মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

দেশে অপশাসন চলছে – রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর দিলারা চৌধুরী

  • Update Time : শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪, ৬.০৬ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী বলেছেন; একটি দেশ উন্নত হতে হলে সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মেধাবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে গঠনমূলক রাজনীতি চর্চার সুযোগ নেই। দেশে এখন ফ্যাসিবাদী, আগ্রাসী শাসন চলছে’, নতুন সৃষ্টিশীল রাজনীতি বিকশিত হওয়ার পথে এটা বিরাট অন্তরায়।

আজ ২৭ এপ্রিল ২০২৪ শনিবার আমার বাংলাদেশ পার্টি- এবি পার্টির উদ্যোগে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ ঘোষণার স্মৃতিচারণ ও উদ্যোক্তাদের পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। উল্লেখ্য পাঁচ বছর আগে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের মূলনীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের অভিপ্রায়ে ঘোষিত হয় জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামক রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। যার মাধ্যমে পরবর্তীতে গড়ে ওঠে নতুন রাজনৈতিক দল আমার বাংলাদেশ পার্টি- এবি পার্টি। আজ ছিল জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনের ৫ম বর্ষ এবং সে উপলক্ষ্যে স্মৃতিচারণ ও পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এবি পার্টির আহবায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই স্মৃতিচারণ ও পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, মানবাধিকার কর্মী রুবী আমাতুল্লাহ, অভিনেত্রী ও সংগঠক আরজুমান্দআরা বকুল। পুনর্মিলনীতে স্মৃতিচারণ করেন এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, এবি পার্টির দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, যুবপার্টির আহবায়ক এবিএম খালিদ হাসান, কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্যসচিব এম আমজাদ খান প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিলারা চৌধুরী বলেন, নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ ঘোষণার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম। সকল প্রতিকূলতা ও সমস্যা সামনে রেখে জনআকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু করে এবি পার্টি আজ যে পর্যায়ে এসেছে তাতে তাদের সাধুবাদ জানাতে হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের মুল বক্তব্যের আলোকে এই দেশকে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেটে পরিনত করার যে চ্যালেঞ্জ এবি পার্টি গ্রহণ করেছে সেটাও অনেক কঠিন। একটি দেশ উন্নত হতে হলে সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মেধাবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে গঠনমূলক রাজনীতি চর্চার সুযোগ নেই। দেশে যে ফ্যাসিবাদী, আগ্রাসী শাসন চলছে’, নতুন সৃষ্টিশীল রাজনীতি বিকশিত হওয়ার পথে এটা বিরাট অন্তরায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সোলায়মান চৌধুরী বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক উদ্যোগের সাথে যখন আমি যুক্ত হয়েছিলাম তখন আসলে অনেক কিছুই পরিস্কার ছিলোনা। সবকিছু বুঝতে ও গুছিয়ে উঠতে আমাদের ছয়মাস লেগেছে। সেই সময় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা অফিসে বসতাম কখন একজন মানুষ অফিসে এসে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইবে সেজন্য অপেক্ষা করতাম। আপনাদের সহোযোগিতায় আজ পার্টির প্রায় চল্লিশ জেলায় কমিটি হয়েছে। গতকাল খুলনায় দিনব্যাপী যে রাজনৈতিক কর্মশালা হয়েছে সেখান এই তাপদাহের মধ্যেও পঞ্চাশ জন উপস্থিত ছিলেন যারা সবাই জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা। আমাদের এখন মাঠপর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে অগ্রনী ভুমিকা নিতে হবে।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রুবী আমাতুল্লাহ বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ কখনো ইসলাম বিরোধী হতে পারেনা। কিন্তু বাংলাদেশের অনেকের মধ্যেই রাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। রাজনীতি মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই যা এবি পার্টি করছে। যা শুরু হয়েছিলো জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামক প্লাটফর্ম ঘোষণার মধ্য দিয়ে। সেই ঘোষণার দিন আমি তাদের শুভ কামনা জানাতে উপস্থিত ছিলাম। তাদের ভালো কাজের সাথে সামনেও আমার সমর্থন থাকবে ইনশাআল্লাহ।

জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্যোগের শুরুতেই বেশির ভাগ মানুষ আমাদেরকে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি সামাজিক সংগঠনকে দিনশেষে রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করা যায়না। যার ফলশ্রুতিতে আমরা প্রথমে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামক রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করে এক বছর সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের সাথে মতবিনিময় করে আমার বাংলাদেশ পার্টি – এবি পার্টি গঠন করি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওনা যে শুন্য থেকে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পেরেছি। তিনি জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনের সময় উদ্যোক্তা যারা ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্মৃতিচারণ করেন এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের ঘোষণা ছিলো আমাদের জীবনের বিরাট চ্যালেঞ্জ। যখন একটি গ্রুপ দল বদলের ঘটনাকে ধর্ম বদলের মতো চিন্তা করে। যখন প্রকাশ্যে আমাদেরকে জাহান্নামি, কাফের ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। একসময় এই রাষ্ট্র মেরামতের কাজও আমরাই করবো ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী আরজুমান্দআরা বকুল জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের ঘোষণা ও এবি পার্টি গঠন নিয়ে বলেন, আমি রাজনীতি করিনা কিন্তু এবি পার্টির সকলের ভালোবাসায় আমি এখানে আসতে বাধ্য হই। আমি আশা করি বাংলাদেশ পুনর্গঠনে এবি পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন এবি পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক শাহজাহান ব্যাপারী, যুবপার্টি গাজীপুরের আহবায়ক মাসুদ জমাদ্দার রানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, কেফায়েত হোসেন তানভীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য রফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা রিপন মাহমুদ প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024