ন্যূনতম মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আবারও বিক্ষোভে নেমেছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা। সোমবার কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান ও মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে একটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সোমবার দুপুরে গাজীপুর নগরের নাওজোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর প্রবেশপথেও সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ ও শিল্প পুলিশ।
শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই মহাসড়কেই যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
পুলিশের গাড়িতে আগুন, দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, বিক্ষোভের সময় শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং একটি গাড়িতে আগুন দেন। এ ছাড়া বাস ও ট্রাকেও ভাঙচুর চালানো হয়।
তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে সোমবার দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি কার্যকর করা হয়।
টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে তাঁরা টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন।
দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। সোমবারের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, মহাসড়ক অবরোধ এবং দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটির ঘটনা ঘটেছে।












