সীমান্ত অতিক্রম করে কোনো ধরনের আগ্রাসন কিংবা পাকিস্তানের সার্বভৌম সীমানা লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির কমান্ডার ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড (সিএনএসসি) জেনারেল সৈয়দ আমের রাজা। তাঁর বক্তব্য, পারমাণবিক অস্ত্রধারী পরিবেশে সংঘাত বা যুদ্ধের কোনো সুযোগ নেই। তবে কেউ ভুল হিসাব করলে তার জবাব প্রত্যাশার চেয়েও কঠোর হতে পারে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি (পিএমএ), কাকুলে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাডেটদের পাসিং আউট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫৪তম পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি লং কোর্স, ৩৯তম টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট কোর্স, ৭৩তম ইন্টিগ্রেটেড কোর্স এবং ২৮তম লেডি ক্যাডেট কোর্সের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করা ক্যাডেটরা অংশ নেন।
সীমান্তের নিরাপত্তায় অনড় অবস্থান
জেনারেল আমের রাজা বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা পাকিস্তানের জন্য চূড়ান্ত অঙ্গীকার। সশস্ত্র বাহিনী দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। শান্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা কিংবা সংযমকে দৃঢ়তার অভাব মনে করা উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল হিসাব ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই সীমান্ত লঙ্ঘন ও আন্তসীমান্ত আগ্রাসনের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপরিবর্তনীয়।
আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাচ্ছে
সামরিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার আধুনিক যুদ্ধের কৌশল ও গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তির কারণে প্রচলিত সামরিক পরিকল্পনা ও পরিচালনাপদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং সামরিক ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর ঘটাচ্ছে বলে জানান তিনি। এর লক্ষ্য দেশের প্রতিরক্ষা অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।
ক্যাডেটদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতে জেনারেল রাজা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায় তাঁদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাঁদের অভিভাবকদেরও শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক একাডেমিতে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা স্নাতকদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই দিন।
ইসলামাবাদ চুক্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন জেনারেল রাজা। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ শান্তি ও কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে দেশটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে সংযম, সংলাপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় দেশটির জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনী বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে জেনারেল রাজা অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, অপতথ্য ছড়ানো, প্রচারণা এবং প্রক্সি সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘অপারেশন সিন্দুর’ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ প্রক্সি তৎপরতা ও প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের কৌশল ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
পাকিস্তানকে শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বর্ণনা করে জেনারেল রাজা বলেন, শান্তির প্রতি অঙ্গীকার বজায় থাকলেও দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।












