আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিল করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কিন্তু একই সময়ে সরকারি নথি, আইএমএফের প্রকাশ্য বিবৃতি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলছে, বাস্তব চিত্রটি এতটা সরল নয়। বাংলাদেশ গত জুনেই আইএমএফের কাছে নতুন একটি অর্থায়ন কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে। জুলাইয়ে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সেই নতুন কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে গেছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি সত্যিই আইএমএফের ঋণ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছে, নাকি পুরোনো কর্মসূচির কঠিন শর্তগুলো এড়িয়ে নতুন শর্তে নতুন ঋণ নিতে চাইছে?
বাস্তবতা বলছে, দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই বেশি শক্তিশালী।
‘পুরোনো ঋণ-কর্মসূচি বাতিল’ আর ‘নতুন কর্মসূচি’—দুটি বিষয় আলাদা

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে তিনটি ব্যবস্থার আওতায় অর্থায়ন পেয়েছিল—বর্ধিত ঋণ সুবিধা, বর্ধিত তহবিল সুবিধা এবং জলবায়ু-সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক অর্থায়ন। পরে ২০২৫ সালে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে মূল ঋণ সহায়তা প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত সহায়তা প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। সব মিলিয়ে কর্মসূচির আকার দাঁড়ায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
এই কর্মসূচি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আইএমএফ দেয়নি। বরং ২০২৬ সালের ৩ জুন আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশ নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে এবং আগের কর্মসূচির পরিবর্তে সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। আইএমএফ আরও স্পষ্ট করেছে, নতুন কর্মসূচি হলে সেটি বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থপ্রদানের প্রয়োজন, বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কর্মসূচি এবং আইএমএফের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে।
আইএমএফের জুনের ব্রিফিংয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে আসে: নতুন কর্মসূচি নিয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ে সমঝোতা হলে সেটি নির্বাহী বোর্ডে যাবে এবং তখন আগের কর্মসূচি বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘোষণা আর আইএমএফের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে এখনও একটি ব্যবধান আছে।
কেন বাংলাদেশ নতুন কর্মসূচি চাইছে?
বাংলাদেশের সমস্যা এখন শুধু বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি নয়। রাজস্ব আদায় দুর্বল, ব্যাংক খাত বড় ধরনের মূলধন সংকটে রয়েছে, মূল্যস্ফীতি উচ্চ, ভর্তুকির চাপ রয়েছে এবং সরকারের আর্থিক জায়গা সীমিত।
আইএমএফের ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়, ব্যাংক খাত, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং মূল্যস্ফীতি—সবগুলো ক্ষেত্রেই ঝুঁকি রয়ে গেছে।
জুলাইয়ে আইএমএফের দল ঢাকায় এসে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে উল্লেখ করে। সংস্থাটির মতে, উচ্চ বৈশ্বিক পণ্যমূল্য ও সরবরাহের সমস্যা মূল্যস্ফীতি এবং ভর্তুকির ব্যয় বাড়িয়েছে। ব্যাংক খাতের চাপও রয়ে গেছে। সংস্কার না হলে ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং মধ্যমেয়াদে তা ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ আইএমএফকে ছেড়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে নেই—এটাই মূল বাস্তবতা।
তাহলে আপত্তি কোথায়?
বাংলাদেশের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু মূলত সংস্কারের গতি ও সামাজিক ব্যয়।

আইএমএফের প্রত্যাশিত সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো—রাজস্ব আদায় বাড়ানো, জ্বালানি ও অন্যান্য ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানো, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, বিনিময় হার ব্যবস্থাকে আরও বাজারভিত্তিক করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর্থিক ও মুদ্রানীতি বজায় রাখা।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জায়গা হলো ভর্তুকি ও কর।
আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভর্তুকি কমানো না গেলে সরকারের সীমিত আর্থিক সম্পদ সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ব্যয় ও অবকাঠামোতে ব্যবহার করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে দুর্বল রাজস্ব আদায় সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু বাস্তবে কর বাড়ানো কিংবা জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য আরও সমন্বয় করা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। ফলে অর্থনৈতিক যুক্তি এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে এখানেই সবচেয়ে বড় সংঘাত।
সবচেয়ে বড় সমস্যা ব্যাংক খাতে
আইএমএফের শর্ত নিয়ে বিতর্কে কর ও ভর্তুকির কথা বেশি শোনা গেলেও বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত আরও বড় ঝুঁকি ব্যাংক খাত।
আইএমএফের ২০২৬ সালের দেশভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন কৌশল প্রয়োজন। বড় ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান যাচাই, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন বা প্রয়োজনে সমাধান, ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের জুনের হিসাব আরও কঠিন চিত্র তুলে ধরে। তাদের মতে, মার্চ ২০২৬ শেষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে উঠেছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
এ কারণেই বিশ্বব্যাংক ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। অর্থাৎ ব্যাংক খাত সংস্কার শুধু আইএমএফের দাবি নয়; আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছেও এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা।
অর্থমন্ত্রীর ‘নিজের পায়ে দাঁড়ানোর’ পরিকল্পনা কতটা বাস্তব?
অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার, বন্ড, ইকুইটি ও সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের কথা বলেছেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের নিজস্ব গবেষণাতেও গভীর পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে সঞ্চয় প্রবাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হয়েছে।
কিন্তু এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে।
আইএমএফের অর্থায়ন মূলত বৈদেশিক লেনদেন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার নিরাপত্তা জোগায়; আন্তর্জাতিক বন্ড বা ইকুইটি বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ হলো বাজারভিত্তিক বাণিজ্যিক অর্থায়ন।
দুটি একে অপরের সরাসরি বিকল্প নয়।
বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার ধার করতে চায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা দেশের মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য দেখবে। ফলে আইএমএফের মতো বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কর্মসূচি থাকা বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়াতে পারে।
অর্থাৎ আইএমএফ থেকে দূরে গিয়ে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবে আইএমএফের সংস্কার এড়িয়ে যাওয়ার সহজ বিকল্প নয়।
পুরোনো কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তিই এখন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
বাংলাদেশের সামনে আরেকটি তাৎক্ষণিক প্রশ্ন হলো আগের কর্মসূচির বকেয়া অর্থ।

আইএমএফের ২০২৫ সালের কর্মসূচির কাঠামো অনুযায়ী ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যালোচনার সঙ্গে অর্থ ছাড়ের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে আগেই ঘাটতি দেখা দিয়েছিল—বিশেষ করে রাজস্ব আদায় এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারে।
আইএমএফের ২০২৬ সালের পর্যালোচনাতেও বলা হয়েছে, আগের কর্মসূচির অধীনে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বড় ব্যবধানে পূরণ হয়নি এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের উচ্চপর্যায়ের কৌশল তখনও অসম্পূর্ণ ছিল।
তাই এখন ঢাকায় আইএমএফের পরবর্তী আলোচনা শুধু নতুন ঋণের দর-কষাকষি নয়। পুরোনো কর্মসূচির বকেয়া প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আসল দর-কষাকষি হবে ‘কত টাকা’ নয়, ‘কত দ্রুত সংস্কার’
এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি রয়েছে।
বাংলাদেশ নতুন কর্মসূচি চেয়েছে—এটি আইএমএফ নিশ্চিত করেছে। কিন্তু নতুন কর্মসূচির আকার, মেয়াদ এবং শর্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জুলাইয়ের সফর ছিল মূলত পরিস্থিতি যাচাই ও নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রাথমিক পর্যায়; আইএমএফ নিজেই বলেছে, নতুন ব্যবস্থার আকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরবর্তী মাসগুলোতে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ চায় সংস্কার ধাপে ধাপে করতে, যাতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর আকস্মিক চাপ না পড়ে। আইএমএফ চায় এমন সংস্কার, যার মাধ্যমে দ্রুত রাজস্ব বাড়বে, ভর্তুকির চাপ কমবে, ব্যাংক খাতের ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে এবং বৈদেশিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
সুতরাং সংঘাতটি আসলে ‘আইএমএফ বনাম বাংলাদেশ’ নয়।
সংঘাতটি হলো—বাংলাদেশ কত দ্রুত এবং কত গভীরভাবে সেই সংস্কারগুলো করবে, যেগুলো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা কাটাতে প্রয়োজন হলেও স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যয় তৈরি করতে পারে।
সামনে কী হতে পারে?
আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে তিনটি সম্ভাবনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, বাংলাদেশ পুরোনো কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে নতুন আইএমএফ কর্মসূচিতে যেতে পারে। এতে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত করে শর্ত পুনর্বিন্যাসের সুযোগ থাকবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ কঠিন কিছু শর্তের বাস্তবায়ন ধীর করার চেষ্টা করতে পারে। এতে নতুন অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তৃতীয়ত, সরকার আন্তর্জাতিক বন্ড ও পুঁজিবাজারে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আইএমএফের সঙ্গে কোনো না কোনো সংস্কারভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। বাস্তব অর্থনীতির বিচারে এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য সমন্বিত পথ বলে মনে হয়।
কারণ বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু ঋণ নেওয়ার প্রশ্ন নেই। সামনে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, রাজস্ব বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন।
১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এই সময়ে বাংলাদেশের নতুন কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ‘আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল’ বক্তব্যকে তাই সরাসরি আইএমএফ থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছেদ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ আইএমএফের টাকা চায় না—এমন নয়; বাংলাদেশ মূলত আইএমএফের পুরোনো শর্তে, পুরোনো কাঠামোয় এবং পুরোনো শর্ত, কাঠামো ও সময়সূচি অনুযায়ী এগোতে চাইছে না।
আর আইএমএফের অবস্থানও ঋণ বন্ধ করে দেওয়ার নয়। সংস্থাটি বলছে, নতুন কর্মসূচি সম্ভব—কিন্তু তার ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থপ্রদানের প্রয়োজন, বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
তাই সামনে যে দর-কষাকষি হবে, তার আসল প্রশ্ন হবে না ‘আইএমএফের টাকা নেবে কি না’। আসল প্রশ্ন হবে—কত টাকা, কত সময়ের জন্য, কী শর্তে এবং সেই শর্ত বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্য কতটা গ্রহণ করবে বাংলাদেশ।
সেখানেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের পরবর্তী আইএমএফ অধ্যায়।












