ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বাংলাভাষী মুসলিমদের আটক ও বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ বাড়ছে। জুন থেকে এ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ অন্তত ১৭ জন মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক করেছে। পরিবারগুলোর অভিযোগ, নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ না দিয়েই তাদের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরা স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়ার দাবি তুলছেন।
সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা উত্তর দিনাজপুর জেলার ৪৩ বছর বয়সী এক মাছ ব্যবসায়ীর। পরিবারের দাবি, তার ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভোটার পরিচয়পত্র আছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। তবু তাকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে আবেদন করেছে। আরেক ঘটনায় দাবলু শেখ ও তার তিন ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর পুলিশ জানায়, তাদের ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে। তাদের দুজনের নাম রাজ্যের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ছিল।
মে মাসে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, সন্দেহভাজন ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আদালতে না তুলে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে ফেরত পাঠানোর জন্য। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হিন্দু অভিবাসীরা এর আওতায় পড়বেন না বলেও জানান তিনি। রাজ্য সরকার অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বলছে, সরকারি নির্দেশনা ও নির্বাহী আদেশ মেনেই আটক করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি সরাসরি সীমান্ত ও কূটনীতির প্রশ্ন। কাউকে বাংলাদেশি দাবি করে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো হলে তার পরিচয় যাচাইয়ের দায় বাংলাদেশের ঘাড়েও এসে পড়ে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে পুশ-ইনের ঘটনা নিয়ে দেশে উদ্বেগ বেড়েছে। গত বছর গুজরাট, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, ওডিশা ও মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে হাজারো বাংলাভাষী মানুষকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। সম্প্রতি ছত্তিশগড়ে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক পশ্চিমবঙ্গের ১৯ শ্রমিক নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর ছাড়া পান।
মাসুম বলছে, নাগরিকত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে তা প্রশাসনিক ঘোষণা দিয়ে নয়, স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাইয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক যত বাড়বে, সীমান্তের দুই পাশেই মানবিক ও কূটনৈতিক চাপ তত বাড়বে।











