ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনকে ঘিরে দুই নেতার এই বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রোববার দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হওয়ার পর জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিউইয়র্কে তাদের বৈঠক হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই বৈঠক অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে এবং ইউক্রেন ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতায় গতি তৈরি হয়েছে।
ফোনালাপে ইউক্রেন সফরে আসতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বিষয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এখনো কিয়েভের প্রধান অগ্রাধিকার।
দুই নেতা উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন। এর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে ইউক্রেন ‘গুরুতর পদক্ষেপ’ নিতেও প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতামূলক তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই ট্রাম্প ও জেলেনস্কির এই বৈঠকের ঘোষণা এলো। তবে একই সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের কাছে তাই নিউইয়র্কের বৈঠকটি শুধু দুই নেতার আরেকটি সাক্ষাৎ নয়; বরং যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা এগিয়ে নেওয়া যায়, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দুই পক্ষের আলোচনায় উত্তেজনা কমানো, নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে অগ্রগতি হয় কি না, সেটিই এখন নজরের কেন্দ্রে।








