স্থূলতা কমানো, পেশি গঠন, শরীরের ক্ষত সারানো, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা কিংবা বার্ধক্য ঠেকানো—স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে বাজারে এখন নানা প্রতিশ্রুতি। এসব প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি শব্দ: পেপটাইড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জিম, ওয়েলনেস সেন্টার ও চিকিৎসাকেন্দ্র—সবখানেই এর আলোচনা। কিন্তু পেপটাইড নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার কতটা বিজ্ঞানসম্মত আর কতটা বাণিজ্যিক প্রচারণার ফল, সেই প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি স্থূলতার চিকিৎসা নিতে আসা ৪৫ বছর বয়সী এক নারীকে একটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার সময় বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন না, তবে তাঁর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২০ কেজি বেশি। চিকিৎসার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তাঁকে টাইরজেপাটাইডের কথা বলা হলে তিনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সেটি নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিবর্তে তাঁর আগ্রহ ছিল রেটাট্রুটাইডে। কারণ, তাঁর কয়েকজন বন্ধু সেটি ব্যবহার করছেন।
সমস্যা হলো, রেটাট্রুটাইড তখনো নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়নি। ওষুধটি নিয়ে গবেষণা চলছিল। অথচ তিনি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যের চেয়ে ইনস্টাগ্রাম ও রেডিটের আলোচনা থেকেই বেশি ধারণা পেয়েছেন।
এখানেই পেপটাইড নিয়ে বর্তমান উন্মাদনার একটি বড় অসংগতি ধরা পড়ে। একটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধের জানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছেন, অথচ পরীক্ষাধীন একটি যৌগকে নিরাপদ বিকল্প বলে ধরে নিচ্ছেন। জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা কীভাবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।
পেপটাইড কেন এত আলোচনায়
পেপটাইড মূলত একাধিক অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত অণু। অ্যামিনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মৌলিক উপাদান। মানবদেহ নিজেই শত শত ধরনের পেপটাইড তৈরি করে। ইনসুলিন, গ্লুকাগন, অক্সিটোসিন ও ভ্যাসোপ্রেসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমোনও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ পেপটাইড কোনো নতুন আবিষ্কার নয়; বরং মানবদেহের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রমেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেপটাইড নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় পরিবর্তন কাজ করছে।
প্রথমত, জৈবপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বিজ্ঞানীরা এখন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পেপটাইড তৈরি ও পরিবর্তন করতে পারছেন। এতে অণুগুলোর স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং শরীরে কাজ করার ধরন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় জিএলপি-১-ভিত্তিক ওষুধের সাফল্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সেমাগ্লুটাইড ও টাইরজেপাটাইড দেখিয়েছে, ক্ষুধা, পরিতৃপ্তি এবং বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের পথকে লক্ষ্য করে উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাস সম্ভব।
তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েলনেস শিল্প এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে আরও বিস্তৃত বাজারে নিয়ে গেছে। এখন পেপটাইডকে শুধু রোগের চিকিৎসা নয়, পেশি বৃদ্ধি, দ্রুত শারীরিক পুনরুদ্ধার, ত্বকের উন্নতি এবং দীর্ঘায়ু অর্জনের উপায় হিসেবেও প্রচার করা হচ্ছে।
কিন্তু একটি অণু শরীরে কোনো জৈবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলেই সেটি মানুষের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা হয়ে যায় না। বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা এবং প্রমাণিত চিকিৎসার মধ্যে এই পার্থক্যটিই বর্তমান আলোচনায় প্রায়ই হারিয়ে যাচ্ছে।

গবেষণার সাফল্য মানেই ব্যবহারের অনুমতি নয়
রেটাট্রুটাইডকে ঘিরে আগ্রহের যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। এটি একই সঙ্গে তিনটি রিসেপ্টর—জিআইপি, জিএলপি-১ এবং গ্লুকাগন—সক্রিয় করে কাজ করে। প্রাথমিক ও চলমান ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ওজন কমানোর ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে স্থূলতার চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু গবেষণায় ভালো ফল পাওয়া আর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক বিষয় নয়। একইভাবে কোনো ওষুধের সম্ভাব্য কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার মধ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে।
একটি নতুন ওষুধ বাজারে আসার আগে দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে পরীক্ষাগারে এর কার্যকারিতা ও বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হয়। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয়। এসব পরীক্ষায় ওষুধের উপকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, উপযুক্ত মাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি উৎপাদনের মান ও ওষুধের বিশুদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য শুধু একটি কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার করা নয়; বরং মানুষের শরীরে সেটি ব্যবহারের ঝুঁকি যতটা সম্ভব নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা।
অনুমোদনের আগেই অনলাইন থেকে কোনো যৌগ কিনে নিজে নিজে শরীরে প্রয়োগ করা মানে এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া। এতে একজন ব্যক্তি কার্যত নিজের শরীরকে এমন একটি পরীক্ষার অংশ বানিয়ে ফেলেন, যার ফলাফল সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য তাঁর কাছে নেই।
বৈজ্ঞানিক নামের আড়ালে অনিয়ন্ত্রিত বাজার
পেপটাইডের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এসেছে নানা ধরনের পরীক্ষাধীন ও অপর্যাপ্তভাবে গবেষিত যৌগ। এর মধ্যে রয়েছে বিপিসি-১৫৭, টিবি-৫০০, সিজেসি-১২৯৫, ইপামোরেলিন, এওডি-৯৬০৪, জিএইচকে-কিউ, এমওটিএস-সি এবং এপিথালন।
এসব যৌগের প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা দাবি করা হচ্ছে। বিপিসি-১৫৭ নিয়ে প্রাণীর ওপর গবেষণায় টিস্যু পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্য প্রভাব দেখা গেছে। টিবি-৫০০ শরীরের ক্ষত সারানো ও পুনরুদ্ধারে সহায়ক বলে বাজারজাত করা হয়। সিজেসি-১২৯৫ ও ইপামোরেলিনের ক্ষেত্রে গ্রোথ হরমোন নিঃসরণ বাড়ানোর দাবি রয়েছে। এমওটিএস-সি বিপাকীয় কার্যক্রম উন্নত করার এবং এপিথালন ঘুম ও বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে প্রচারিত হচ্ছে।
এসব দাবির পেছনে কিছু প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলোকে মানুষের ক্ষেত্রে প্রমাণিত চিকিৎসাগত উপকারিতা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।
কোনো যৌগ পরীক্ষাগারে কোষের ওপর কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখালে কিংবা প্রাণীর শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে সেটি মানুষের ক্ষেত্রেও একই ফল দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মানুষের শরীরের জটিলতা, রোগের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হয়।
অথচ এসব মৌলিক পার্থক্য উপেক্ষা করেই অনেক পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। কোথাও এগুলোকে পেশি গঠনের উপায়, কোথাও দ্রুত ক্ষত সারানোর চিকিৎসা, আবার কোথাও তারুণ্য ধরে রাখার উপকরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এ ধরনের পণ্যের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো উৎপাদনের মান। একটি শিশিতে বিশুদ্ধ পেপটাইড লেখা থাকলেই তার ভেতরের উপাদান, ঘনত্ব কিংবা জীবাণুমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও মাত্রা নির্ধারণের অভাবে সংক্রমণ, ইনজেকশনস্থলে প্রদাহ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সেপসিসের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা কি চিকিৎসার প্রমাণ?
পেপটাইডের বাজার বিস্তারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কোনো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজের শারীরিক পরিবর্তন দেখিয়ে দাবি করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেপটাইড তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। কেউ এমআরআই স্ক্যান দেখিয়ে ক্ষত বা টিস্যুর উন্নতির কথা বলছেন। কেউ আবার দ্রুত ওজন কমানো কিংবা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন।
এসব অভিজ্ঞতা মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কার্যকারিতার প্রমাণ নয়।
একজন ব্যক্তি কোনো চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন—এমন তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে তাঁর সুস্থ হওয়ার কারণ ওই চিকিৎসাই। একই সময়ে অন্য কোনো চিকিৎসা, স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন কিংবা রোগের নিজস্ব গতিপ্রকৃতিও ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত সফলতার গল্পগুলোই বেশি প্রচার পায়। যাঁরা কোনো উপকার পাননি, যাঁদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে কিংবা যাঁরা চিকিৎসার কারণে সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা একইভাবে সামনে আসে না। ফলে দর্শকের কাছে একটি অসম্পূর্ণ চিত্র তৈরি হয়। নির্বাচিত কয়েকটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই তখন বৈজ্ঞানিক সত্য বলে মনে হতে থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা এ কারণেই নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি অনুসরণ করে। সেখানে শুধু ভালো ফল পাওয়া কয়েকজনের অভিজ্ঞতা নয়, বরং তুলনামূলকভাবে বড় জনগোষ্ঠীর ফলাফল, ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা হয়।
জানা ঝুঁকি বনাম অজানা ঝুঁকি

আমার সেই রোগীর সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর ধারণা। প্রতিষ্ঠিত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানতেন, তাই সেটি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষাধীন ওষুধের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে জানা না থাকায় সেটিকে নিরাপদ মনে করেছিলেন।
এই ধারণা বিপজ্জনক।
একটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণত জানেন কোন রোগীর জন্য সেটি উপযুক্ত, কী মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে এড়িয়ে চলতে হবে এবং কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগী ও চিকিৎসক যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কিন্তু পরীক্ষাধীন কোনো যৌগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর তখনো অজানা থাকতে পারে। কোনো ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া এখনো শনাক্ত হয়নি মানেই সেটি ঘটার আশঙ্কা নেই, এমন নয়। পর্যাপ্ত গবেষণা না থাকলে ঝুঁকির অনুপস্থিতি নয়, বরং ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্যের অনুপস্থিতিই প্রকৃত অবস্থা হতে পারে।
এ কারণেই রেটাট্রুটাইডের মতো সম্ভাবনাময় ওষুধকে আরও গবেষণার মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়া জরুরি। আগেভাগে ব্যবহার শুরু করে দেওয়া বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত নয়।
পেপটাইডের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে প্রমাণের ওপর
পেপটাইড চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ইনসুলিন আবিষ্কারের ফলে ডায়াবেটিস একসময়কার প্রায় প্রাণঘাতী রোগ থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য অবস্থায় এসেছে। আধুনিক ইনক্রেটিন-ভিত্তিক চিকিৎসা স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তাই পেপটাইড নিয়ে সব ধরনের আগ্রহকে অযৌক্তিক বলা যাবে না। বরং এই ক্ষেত্রের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে গবেষণার কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো সম্ভাবনাকে প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া। কোনো যৌগ ভবিষ্যতে কার্যকর হতে পারে—এটি একটি বৈজ্ঞানিক অনুমান। কিন্তু এখনই সেটি ব্যবহার করা নিরাপদ—এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি। এই দুইয়ের পার্থক্য না বুঝলে রোগীরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
কোনো বন্ধু, প্রশিক্ষক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তির পরামর্শে অজানা ইনজেকশন ব্যবহার করার আগে কয়েকটি প্রশ্ন করা জরুরি। পণ্যটি কি অনুমোদিত? মানুষের ওপর যথেষ্ট ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে? এর কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে? উৎপাদন ও সংরক্ষণের মান নিশ্চিত করা হয়েছে?
যে চিকিৎসাকে অলৌকিক সমাধান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি যদি অনলাইনের অচেনা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনতে হয়, বাড়ির ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে শরীরে প্রয়োগ করতে হয়, তাহলে সতর্ক হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
পেপটাইডের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি কখনোই জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। নতুন কোনো অণুর মূল্যায়ন করতে হবে গবেষণার মান, প্রমাণিত উপকারিতা এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা তথ্যের ভিত্তিতে।
স্বাস্থ্য কোনো পরীক্ষাগারের নমুনা নয়। তাই নতুন চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ থাকা জরুরি, কিন্তু সেই আগ্রহের চেয়ে বেশি জরুরি প্রমাণের প্রতি আস্থা রাখা। ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে কোনো পেপটাইড প্রয়োগের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ চিকিৎসার উদ্দেশ্য সুস্থ হওয়া, অজানা ঝুঁকির পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয়।
লেখক: অম্রিশ মিথাল। তিনি ম্যাক্স হেলথকেয়ারের এন্ডোক্রিনোলজি ও ডায়াবেটিস বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রধান।












