বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মীদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে ছাদে প্রতিফলক রং করা, ছাদে তাপরোধী ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো উদ্যোগে বিনিয়োগ করলে চার বছরের মধ্যেই সেই অর্থ উঠে আসতে পারে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাটি বলছে, গরম কমানোর এসব ব্যবস্থা শুধু শ্রমিকদের আরাম ও নিরাপত্তা বাড়ায় না, কারখানার জন্যও তা আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে। অর্থাৎ কর্মপরিবেশ ঠান্ডা রাখতে যে অর্থ ব্যয় করা হবে, তা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত খরচ না হয়ে বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রচণ্ড গরমের কারণে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহ বাড়তে থাকায় কারখানার ভেতরের কর্মপরিবেশও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গবেষণায় যেসব ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভবনের ছাদে এমন রং ব্যবহার করা, যা সূর্যের তাপ বেশি প্রতিফলিত করে; ছাদে তাপরোধী স্তর যুক্ত করা এবং কারখানার ভেতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা উন্নত করা। তুলনামূলকভাবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং এর সুফলও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
গবেষকদের মতে, শ্রমিকদের জন্য ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি হলে শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে না, উৎপাদনশীলতাও বাড়তে পারে। ফলে কারখানার মালিকদের জন্যও এর অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে গবেষণায় একই সঙ্গে পোশাকের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলো যাতে শ্রমিকদের জন্য তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে পারে, সে জন্য ব্র্যান্ডগুলোকে সরবরাহকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
গবেষকদের মতে, উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে এসব পরিবেশবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও সেই ব্যয়ের একটি অংশ বহন করা উচিত। সরবরাহকারীদের পণ্যের দাম নির্ধারণে কিছুটা সুবিধা দিলে তারা কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে আরও উৎসাহিত হবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস। তাই এই খাতে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার ফল বলছে, গরম কমানোর উদ্যোগকে শুধু শ্রমিক কল্যাণের ব্যয় হিসেবে না দেখে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পকারখানায় তাপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে কম খরচে বাস্তবায়নযোগ্য এসব ব্যবস্থা বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর জন্য একই সঙ্গে শ্রমিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করতে পারে।












