রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার প্রথম ধাক্কা ঢাকায় দেখা গেছে বাতিল ফ্লাইট আর বিমানবন্দরের লম্বা লাইনে। কিন্তু সৌদি সংকট ও বাংলাদেশের সম্পর্কের আসল হিসাব আরও গভীরে। দেশের অর্থনীতি দুটি পথে এই সংকটের সঙ্গে বাঁধা: প্রবাসী আয় আর জ্বালানি। দুটিই এখন একসঙ্গে চাপের মুখে। শনিবারের হামলায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
প্রথম চাপ রেমিট্যান্সে। সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে এই একটি দেশ থেকে। অথচ সেপ্টেম্বরে মোট রেমিট্যান্স নেমে এসেছিল ১১ মাসের সর্বনিম্নে। এখন ১০০ ফ্লাইট বাতিলে আটকে আছেন ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী। নতুন কর্মীরা কাজে যোগ দিতে পারছেন না, ছুটিতে আসা কর্মীদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর ছাপ পড়বে আগামী মাসগুলোর প্রবাসী আয়ে।
দ্বিতীয় চাপ জ্বালানিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের কাছে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি আগে থেকেই পারস্য উপসাগরের যুদ্ধে ঝুঁকিতে। হুতিরা লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে প্রভাব বাড়ালে উপসাগরের জ্বালানি সরবরাহের দুটি প্রধান পথই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে। সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বেড়েছে, এর প্রভাবে কয়েকটি জেলায় চালের দামও বাড়ছে। আইএমএফ চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে ওঠার আশঙ্কা করছে।
রপ্তানিও এর বাইরে নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধে সেখানকার কিছু রপ্তানি বাজার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আবার জ্বালানির দাম বাড়ায় কারখানার উৎপাদন খরচও বাড়ছে। প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এরই মধ্যে কমেছে। আইএমএফ বলছে ৩.২ শতাংশ, বিশ্বব্যাংক ৩.৪ শতাংশ। সৌদি সংকট দীর্ঘ হলে এই সংখ্যাগুলো আরও কমতে পারে।
সৌদি সংকট ও বাংলাদেশের এই যোগসূত্র মনে করিয়ে দেয়, একটি দেশের ওপর বেশি নির্ভরতার ঝুঁকি কত বড়। শ্রমবাজার বহুমুখী করার উদ্যোগ জরুরি, যেমন মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আটকে পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হওয়া দরকার। জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প উৎস ও পর্যাপ্ত মজুতও নিশ্চিত করতে হবে। উপসাগরে দ্রুত শান্তি ফেরা সৌদি আরবের মতো বাংলাদেশেরও স্বার্থ।












