কম দামের স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে খবরটি আপনার জন্য। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরির দৌড় সস্তা ফোনের বাজারকে চাপে ফেলেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড ৫ অক্টোবর এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের হিসাবে, ২০২৬ সালে বাজারে থাকা স্মার্টফোনের দাম বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। নতুন বাজারে আসা মডেলের দাম আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
সংকটের মূলে মেমোরি চিপ। এই বাজারের ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে এই তিন প্রতিষ্ঠান সরবরাহের বড় অংশ এআই ডেটা সেন্টারের দিকে সরিয়ে নেয়। কারণ সেখানে লাভ বেশি। ফলে ফোন নির্মাতাদের জন্য চিপ কমেছে, দাম বেড়েছে। মার্কিন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ব্যয় ২০২৭ সালে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের অনুমান। ২০২৫ সালে এই ব্যয় ছিল ৪৭ হাজার কোটি ডলার।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে একেবারে কম দামের ফোনে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ১০০ ডলারের কম দামের ১৭ কোটি ৩০ লাখ ফোন বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই শ্রেণির চালান আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। প্রতিবেশী ভারতে স্মার্টফোনের দাম বেড়েছে ২১ শতাংশ, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৯ শতাংশ। শাওমির একটি জনপ্রিয় কম দামের মডেল ভারতে গত ডিসেম্বরে ১২ হাজার ৪৯৯ রুপিতে বাজারে আসে। জুনে তার দাম দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৯৯৯ রুপি, অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অপোর ১০০ ডলারের কম দামের ফোনের চালান ৯৬ শতাংশ কমেছে। আফ্রিকায় গত বছর বিক্রি হওয়া ফোনের ৮১ শতাংশের দাম ছিল ২০০ ডলারের কম, সেখানেও কম দামের ফোনের চালান কমেছে।
বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এর তাৎপর্য বড়। এ দেশে বহু মানুষের প্রথম ইন্টারনেট সংযোগ আসে কম দামের স্মার্টফোনে। মোবাইলে আর্থিক লেনদেন, অনলাইন ক্লাস বা সরকারি সেবার জন্যও এখন স্মার্টফোন জরুরি। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ স্মার্টফোন সরবরাহ করে চীনা নির্মাতারা। তারা এখন কম দামের মডেলে বিনিয়োগ কমিয়ে দামি ফোনের দিকে ঝুঁকছে। মোবাইল শিল্পের সংগঠন জিএসএমএর হিসাবে, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষের মাসিক আয়ের ৪৪ শতাংশ লাগে একটি সাধারণ স্মার্টফোন কিনতে। সংগঠনটি ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৮০ কোটি মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটে যুক্ত হবে বলে আশা করেছিল। খরচ বাড়লে সেই লক্ষ্য ঝুঁকিতে পড়বে বলে এখন সতর্ক করছে তারা।
কাউন্টারপয়েন্টের বিশ্লেষক আইভান ল্যাম মনে করেন, আগে যে ফোন ১৫০ ডলারের নিচে মিলত, তা ২৫০ বা ৩০০ ডলারের নিচে চলে যেতে পারে। দাম আগের জায়গায় ফেরার আশাও তিনি দেখছেন না। তাই যাঁরা নতুন ফোন কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য পুরোনো মজুতের মডেল বা ভালো অবস্থার ব্যবহৃত ফোন একটি বিকল্প হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এটি পরীক্ষার সময়। কম দামের বাজার ধরে রাখতে পারলে তারাই হতে পারে লাখো নতুন ব্যবহারকারীর শেষ ভরসা।












