আলিম পরীক্ষায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন, যা গত বছরের চেয়েও কম, আর ২০২৪ সালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। একই সঙ্গে কারিগরি বোর্ডের পাসের হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে, ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশে। শনিবার সকাল ১১টায় প্রকাশিত আলিম ও কারিগরি ফল তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সব বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫৪ হাজার ৫৪৭ জন। পাসের হার ৬২ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেননি ৩৮ হাজার ৩৫৮ জন। গত বছর এই হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, আর ২০২৪ সালে ৯৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। দুই বছরে পাসের হার কমেছে ৩০ শতাংশ পয়েন্টেরও বেশি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ জনেরও কম পাস করেছেন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাতেও একই চিত্র। ২০২৪ সালে আলিমে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৬১৩ জন। গত বছর সেই সংখ্যা নেমে আসে ৪ হাজার ২৬৮ জনে। এবার তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জনে। দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে ৬ হাজার ৩৬৩ জন। এই হিসাব বলছে, শুধু পাসের হার নয়, শীর্ষ ফলের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। ছাত্র আর ছাত্রীর হিসাব আলাদা করলে দেখা যায়, ছাত্রীরা এগিয়ে আছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। ছাত্রদের ক্ষেত্রে তা ৫৮ দশমিক ১০ শতাংশ। পাস করেছেন ২৯ হাজার ২৬৯ ছাত্র ও ২৫ হাজার ২৭৮ ছাত্রী।
আলিম হলো মাদ্রাসা শিক্ষায় এইচএসসির সমমান পরীক্ষা। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ফলও একই দিনে প্রকাশ হয়েছে। বহু শিক্ষার্থীর কাছে এই দুই ধারাই উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে ঢোকার প্রধান পথ। তাই সংখ্যার এই পতন শুধু পরিসংখ্যান নয়, বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত।
কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএম ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন। এবার পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের অর্ধেকের বেশি পাস করতে পারেননি। কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণত হাতে-কলমে কাজ শেখার পথ হিসেবে দেখা হয়। ফল এমন হলে সেই পথে চলা শিক্ষার্থীদের সামনের ধাপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন শনিবার মন্ত্রণালয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। ফল প্রকাশ হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে, আর শিক্ষার্থীরা ফল দেখতে পেরেছেন বোর্ডের ওয়েবসাইট, প্রতিষ্ঠান ও এসএমএসের মাধ্যমে। ফল কেন এতটা কমল, তা এখনো ব্যাখ্যার অপেক্ষায় আছে। তিন বছরের পরিসংখ্যান দেখায়, আলিমে ফলের এই পতন একদিনের ঘটনা নয়। আলিম ও কারিগরি ফল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবার তাগিদ দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, বোর্ড ও মন্ত্রণালয় এই ফলের কারণ খুঁজে কী পদক্ষেপ নেয়। আলিম ও কারিগরি ফল তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সতর্ক সংকেতও।












