মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪১
জম্মু/শিমলা/নয়াদিল্লি: উত্তরের রাজ্যগুলোতে টানা প্রবল বর্ষণে বুধবারও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও টেলিফোন টাওয়ার ভেসে যায়। শুধু জম্মুতেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১-এ।
রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি
জম্মুতে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, যা ১৯১০ সালে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। ১৯৭৩ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ ২৭২.৬ মিলিমিটার রেকর্ড হয়েছিল, আর ১৯২৬ সালে ২২৮.৬ মিলিমিটার। এ বছরের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডগুলোও ছাড়িয়ে গেছে।
ত্রাণকাজ ও বিপর্যস্ত জনজীবন
জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন স্থানে সেনা, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য প্রশাসনের দল উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। অনেক শহর ও গ্রাম ডুবে গেছে, বিশেষত শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে লাখো মানুষ যোগাযোগহীন হয়ে পড়েছে, এমনকি কিছু এলাকায় ব্যাংকিং কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।
ভয়াবহ ভূমিধস ও প্রাণহানি
মঙ্গলবার বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের পথে ভূমিধসে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়। বুধবার আরও ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের যাত্রীরা রয়েছেন। এখনো ১০ জনের পরিচয় মেলেনি। অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক সদস্য বন্যার পানিতে ভেসে যান। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, কনস্টেবল রাজীব নুনিয়া দেশের সেবায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ শ্রীনগর থেকে জম্মুতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং ত্রাণ তদারকি করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈষ্ণো দেবীর পথে ভূমিধসে নিহতদের প্রতি শোক জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
উত্তর ভারতের ভয়াবহ মৌসুম
শুধু জম্মু-কাশ্মীরেই এ বছর বর্ষাকালে ১১০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। হিমাচল প্রদেশে অন্তত ৩১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চম্বা জেলায় হাজারো মানুষ মানিমহেশ যাত্রায় আটকা পড়েছেন, কারণ রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে।
কুল্লু জেলা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চণ্ডীগড়-মানালি মহাসড়ক ধসে যাওয়া ও বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। বিয়াস নদী ফুলে ফেঁপে উঠে গিয়ে হাইওয়ের অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে
তাওয়ি, বিয়াস ও যমুনাসহ বিভিন্ন নদীর পানি উপচে পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে শহর-গ্রাম প্লাবিত করছে। শ্রীনগরের কুরসু, রাজবাগ, বেমিনা, সেকিদাফার এবং আনন্তনাগ শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। আনন্তনাগ জেলার আদালত প্রাঙ্গণেও পানি ঢুকে পড়ে, ফলে বিচারক ও কর্মীদের নৌকা দিয়ে সরিয়ে নিতে হয়।
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আইএমডির মহাপরিচালক এম মহাপাত্র বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমবে, তবে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। তিন সেপ্টেম্বরের দিকে নতুন নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আবারও ভারী বৃষ্টি আনতে পারে।
উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলোতে প্রবল বর্ষণ ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। শত শত মানুষের মৃত্যু, হাজারো মানুষের বাস্তুচ্যুতি, রাস্তাঘাট ধসে পড়া এবং শহর-গ্রাম প্লাবিত হওয়া—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বৃষ্টি আরও কিছুদিন চলতে পারে এবং নতুন নিম্নচাপ আরও বৃষ্টি নামাতে পারে।
আন্তর্জাতিক
বৃষ্টি, উত্তরে ভারতের বিপর্যয়
মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪১জম্মু/শিমলা/নয়াদিল্লি: উত্তরের রাজ্যগুলোতে টানা প্রবল বর্ষণে বুধবারও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও টেলিফোন টাওয়ার ভেসে যায়। শুধু জম্মুতেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১-এ।
Facebook
WhatsApp
X
আরও পড়ুন
সর্বশেষ খবর
মূল্যস্ফীতির ধাক্কা: সবজিওয়ালার পুঁজি থেকে করপোরেট অর্থনীতি
দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়, নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগ দাবি
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
মেশিনের দাপটেও টিকে আছে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প, বিদেশে হাতে বোনা শাড়ির সম্ভাবনা
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় জোর, দেশে বছরে আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি নারী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা জোরদারদৈনিক নিউজলেটার
প্রতিদিন সকালে সেরা ৫টি খবর আপনার ইনবক্সে
বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন · যেকোনো সময় বাতিল করুন
প্রকাশনা
সম্পাদক ও প্রকাশক: স্বদেশ রায়
নিবন্ধন নম্বর: ১৭১
সম্পাদকীয় কার্যালয়
প্রথম তলা, ক্যাপিটা লেক ফ্রন্ট, ব্লক জে, বাড়ি ৬৬,
বনানী রোড ১৮ এক্সটেনশন, ঢাকা ১২১৩
ইমেইল: contact@sarakhon.com / news@sarakhon.com
ফোন: +৮৮০৯৬৩৮১৫৫২২৭
বাণিজ্যিক অফিস
এ-১৩, ১০/এ সেগুনবাগিচা, ঢাকা ১০০০
বিজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক যোগাযোগ
admin@sarakhon.com
ফোন: +৮৮০৯৬৩৮১৫৫২২৭
আরও বিভাগ
সম্পাদকীয়
সেবাসমূহ
© ২০২৬ সারাক্ষণ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






