শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

সামাজিক কুসংস্কার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রনে বাঁধা

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৬.৩৬ পিএম

শিবলী আহম্মেদ সুজন

সামাজিক কুসংস্কার বা স্টিগমার প্রভাব অনেক। যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যক্ষ্মার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি) ও আইসিডিডিআর, বি ‘বাংলাদেশে যক্ষ্মা-সম্পর্কিত স্টিগমার অবস্থা’ শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। সেই গবেষণার তথ্যাদি ও ফলাফল নিয়ে আজ ২৩ এপ্রিল ঢাকাস্থ আইসিডিডিআর, বি সাসাকাওয়া মিলনায়তনে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে দেশে প্রথমবারের মত যক্ষ্মা ও স্টিগমা নিয়ে এই গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হয়েছে।

আইসিডিডিআর, বি-র নির্বাহী পরিচালক ডাঃ তাহমিদ আহমেদ

আইসিডিডিআর, বি-র নির্বাহী পরিচালক ডাঃ তাহমিদ আহমেদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “একসময় মানুষ যক্ষ্মা নিয়ে কথা বলতে ভয় পেতো, তবে এখন দেশের যেকোন প্রান্তে গেলেই যক্ষার নাম শোনা যায়। এটা হয়েছে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সফল উদ্যোগ, সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং পাশাপাশি আইসিডিডিআর, বি-তে যারা যক্ষ্মা নিয়ে কাজ করছেন, তাদের একনিষ্ঠতার কারণে। যক্ষ্মার কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে হলে আমাদের এভাবেই যৌথভাবে কাজ করে যেতে হবে।”

যক্ষ্মা গবেষণায় আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ এর ভূমিকা

 

ডাঃ শাহরিয়ার আহমেদ

আলোচনা সভায় ডাঃ শাহরিয়ার আহমেদ বলেন,আইসিডিডিআর,বি ২০০১ সাল থেকে যক্ষ্মা নিয়ে কাজ শুরু করে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০৫ সালে আইসিডিডিআর,বি যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। স্টপ টিবি পার্টনারশিপ-এর আর্থিক সহায়তায় ২০১৪ সালে এই স্ক্রিনিং সেবা চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৪ সালে ঢাকা , সিলেট ও চট্রগ্রামে তিনটি জেলায় এই প্রতিষ্ঠানটি তিনটি স্ক্রিনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্রিনিং সেন্টার গুলোতে জেনি এক্সপার্ট এক্সরে মেশিন বসানো হয়েছে যা দ্বারা সেন্টারে আসা রোগীদের কফ পরীক্ষা করে যক্ষ্মা সনাক্ত করা যায়। আইসিডিডিআর,বি গবেষণা কেন্দ্র থেকে ঢাকার পুরাতন কেন্দীয় কারাগারে সচেতনামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ।

শিশুদের যক্ষ্মার লক্ষণ

 

ডিজিজেজ ডিভিশনের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও এমারজিং ইনফেকশন প্রোগ্রামের অ্যাক্টিং হেড ডাঃ সায়েরা বানু , আইসিডিডিআর,বি’।

পুরো বিশ্বে যক্ষ্মা রোগীর মোট ১২ শতাংশ শিশু । সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করার ফলে খুব তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যায় । তাই সঠিকভাবে বাংলাদেশে রোগ শনাক্ত না হওয়ার কারণে এই হার চার শতাংশ।

শিশুর দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হালকা জ্বর থাকছে, খুসখুসে কাশি, কফ, ঠাণ্ডা, সর্দি । শরীরে জ্বর ১০০ ডিগ্রির মতো থাকলে ,শিশুর শরীরে ছোট ছোট গোটা হলে বুঝতে হবে এগুলো যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ। আইসিডিডিআর,বি’র ডিজিজেজ ডিভিশনের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও এমারজিং ইনফেকশন প্রোগ্রামের অ্যাক্টিং হেড ডাঃ সায়েরা বানু যক্ষ্মা স্ক্রিনিং নিয়ে কাজ করছেন।

যক্ষ্মা ও সামাজিক কুসংস্কার

গবেষকেরা জানান, স্টিগমাকে প্রায়শই এমন একটি সামাজিক আচরণ হিসাবে দেখা হয়, যেখানে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।। অপমানজনক ও নেতিবাচক আচরণের শিকার হয় তারা। গবেষণার মাধ্যমে যক্ষ্মারোগী ও তাদের পরিবারের সদস্য, সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ যারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী করছে তাদের মধ্যে স্টিগমার উপস্থিতি ও মাত্রা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয়।

গ্রামীণ এলাকায় টিবি ও স্টিগমা অ্যাসেসমেন্ট ডেটা কালেকশন টুলব্যবহার

 

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা জেলার শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পরিচালিত এই সমীক্ষায় স্টপ টিবি পার্টনারশিপের ‘টিবি স্টিগমা অ্যাসেসমেন্ট ডেটা কালেকশন টুল’ ব্যবহার করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন গত পাঁচ বছরের মধ্যে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ। ডা. সায়েরা বানুর অধীনে নাদিম রেজা, আইসিডিডিআর, বি-র পাবলিক প্রাইভেট মিক্সের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, তানজিনা রহমান, সিনিয়র স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসার ও তামান্না সুলতানা, আইসিডিডিআর, বির রিসার্চ অফিসার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় ২৮ শতাংশ যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তি তাদের চিকিত্সা গ্রহণ ও সেবাচক্রের প্রথম তিনটি পর্যায়ে স্টিগমার প্রভাব অনুভব করেন। তাদের পরিবারের প্রায় ২২ শতাংশ সদস্য স্টিগমার সম্মুখীন হন। আর ১৪ ভাগ যক্ষ্মা রোগী ও তাদের পরিবারের ১১ ভাগ সদস্য বাড়িতেও স্টিগমা অনুধাবন করেন। গবেষণার ফলাফলে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে হয়েছে। গবেষণা থেকে জানা যায় যক্ষ্মাসংক্রান্ত স্টিগমা নারীদের বেশি প্রভাবিত করে। এতে সামাজিকভাবে অসম্মান, হয়রানি ও আর্থিক অসুবিধায় পড়েন তারা।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দের গবেষণালব্ধ ফলাফলের উপর আলোকপাত

 

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ টিটু মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এবং জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর মোঃ মাহাফুজার রহমান সরকারসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ গবেষণালব্ধ ফলাফলের উপর আলোকপাত করেন। সমাজের স্টিগমা কাটিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান গবেষক ও বক্তরা।

গবেষণাটি বাংলাদেশে যক্ষ্মা-সংক্রান্ত স্টিগমার ব্যাপক প্রভাবকে তুলে ধরে এটিকে যক্ষ্মার সেবা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। স্টিগমার কাঠামোগত এবং সামাজিক কারণগুলো মোকাবেলা করার জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহবান জানানো হয়েছে, যার লক্ষ্য মানসম্পন্ন চিকিতসা সেবা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করা।

 

সেমিনারে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ টিটু মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডাঃ মোঃ মাহাফুজার রহমান সরকার, এবং আইসিডিডিআর, বি-র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডাঃ সায়েরা বানু সহ অন্যান্যরা।

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024