মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে। মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে হবে ২ হাজার রিঙ্গিত। নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জুন থেকে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ৯ অক্টোবর সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট পেশ করেন। সেই বাজেট বক্তৃতায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। হিসাব করলে মজুরি বাড়ছে মাসে ৩০০ রিঙ্গিত, অর্থাৎ প্রায় ১৮ শতাংশ। তবে সব প্রতিষ্ঠানকে এখনই নতুন হার মানতে হবে না।
বাজেটে বলা হয়েছে, বছরে ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম বিক্রির ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান নতুন হার থেকে ছাড় পাবে। ব্যবসার ধরন বদলে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতেই এই ছাড়। একই বাজেটে অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ঠেকানোর পদক্ষেপও এসেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো মজুরির খরচ কর থেকে বাদ দিতে পারবে একটি শর্তে। কর্মীদের বেতন দিতে হবে দেশটির কর্মসংস্থান আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে। নগদে বেতন দিলে সেই খরচ কর হিসাবে বাদ দেওয়ার সুযোগ মিলবে না।
বাংলাদেশের জন্য খবরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মালয়েশিয়া দেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। সেখানে নানা খাতে কাজ করেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি। তাঁদের আয়ের ওপর নির্ভর করে দেশের অনেক পরিবার। মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে, কিন্তু বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন হার কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা বিস্তারিত নিয়মে স্পষ্ট হবে। বাজেটের আগে দেশটির রাজনীতিক লিম গুয়ান এং বিদেশি কর্মীদের এই বৃদ্ধির বাইরে রাখার দাবি তুলেছিলেন। ডিএপি দলের চেয়ারম্যান লিমের যুক্তি ছিল, এতে ছোট ব্যবসার খরচ বাড়বে। বাজেট বক্তৃতায় অবশ্য ছাড়ের কথা বলা হয়েছে শুধু ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য।
ব্যাংকে বেতন দেওয়ার শর্তটিও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাংক হিসাবে বেতন এলে কর্মী কত পাচ্ছেন, তার লিখিত প্রমাণ থাকে। মজুরি নিয়ে বিরোধ হলে এই প্রমাণ কাজে লাগে। অভিযোগ জানাতে গেলেও কাগজে লেখা হিসাব কর্মীর পক্ষে শক্ত ভিত্তি হয়। আবার বেতন ব্যাংকে এলে বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠানোও সহজ হয়। এদিকে মালয়েশিয়া সম্প্রতি বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ জন্য ৩৩৮টি বাংলাদেশি এজেন্সি অনুমোদন পেয়েছে। ফলে নতুন করে যাঁরা যাবেন, তাঁদের কাছে বদলে যাওয়া মজুরি কাঠামো বোঝা জরুরি হয়ে উঠেছে।
তাই যাঁরা মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। চুক্তিপত্রে মাসিক মজুরি কত লেখা আছে, তা যাওয়ার আগে মিলিয়ে নিতে হবে। নিয়োগকর্তা কোন খাতের এবং কত বড় প্রতিষ্ঠান, সেটিও জানা দরকার। কারণ ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন হার না-ও খাটতে পারে। বেতন ব্যাংকে দেওয়া হবে কি না, তা আগেই জেনে নেওয়া ভালো। মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে আগামী জুনে। তাই এর আগে সই হওয়া চুক্তিতে বদলের সুযোগ আছে কি না, এজেন্সির কাছে জিজ্ঞেস করা উচিত। কোনো দালাল বাড়তি বেতনের লোভ দেখিয়ে টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। নিয়োগের তথ্য সরকারি দপ্তর থেকে যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।












