সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

“আমরা শুধু তেলাপিয়া আর চাষের পাঙাস খাই”

  • Update Time : সোমবার, ২০ মে, ২০২৪, ৩.১০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

আনজুর বয়স পঞ্চাশের মত হবে, তবে দেখতে ষাট পেরিয়ে গেছে বলেই মনে হয়। ফারজান মিলি তার গৃহকত্রী, সে বাসায় পার্ট টাইম কাজ করে আনজু।  মিলি ৫৫ পেরিয়ে গেলেও আনজুকে তার থেকে অন্তত পনের বিশ বছরের বড় দেখায়।

 

বেশ বড় একটা তপসে মাছ কাটতে কাটতে আনজু বলে,  আপনারা কত রকম মাছ খান। আজ তো বাজার থেকে এনেছেন, তপসে, সিলিন্দা, দুই ধরনের বড় চিংড়িং কাচকি, ইলসে খয়রা, মৌটি। আমরা শুধু তেলাপিয়া আর চাষের পাঙাস খাই। আনজু’র গৃহকত্রী’র মুখটার রঙ একটু বদলে যায়। তার মন খারাপ লাগে।

 

 

কিন্তু  বাজারে তিনি মাত্র দুই কেজি বড় তপসে পেয়েছেন একজন মাছ বিক্রেতার কাছে। তাও বারো’শ টাকা কেজি। খাটি সিলিন্দা পেয়েছেন মাত্র দেড় কেজি। তাও কয়েক সপ্তাহ যাবত তার পরিচিত মাছ বিক্রেতাকে বলার পরে এই সপ্তাহে তাকে দিয়েছে। এই দেড় কেজি মাছ তাকে দেবার জন্যে ওই মাছ বিক্রেতা অনেকট লুকিয়ে রেখেছিলেন। ওই মাছ তাকে দিতে দিতে মাছ বিক্রেতা জামাল বলে, দেশী মাছ সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। নদী গুলোতে যে কী আকাল হলো! আর বিলে তো এখন আর মাছ নেই বললে চলে। মাছ কিনতে কিনতে মিলি’র  মনে পড়েছিলো তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের শেষ অধ্যায়। সেই তিতাস শুকিয়ে যাওয়ার পরে জেলেদের অবস্থা।

 

 

ঠিক একই ধরনের কথা তাকে শুনতে হলো বাজারে তার পরিচিত মুরগি ব্যবসায়ী মনিরের কাছে। শুক্রবারেও মনিরের মুরগির দোকানে ভীড় নেই। মুরগিও বেশি নেই। মনিরই একমাত্র দোকানি এ বাজারে যে প্রকৃত দেশি মুরগি বিক্রি করে। তার কাছে মোরগ ও  মুরগরি সংখ্যা কম দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মনির ভালো মোরগ নেই কেন?  মনির বলে, এ সপ্তাহে মাল আরো কম।  মাল পাওয়া যায়নি।

 

 

মনিরের তিনটি খাঁচায় মাত্র চারটি দেশী মুরগীর বাচ্চা ছিলো। ফারজানের ৮টা দরকার ছিলো, বাধ্য হয়ে চারটেই সে কেনে। মুরগির বাচ্চাগুলোও খুব একটা ভালো ছিলো না। সাধারণত শুক্রবারে আগে এর থেকে ভালো দেশী বাচ্চা পাওয়া যেতো। মিলি সেখানে থাকতেই পঞ্চাষোর্ধ এক ক্রেতা সেখানে ঢোকেন। মনিরের কাছে দেশী মুরগীর দাম শুনেই তিনি আতকে উঠেনে।

 

তখন মনির বলে,  এ তো দেশী মুরগী ওই তো দেখেন সামনের সব গুলো দোকানে কক ( সাধারণত পাকিস্তানী একটি মুরগির জাতকে তারা কক বলে) সেখানেও ক’জন কাস্টমার আছে? সব মুরগরি দাম বেশি। মানুষ গোশত খাওয়া ছেড়ে দেবে। দুই দিন আগে গ্রামে গিয়েছিলাম,  সেখানে চায়ের দোকানে একজন ঠাট্টা করে বলে, একমন ধান বেচে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে হয়।মিলি মনে মনে ভাবে, তাদের সংসারে কম বয়সী কেউ নেই। থাকলে তাকে তো আবার গরুর মাংস কিনতে যেতে হতো। সেখানে না জানি কী অবস্থা?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024