রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

সবল ব্যাংকের সাথে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া কি হোঁচট খেল?

  • Update Time : সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪, ১১.১৬ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

জান্নাতুল তানভী

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে সংস্কার করতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সাথে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি ব্যাংকই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

ফলে ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া শুরুতেই হোঁচট খেল কি না এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যথাযথ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করে যাচাই-বাছাই ছাড়া এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া বরং আর্থিক খাতে আরো নতুন সংকটের সৃষ্টি করবে। হুমকির মুখে পড়তে পারে ভালো ব্যাংকগুলোও।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যেসব ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় আসবে না, সেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানালে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।

 

যে কারণে ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক আছে।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মধ্যে ৪০টির মতো ব্যাংক ভালো করলেও বাকি ব্যাংকগুলোর অবস্থা সুবিধাজনক নয়।

ব্যাংকিং খাতে কোনো দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকলে পুরো খাতই ঝুঁকির মাঝে থাকে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে। খারাপ ব্যাংকগুলোকে ভালোগুলোর সাথে একীভূত করা গেলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, “কোনো ব্যাংক যদি পিসিএ’র পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে না পারে, তখন মার্জারের মতো অপশনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকবে।”

২০২৩ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন (পিসিএ) ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক এক সার্কুলার দেয়।

দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট কাটিয়ে তোলার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই ফ্রেমওয়ার্কটি তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগবে।

এতে আরও উল্লেখ আছে যে ব্যাংকগুলো যদি পিসিএ বাস্তবায়ন করতে না পারে এবং দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়, তাহলে একীভূত করার মতো পদক্ষেপও নিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পরে গত ৪ঠা এপ্রিল ব্যাংক একীভূতকরণের (মার্জার) বিষয়ে নীতিমালা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নীতিমালা অনুযায়ী খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, ব্যবস্থাপনা ও তারল্য- এ চারটি সূচকে প্রত্যাশিত মানদণ্ডের নিচে থাকা ব্যাংকগুলোই ‘দুর্বল’ হিসেবে চিহ্নিত হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে।

যেসব ব্যাংকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া

ব্যাংকিং খাত সংস্কারের এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে সরকারি-বেসরকারি খাতের দশটি ব্যাংককে একীভূত করে পাঁচটিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।

এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো ব্যাংককে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় না আনার সিদ্ধান্ত ও নিয়েছিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একীভূতকরণ নীতিমালা প্রকাশের পর সিদ্ধান্ত হয় কোন ব্যাংক কার সাথে একীভূত হবে।

এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংক, সোনালী ও বিডিবিএল, কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সিটি ও বেসিক ব্যাংক এবং ইউসিবি ব্যাংকের সাথে ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন বৈঠকে এসব ব্যাংক একীভূতকরণ করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে, এসব বৈঠকে বেসিক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

এরই মধ্যে পদ্মা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত শুধু এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংকের জন্য অডিটর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

এরপর বেশ কিছু ধাপের প্রস্তুতি শেষ করার পর ব্যাংকগুলোকে আদালতে গিয়ে একীভূত হওয়ার অনুমতি চাইতে হবে। আদালত অনুমতি দিলে তারপর ব্যাংকগুলো একীভূত করার চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে।

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় আপত্তি যে কারণে

ইউসিবি ব্যাংকের সাথে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় যেতে আগ্রহী নয় দেশের প্রথম দিকের বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। ৪০ বছরের পুরোনো এ ব্যাংকটি গত শনিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বিবিসি বাংলাকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গণমাধ্যমে মি. আনোয়ার বলেন, “কোনো ব্যাংক আমাদের একীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনো ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের একীভূত হতে বলেনি। ফলে কারও সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। একীভূত হতে হলে দুই পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন। না হলে সেটা অধিগ্রহণ হয়ে যায়। আমাদের নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা ব্যাংকটিতে ভালো করা যায় কি না চেষ্টা করে দেখি।”

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির তখনকার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠন করে দেয়া নবগঠিত এই পরিচালনা পর্ষদ এখনই একীভূত না হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই খেলাপি ঋণ, সাধারণ ঋণ আদায় জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে চায় তারা। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

ব্যাংকটির এমন সিদ্ধান্তে কোনো বক্তব্য নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া একীভূত হতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর উপর কোনো ধরনের চাপ থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, “ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একীভূত না হওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো বক্তব্য নেই।”

“একীভূতকরণের যেসব প্রক্রিয়া রয়েছে সেগুলোকে জোর করে এই প্রক্রিয়াতে আনার কিছু নেই। যে সার্কুলার দেয়া হয়েছে তাতে ব্যাংকগুলোর ইজিএম করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া ডিফাইন করে দেয়া আছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে তাদের এই প্রক্রিয়া অনুসরণে বাধ্য করবে, এখানে জোর করে করানোর কিছু নেই,” বলেন মি. হক।

যেসব ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না তাদের বিষয়ে মি. হক বলেন, “যারা আসবে তাদেরটা হবে। যেসব ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় আসবে না, সেটা সেভাবেই তাদের বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাবে। পরে সেভাবেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।”

এর ফলে সবল ব্যাংকের সাথে দুর্বল ব্যাংকের একীভূত করার প্রক্রিয়া হোঁচট খেল কি না এমন প্রশ্নে মি. হক বলেন, “প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা শুধু মধ্যস্থতাকারী হিসেবেই আছি। নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রোল বলে দেয়া হয়েছে। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।”

এর আগে, গত ৯ই এপ্রিল ইউসিবি ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীকে সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার পরামর্শ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, ন্যাশনাল ব্যাংককে এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। যদিও বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এছাড়া, সিটি ব্যাংকের সাথে একীভূতকরণে আপত্তি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে স্মারকলিপি দিয়েছে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আমানতকারীদের আতঙ্ক

একীভূতকরণের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই ব্যাংকগুলো থেকে আমানতকারীরা অর্থ তুলে ফেলার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

এরই মধ্যে বেসিক ব্যাংক এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠিও দিয়েছে।

এপ্রিল মাসের গত তিন সপ্তাহে ব্যাংকটি থেকে আমানতকারীরা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। গত বছরের জুনে ব্যাংকটির আমানত ছিল ১৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দুই ব্যাংকের হিসাবধারীরা আগের মতোই তাদের নিজ নিজ হিসাব চালিয়ে যেতে পারবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে।

কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, একীভূত হওয়া ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের তিন বছরের মধ্যে ছাঁটাই করা যাবে না। তারপরও যেসব দুর্বল ব্যাংকের নাম একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় এসেছে সেখানকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার খবরও আসছে।

সিটি ব্যাংকের সাথে একীভূত হতে যাওয়া বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। যদিও সিটি ব্যাংক বলছে আগামী অন্তত চার বছর কারও চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

এর মধ্যে, এক বছর একীভূত হওয়ার প্রস্তুতিকাল এবং এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন বছর কাউকে ছাঁটাই না করার নির্দেশনা মানতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে।

“আমরা ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমনিতেই মানবিক বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। আমাদের সাথে এসে কাউকে কেন চাকরি হারাতে হবে। আমি আশা করি চার বছরের গ্যারান্টির সময়ের পরও সবাইকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারবো,” বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

ঢাকায় ব্যাংক পাড়া বলে পরিচিত মতিঝিল এলাকা

যা বলছেন অর্থনীতিবিদরা

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রক্ষার নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে তা আর্থিক খাতের সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হচ্ছে না বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এই প্রক্রিয়া দিয়ে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। বরং আরো নতুন সমস্যার সৃষ্টি হবে। চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করলেই হবে না। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।”

“রিয়েল অডিট হয়েছে কি না, যাচাই-বাছাই ছাড়া চাপিয়ে দিয়ে একীভূত করলেই ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এমন ভাবার কারণ নেই। বরং যে ব্যাংকগুলো খারাপ হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার অভাবের মতো বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ না করে একীভূত করলে ভালো ব্যাংকগুলো হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কা থাকে,” বলেন মিজ খাতুন।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে নীতিমালা করেছে তাতে বলা হয়েছে, খারাপ ব্যাংকের পরিচালকরা ব্যাংক একীভূত হওয়ার পাঁচ বছর পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে পারবে না। পরে আবার হতে পারবে এই বিধানের সমালোচনা করেন অর্থনীতিবিদরা।

এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করার আশঙ্কাসহ নানা অনিশ্চয়তা থাকায় এই প্রক্রিয়া কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা।

বিবিসি নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024