চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগের দাবিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভবনটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা ভবনের তালা খুলবেন না। ফলে উপাচার্যসহ তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটির ভেতরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। এ সময় তাঁদের কয়েকজন অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
অসুস্থ দুই সাবেক শিক্ষার্থী, একজন হাসপাতালে
উপাচার্যের সঙ্গে ভবনে অবস্থান করা দুই সাবেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসুদেব তাঁদের পরীক্ষা করতে প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রবেশ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁদের চিকিৎসাকর্মীদের ভবনে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে উপাচার্য ফোনে চিকিৎসাসহায়তা চেয়ে অনুরোধ জানান।
অসুস্থ দুই সাবেক শিক্ষার্থীর একজন শাহরিয়ারকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যজন, তিতু মোহাম্মদ সোহান উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, দুই সাবেক শিক্ষার্থীর উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা দেখা দেওয়ায় তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় সেখানকার সবাই অসুস্থ ও অবসন্ন বোধ করছিলেন বলেও জানান তিনি।
যেভাবে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য। ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।
পরে চুয়েট শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (জেসিডি) নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান তিনি। কার্যালয়ের প্রবেশপথের তালা ভেঙে নিজের নির্ধারিত আসনে বসেন।
সে সময় তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন।
এর আগে উপাচার্যের ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবর উপাচার্যের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দুপুরের সময়সীমা পেরোতেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের দুপুর পর্যন্ত সময় দেন ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা চলে না গেলে ভবনটি খালি ঘোষণা করে প্রবেশপথে তালা লাগানো এবং বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
সময়সীমা শেষ হলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘তালা দে, তালা দে, ভিসি ভবনে তালা দে’ এবং ‘মানি না, মানি না, অনলাইন ভিসি মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা
নতুন উপাচার্যের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।












