বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ছয়জন মারা গেছেন, তাদের সবাই রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার মৃত্যুর হিসাব এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ১ হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৩৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬২৭ জনে পৌঁছেছে।
নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে থাকায় দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, দুর্বলতা ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগীর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চলতি বছরের হিসাব বলছে, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ৬৩ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং ১৯০ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির ব্যাপকতা স্পষ্ট করছে। সামনে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নজরদারি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।












