সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ১০৩টি সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বৃহস্পতিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এই হিসাবে সরাসরি ও ট্রানজিট দুই ধরনের ফ্লাইটই আছে। যাত্রীদের বড় অংশ সৌদি আরবে কাজ করা প্রবাসী শ্রমিক। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অনেকে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
সংকটের শুরু রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর। এরপর সৌদি আরবের কয়েকটি বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত করা হয়। শুরুতে শুধু রিয়াদগামী সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছিল। পরে মধ্যপ্রাচ্য ও প্রতিবেশী দেশ হয়ে যাওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটেও প্রভাব পড়ে। বুধবার পর্যন্ত বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ৭টি ও রিয়াদ এয়ারের ৭টি ছিল। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটও এই তালিকায় আছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা জানিয়ে বিমান রিয়াদ ও দাম্মামের সব ফ্লাইট শনিবার পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। সংস্থাটি বলেছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া-আসা করতে পারবেন। ইউএস-বাংলা তাদের রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে। টিকিটের তারিখ বদল বা নতুন ফ্লাইটের তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিকল্প পথে যেতে গিয়ে অনেক যাত্রীকে বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সংকট শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়। সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় গন্তব্য। সময়মতো ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন অনেকে। কারও কারও ভিসা ও ইকামার মেয়াদ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বেবিচক এয়ারলাইনসগুলোকে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো যাত্রী যেন সহায়তা ছাড়া আটকে না থাকেন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার জন্য যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ ও ঢাকার সৌদি দূতাবাসে যোগাযোগের পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।
বেবিচকের মুখপাত্র কাওসার মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল চলতে থাকবে। ফলে আগামী কয়েক দিনে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যাঁদের টিকিট আগামী সপ্তাহে, তাঁদের যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি। সৌদিগামী ফ্লাইট কবে স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করছে রিয়াদসহ সৌদি বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।












