের কেউই সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে—এমন সম্ভাবনা সীমিত। কিন্তু সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াও একটি জোটের প্রভাব বিস্তারের অনেক পথ রয়েছে।
সৌদি আরব ইসলামাবাদকে আরও দৃঢ় কূটনৈতিক সমর্থন দিতে পারে। তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে আঙ্কারা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতে পাকিস্তান তুরস্কে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে। কাশ্মীর প্রশ্নেও তুরস্ক দীর্ঘদিন পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সময়ে সৌদি আরব বারবার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ ফেরত চাওয়ার পরও রিয়াদ ইসলামাবাদকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে। ফলে এই সম্পর্ক শুধু সামরিক নয়; অর্থনীতি, কূটনীতি ও নিরাপত্তা—তিনটি ক্ষেত্রেই বিস্তৃত।
ভারতের জন্য আরেকটি উদ্বেগ হলো, এই ত্রিপক্ষীয় কাঠামো ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সমন্বয়ের ভিত্তি তৈরি করে কি না। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-পাকিস্তান-তুরস্ক ঘনিষ্ঠতার কথাও ইতোমধ্যে আলোচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় আঙ্কারা-ইসলামাবাদের গভীর সামরিক সম্পর্ক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও নতুন জটিলতা যোগ করতে পারে।
দুই অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একে অন্যকে প্রভাবিত করছে
ভারত একই সময়ে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছে। অথচ আবুধাবি ও রিয়াদের সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে চাপ বেড়েছে। ওপেকের উৎপাদন কোটা নিয়ে মতবিরোধের ধারাবাহিকতায় এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত জোটটি ছেড়ে দেয়।
ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো আর আলাদা দুটি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে থাকছে না। ভারত-পাকিস্তান প্রতিযোগিতা পশ্চিম এশিয়ার বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, আবার পশ্চিম এশিয়ার শক্তির পুনর্বিন্যাস দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত হিসাবকে প্রভাবিত করছে। একটি অঞ্চল অন্যটির উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেওয়ার মতো প্রতিক্রিয়ার চক্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিবর্তন ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে পশ্চিম এশিয়ায় নয়াদিল্লির নীতির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আঞ্চলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। ভারত-ইসরায়েল-সংযুক্ত আরব আমিরাত-যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইটু ইউটু’ এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর তার দুটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উভয় উদ্যোগের রাজনৈতিক ভিত্তির সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর মার্কিন পরিকল্পনার যোগ রয়েছে।
কিন্তু সেই স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার গতি কমলে এবং যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর আঞ্চলিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল হলে ভারতের কৌশলগত হিসাবও বদলাতে বাধ্য হবে। যে কাঠামোর ওপর নয়াদিল্লি তার পশ্চিম এশিয়া নীতির একটি অংশ নির্মাণ করেছে, সেটিই যদি পরিবর্তিত হয়, তাহলে পুরোনো ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাস্তবতা মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
ব্রিকসের ভেতরেও একই দ্বন্দ্ব
এই ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস এমন সময়ে ঘটছে, যখন ভারত চলতি মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছে। জি২০ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন—বিভিন্ন মঞ্চে নয়াদিল্লি নিজেকে বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরেছে। এবারের ব্রিকস সম্মেলনের মূলমন্ত্রও ‘মানবতা সবার আগে’।
কিন্তু অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক সহযোগিতার এই ধারণা বাস্তবে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ছে। ব্রিকসের সদস্য ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যেই যদি গুরুতর কৌশলগত মতপার্থক্য থাকে, তাহলে বৃহৎ বহুপক্ষীয় জোটের পক্ষে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণেই পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের মতো ছোট, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যভিত্তিক জোটগুলো ভবিষ্যতে বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মতো পুরোনো ও বিস্তৃত প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা যখন এক কণ্ঠে কথা বলতে সমস্যায় পড়ে, তখন স্বল্পসংখ্যক রাষ্ট্রের স্বার্থভিত্তিক জোট দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়।
ভারতের সামনে নতুন হিসাব
যুক্তরাষ্ট্র একসময় যে ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ গড়ে তোলার কথা বলেছিল, সেই ধারণা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত। আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদার খুঁজছে, পুরোনো মিত্রতার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
ভারতের জন্য তাই প্রশ্নটি শুধু পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি চুক্তির তাৎক্ষণিক সামরিক প্রভাব নিয়ে নয়। বড় প্রশ্ন হলো, নয়াদিল্লি এমন একটি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আগের মতো নিরঙ্কুশ নয়, ইসরায়েল-আরব স্বাভাবিকীকরণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট নিরাপত্তা জোট তৈরি করছে।
ভারত এতদিন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বের দাবি—এই বিভিন্ন স্তরকে পাশাপাশি পরিচালনা করেছে। নতুন বাস্তবতায় এই ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হবে।
পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি টিকে থাকবে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, এই চুক্তি যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও খণ্ডিত, বহুমুখী এবং স্বার্থনির্ভর হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়াও আর সেই পরিবর্তনের বাইরে নেই। এই দুই অঞ্চলের ভূরাজনীতি যত বেশি পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে, ভারতের জন্য তার পশ্চিমমুখী কৌশলকে নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন ততই বাড়বে।












