শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

কোন আগুন লাগার ঘটনা বিচ্ছিন নয়

  • Update Time : রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪, ৯.০৫ পিএম

শিবলী আহম্মেদ সুজন

বেইলি রোডের অগ্নি দুর্ঘটনার শিকার সকল পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আজ ৩রা মার্চ ,২০২৪ তারিখ দেশের ৪৮ জন নাগরিক এক বিবৃতিতে বলেছেন,গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের বহুতল বিল্ডিং এ অগ্নি দুর্ঘটনায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং আরো কয়েকজনের অবস্থা খুবই আশংকাজনক বলে যে খবর জানলাম তাতে আমরা দেশবাসীর মতো গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।

এর আগে ২০১০ সাথে পুরাতন ঢাকার নিমতলীতে একটি রাসায়নিক গুদামে অনুরূপ দুর্ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।২০১৯ সালে চকবাজারে একই ধরনের দুর্ঘটনায় ৭১ জন মৃত্যুবরণ করেন ।একই বছর বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লেগে ২৭ জন মানুষ প্রাণ হারান।হাসেম ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ও তাজরিন গার্মেন্টস সহ এর আগে যে সকল অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে তা থেকে বেইলি রোডের দুর্ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ভাবার কোন উপায় নেই ।এটি ওইসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা বলে আমরা মনে করি।পূর্বের ঘটনাগুলোর যেটুকু তদন্ত হয়েছে তা থেকে আমরা জানি যে সকল স্থানে ঐ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে তার কারণ ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষের এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যে চরম অবহেলা প্রধানত দায়ী ।আমরা জানতে পেরেছি রাজউক কতৃপক্ষ এই ভবনটি শুধুমাত্র বানিজ্যিক অফিস ব্যবহারের শর্তে অনুমোদন দিয়েছিলো ।ফায়ার সার্ভিস কতৃপক্ষ এই ভবনটিকে অগ্নিকান্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনবার নোটিশ ও পাঠিয়েছিলো বলে জানা যায়।নোটিশ পাঠানোর পরে কতৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি।এখানে প্রশ্ন হচ্ছে শুধু কি নোটিশ দিয়েই কি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় ?তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে ,তা তারা কেন করলো না ?নকশা অনুযায়ী বিল্ডিং হয়েছে কিনা তা রাজউক এর তদারকি করার কথা কিন্তু লোকবল নেই এই অজুহাতে রাজউক কোন দায় এড়াতে পারে না ।তাই বেইলি রোডের বহুতল ভবনে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের স্বজনদের সীমাহীন দুঃখ ও শোকের সঙ্গে সহমর্মিতা জানানোর সাথে সাথে রাজউক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল কতৃপক্ষের কাছে আমাদের একান্ত জিজ্ঞাসা এই ধরনের দুঃখজনক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে তারা আর কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন ? তা দেশবাসীকে সবিস্তারে জানানো জবাবদিহিতা করা আজ শুধু সময়ের দাবি।কারণ এমন দুর্ঘটনা আমরা একাধিক গার্মেন্টস কারখানা সহ অসংখ্য শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ঘটতে দেখেছি এখনো দেখছি । সেই সব দুর্ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ,বিচার ও প্রতিকার আজও মানুষ পায়নি ।এমন অব্যবস্থা ,বিচারহীনতা ,প্রতিকারবিহীন ব্যবস্থা অব্যাহতভাবে চলতে পারে না।

আমরা সরকারের কাছে অতীতের সকল অগ্নি দুর্ঘটনাসহ বেইলি রোডে গত বৃস্পতিবার রাতে ঘটে যাওয়া অগ্নি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য সুষ্ঠ তদন্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি ।আংশিক নয় সার্বিক তদন্ত চাই।

এ বাদেওঃ ক) তদন্তের মাধ্যমে ঐ বহুতল ভবনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভ,মিকা সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকসহ বিভিন্ন সরকারি কতৃপক্ষের অবহেলা ,ব্যর্থতা, নজরদারির অনুপস্থিতি কতটা দায়ী তাও সার্বিকভাবে শনাক্ত করতে হবে ।

খ) অগ্নিকান্ড প্রতিরীধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের তদারকি কার্যকরভাবে হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে সেই মতাবেক দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

গ)দায়ী ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী দায় নিতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি প্রদান করতে হবে ।

ঘ)অবিলম্বে দীর্ঘমেয়াদি অগ্নি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রনয়ণ ও তার বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে।নীতিমালা প্রনয়নে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে ।

ঙ)ক্ষতিগ্রস্থ সকল পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে ।

চ) নগর ও শিল্পাঞ্চলে এলাকাভিত্তিক অগ্নি প্রতিরোধ ও নাগরিক নিরাপত্তা কমিটি গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিতে হবে ।

ছ)অন্তবর্তীকালীন সকল রেস্তোরা ,শিল্পকারখানাসহ যে সব জায়গায় বহু লোকের সমাগম হয় সে জায়গাতে দুর্ঘটনারোধে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা যাতে বাধ্যতামূলক রাখা হয় ,তার বিধান কার্যকর করতে হবে ।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন-

১) সুলতানা কামাল ,মানবাধিকার কর্মী ও ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

২)খুশি কবির,সমন্বয়কারী ,নিজেরা করি।

৩)ড.হামিদা হোসেন মানবাধিকার কর্মী।

৪)আলী ইমাম মজুমদার ,প্রাক্তন মন্ত্রী পরিষদ সচিব,গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

৫)আনু মোহাম্মদ ,অধ্যাপক ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ।

৬)ড.ইফতেখারুজ্জামান ,নির্বাহী পরিচালক,টিআইবি।

৭)অ্যাড.জেড আই খান পান্না ,আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
৮)অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত ,সাধারণ সম্পাদক , বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

৯)অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান,প্রধান নির্বাহী ,বেলা ও আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ।

১০)বদিউল আলম মজুমদার,সম্পাদক ,সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

১১)ড.পারভীন হাসান,ভাইস চ্যান্সেলর ,সেন্ট্রাল হিউম্যান ইউনিভার্সিটি।

১২) অ্যাডভোকেট সালমা আলী ,নির্বাহী পরিচালক,নি এন ডব্লিউ এল এ ।

১৩)ফারুক ফয়সাল,নির্বাহী পরিচালক,আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

১৪) ব্যারিষ্টার সারা হোসেন,অনানারি নির্বাহী পরিচালক,ব্লাস্ট।

১৫) ড.আসিফ নজরুল ,অধ্যাপক ,আইন বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬) ড.শহিদুল ইসলাম ,আলোকচিত্র ও সমাজকর্মী।

১৭)রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক,গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮)সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

১৯)কাজল দেবনাথ ,প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

২০)ডা.নায়লা জে. খান, ডিরেক্টর,বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন।

২১)শামসুল হুদা,নির্বাহী পরিচালক ,এসোসিয়েশ ফর ল্যান্ড রিফোর্ম এন্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি)

২২)শিরীন হক,সদস্য,নারীপক্ষ

২৩)গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক,গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪)অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন ,সহ-সভাপতি ,সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

২৫)অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

২৬)মনিন্দ্র কুমার নাথ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

২৭)তাসনীম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮)ফিরদৌস আজিম ,অধ্যাপক ,ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯)রাহনুমা আহমেদ, কবি ও লেখক।

৩০) ড.সুমাইয়া খায়ের ,অধ্যাপক ,আইন বিভাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১) ড.রুশাদ আফ্রিদী,শিক্ষক,অর্থনীতি বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২)মাইদুল ইসলাম ,পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়,পেন্সেল্ভিয়া,যুক্তরাষ্ট্র।

৩৩)সাইদা গুলরুখ,সাংবাদিক।

৩৪)সজীব দ্রং,সাধারণ সম্পাদক ,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

৩৫)সায়মা খাতুন, নৃবিজ্ঞানী ও প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬)অধ্যাপক সায়মা লুতফা ,সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭)জোবাইদা নাসরিন কণা , সহযোগী অধ্যাপক , নৃবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮)রেজিয়া বেগম, মাহিডন বিশ্ববিদ্যালয় , থাইল্যান্ড।

৩৯)জাকির হোসেন, নির্বাহী পরিচালক,নাগরিক উদ্যোগ।

৪০)অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান ,প্রধান নির্বাহী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন।

৪১)মোঃনুর খান, মানবাধিকার কর্মী।

৪২) ব্যারিষ্টার আশরাফ আলী, আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

৪৩) ব্যারিষ্টার শুভ্র চক্রবর্তী, আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

৪৪)ব্যারিষ্টার শাহাদাত আলম,আইনজীবী ,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

৪৫)দীপায়ন খীসা ,কেন্দীয় সদস্য,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

৪৬)হানা শামস আহমেদ ,আদিবাসী অধিকার কর্মী।

৪৭)অরুপ রাহী,সাংস্কৃতিক কর্মী।

৪৮)মুক্তাশ্রী চাকমা ,কোর গ্রুপ মেম্বার,সাঙ্গাত।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024