হবিগঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হচ্ছে। মৌলভীবাজারের পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বছরখানেক ধরে চলা বিরোধ মেটাতে না পারায় এই কর্মসূচি দিয়েছে হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। এতে জেলার ভেতরের ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকার কথা।
বিরোধের শুরু যেভাবে
দুই জেলার মধ্যে যৌথ রুটে বাস চালানো নিয়ে বিরোধ চলছে প্রায় এক বছর। হবিগঞ্জের মালিকদের অভিযোগ, মৌলভীবাজারের মালিকেরা বারবার তাঁদের বাস আটকে দিচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটক করা হয়। সেগুলো এখনো ছাড়া হয়নি। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকানো হয়েছিল, পরে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকেই হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৈঠক হয়েছে, সমাধান আসেনি
বিরোধ মেটাতে কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১২ জুন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছের সভাপতিত্বে দুই পক্ষের বৈঠক হয়। ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমের উপস্থিতিতে আরেক দফা আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম রিপনও বিভিন্ন সময় আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বাস আবার চলতে শুরু করার পরই উত্তেজনা ফিরে আসে।
যাত্রীদের ভোগান্তি
ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি ভুগবেন হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট পথের যাত্রীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে এই পথের অনেক যাত্রী বাড়তি ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ছোট যানে চলাচল করছেন। এতে খরচ বাড়ছে, সময়ও লাগছে বেশি, ঝুঁকিও বাড়ছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে জেলার ভেতরের যাতায়াতও কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।
দুর্গাপূজার আগে এই ধর্মঘট দীর্ঘ হলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। আটক তিনটি বাস ছাড়ানো নিয়েই এখন আলোচনার গতি নির্ভর করছে।












