মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়ায় বিশ্ববাজারে ডলারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার লেনদেনে ডলার প্রায় দুই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও মার্কিন বন্ডের সুদহার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন মূল্যস্ফীতি ও ফেডের সুদহার
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম বেড়েছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির পূর্ববর্তী হিসাবও নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। এসব তথ্যের পর চলতি অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কিছুটা কমেছে।

তবে ইউরো অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ডের বাজারে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতন দেখা যায়। সরকারি অর্থব্যবস্থার অবনতি, বিপুল পরিমাণ নতুন বন্ড ইস্যু এবং মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ—সব মিলিয়ে বন্ডের সুদহার বেড়েছে।
১০ ও ৩০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বুধবার রাতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। স্বল্পমেয়াদি বন্ডের সুদহারে অবশ্য ফেডের চলতি মাসের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধি নিয়ে প্রত্যাশা কমে যাওয়ার কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
ইউরো ও পাউন্ডে চাপ
ডলারের বিপরীতে ইউরো এশিয়ার প্রথম দিকের লেনদেনে সামান্য কমে ১ দশমিক ১৩৩০ ডলারে নেমে আসে। সেপ্টেম্বরে ইউরোর দর প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। ইউরোপের ঋণ পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ ইউরোর ওপর চাপ তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ পাউন্ড ছিল প্রায় অপরিবর্তিত, দর ছিল ১ দশমিক ৩২৬৪ ডলার। সেপ্টেম্বরে পাউন্ডের দর কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।

ডলার সূচক, যা কয়েকটি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন মুদ্রার শক্তি পরিমাপ করে, সেপ্টেম্বরে প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে এবং বৃহস্পতিবার ১০১ দশমিক ৪৮-এর কাছাকাছি ছিল।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য ফেডের ধারাবাহিকভাবে সুদহার বাড়ানোর প্রত্যাশা কিছুটা কমানোর সুযোগ দিয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে আর সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তার মতে, এই মুহূর্তে ডলারের গতিপথ ফেডের পরবর্তী সুদহার সিদ্ধান্তের চেয়ে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহারের পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
ইয়েনেও সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১৫৭ দশমিক ৮২-তে নেমেছে। তবে সেপ্টেম্বরে ইয়েন প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছিল। বাজারে জাপানি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য মুদ্রাবাজার হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ইয়েনকে কিছুটা সমর্থন দিচ্ছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মতামতের সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদহার বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করা বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যের কাছাকাছি সময়ে সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখেছেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলার ০ দশমিক ৬৯৪০ ডলারে নেমে দুই মাসের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। দেশটির মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য কম হওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক দফা সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এসেছে। নিউজিল্যান্ডের ডলারও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি ছিল এবং সর্বশেষ ০ দশমিক ৫৬৩৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
ডলার, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির পারস্পরিক প্রভাবই এখন বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।












