শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদে ‘তিথিডোর’ নিয়ে আসছে মেহজাবীন চৌধুরী কলেজ ছাত্র মুরাদ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা ফের আইটেম গানে প্রিয়া অনন্যা স্মার্ট কর্মক্ষেত্র বুদ্ধিনির্ভর কাজের ক্ষমতা বাড়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদুর রশীদের মৃত্যুতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শোক প্রকাশ চে গেভারা যেভাবে কিউবার সশস্ত্র বিপ্লবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন ট্রাম্প পুনঃনির্বাচিত হলে ইউয়ানের উপর চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা বাড়তে পারে মিরনজিল্লার হরিজন সম্প্রদায়কে পূনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা যাবে না নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের তিনটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ মারা গেছেন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৬৫)

  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ১১.০০ পিএম

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গিরিয়া হইতে অর্দ্ধ ক্রোশের কিছু অধিক দক্ষিণপূর্ব্ব মিঠিপুর নামে এক গ্রাম আছে; মিঠিপুর হইতে খামরা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রান্তরের নামই জালিম সিংহের মাঠ।  গিরিয়া হইতে খামরা দুই ক্রোশের অধিক পূর্ব্বে অবস্থিত। জালিম সিংহের মাঠের নিকট আকবরপুর নামে এক খানি ক্ষুদ্র গ্রাম আছে। মিঠিপুর গ্রামে কয়েকঘর চৌহান রাজপুত বাস করেন। তাঁহারা এই রূপ বলিয়া থাকেন যে, প্রতাপাদিত্যের পরাজয়ের পর, ভবানন্দ মজুম- দারকে নদীয়ায় প্রতিষ্ঠিত করিয়া যৎকালে মানসিংহ ভাগীরথীর পূর্ব্বতীরস্থ প্রসিদ্ধ বাদসাহী সড়ক দিয়া দিল্লী গমন করিতেছিলেন, সেই সময়ে তাঁহারা খামরা পর্যন্ত অগ্রসর হইলে, মানসিংহের অনুচর কতিপয় চৌহান রাজপুত কোন কারণবশতঃ দিল্লী যাইতে ইচ্ছা না করিয়া মিঠিপুরে আপনাদিগের বাসস্থান নির্দেশ করেন; বর্তমান চৌহানগণ তাঁহাদিগের বংশধর বলিয়া আপনাদিগের পরিচয় দেন।

বিজয় সিংহ মিঠিপুরস্থ রাজপুতবংশীয় কি রাজপুতনা হইতে নবাগত, তাহার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। মিঠিপুর ও গিরিয়ার মধ্যে কাণা- পুকুর নামে একটি ক্ষুদ্র পুষ্করিণী আছে। এইরূপ প্রবাদ আছে যে, যুদ্ধের সময় জলাভাব বশতঃ যুদ্ধাস্ত্রদ্বারা তাহা খনন করা হইয়াছিল। বর্ষাকাল ব্যতীত অন্যসময় তাহা শুদ্ধাবস্থায় অবস্থিতি করে। দীঘল গিরিয়া ও ছোট গিরিয়া নামে এক্ষণে প্রায় পরস্পর সংলগ্ন দুই খানি গ্রাম হইয়াছে। দীঘল গিরিয়া হইতেই ছোট গিরিয়ার উৎপত্তি। অষ্টাদশ শতাব্দীর যুদ্ধের সময় হইতে বর্তমান সময় পর্যন্ত গিরিয়া গ্রামের মধ্যে মধ্যে স্থান পরিবর্তন ঘটিয়াছে বলিয়া বোধ হয়।

মীর কাসেমের সৈন্যের সহিত ইংরেজদিগের যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তাহার স্থল বিভিন্ন। এই যুদ্ধ কেবলই ভাগীরথীর পশ্চিমতীরে বাঁশলই নদীর মোহানার নিকট হইয়াছিল। সে স্থানের কিয়দংশ ভাঙ্গিয়া গিয়াছে এবং ভাগীরথীর পূর্ব্বতীরে লালখাঁর দেওয়াড় নামে সুবৃহৎ চরে পরিণত হইয়াছে। লালখার দেওয়াড় এক্ষণে এক খানি বিস্তৃত পল্লী হইয়া উঠিয়াছে। বাঁশলইয়ের বর্তমান মোহানা হইতে পূর্ব্ব মোহানা অপেক্ষাকৃত পূর্ব্বদিকে ছিল; এক্ষণে তাহা লালখাঁর দেওয়া- ড়ের গর্ভস্থ। বাঁশলই রাজমহল পর্ব্বতশ্রেণী হইতে বহির্গত হইয়া নানা- স্থলে বক্রগতি অবলম্বনপূর্ব্বক জঙ্গীপুরের নিকট কানুপুর নামক স্থানের উত্তরে ভাগীরথীর সহিত মিলিত হইয়াছে।

এই কানুপুরে বহুসংখ্যক দস্যুর বাস ছিল। এইরূপ প্রবাদ আছে যে, তাহারা খাইবার গিরিপথ হইতে উড়িষ্যা পর্যন্ত সর্ব্বত্র দস্যুবৃত্তি করিত। বাঁশলইএর মোহানা হইতে সূতী তিন ক্রোশেরও অধিক উত্তর হইবে। মীর কাসেমের সৈন্য কাটওয়া ও মোতৗঝিলের নিকট পরাজিত হইয়া সূতীতে আসিয়া অন্যান্য সৈন্যদের সহিত মিলিত হয়। সূতীতে মীর কাসেমের ইউরো- পীয় ও আর্ম্মেণীয় সেনাপতি সমরু ও মার্কার অবস্থিতি করিতেছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024