সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেরদৌসের আয়োজনে ‘উচ্ছ্বাসে উৎসবে’ মুগ্ধতা ছড়ালেন তারা ওকে গাইতে দাও (পর্ব-২) বিদেশে শিক্ষা বাণিজ্যে পা রাখার চেষ্টা করছে চায়না সুচিকিৎসা পাচ্ছেন বলেই খালেদা জিয়া এখন পর্য্যন্ত সুস্থ আছেন: আইনমন্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বিসিপিএসকে কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির সরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বহুমাত্রিক করেছে : প্রধানমন্ত্রী জনগণের সম্মতি ছাড়া রেল চলালচলের চুক্তি মানিনা – ‘এবি পার্টি’ যুদ্ধ এবং ‘এআই’ বরেন্দ্র এলাকায় পানির হাহাকার: মাটির নিচের পানি কোথায় গেলো? চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে স্পেশাল ট্রেন আরও এক মাস সময় বাড়ালো

দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪, ১০.০৩ এএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

ইত্তেফাক এর একটি শিরোনাম “দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে”

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ১৫৬টি উপজেলায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এর আগে গত ৮ মে প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটে ইসির প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি হয়নি। মোট ভোট পড়েছিল মাত্র ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসি। সেজন্য কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে এবং নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় পর্যাপ্ত এবং কোথাও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের সুপারিশ করেছে ইসি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সে হিসাবে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮-১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০-২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

আবার উপজেলার আয়তন, ভোটার সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে  উপজেলায় ২-৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বিবেচনায় ১৬ উপজেলায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপের এই নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২২ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে সাতজন চেয়ারম্যান, আটজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাতজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। রাউজান ও কুমিল্লা আদর্শ সদর– এই দুই উপজেলায় তিনটি পদেই একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এসব উপজেলায় ভোট করার প্রয়োজন পড়ছে না।

এই পর্বে ১৩ হাজার ১৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ ৯১ হাজার ৫৮৯টি। ভোটার তিন কোটি ৫২ লাখ চার হাজার ৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক কোটি ৭৯ লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৪ জন এবং নারী এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন। হিজড়া ভোটার ২৩৭ জন।

এই ধাপে মোট এক হাজার ৮২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের জন্য তফসিল হয়েছিল ১৬১ উপজেলার। স্থগিত, ধাপ পরিবর্তন ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোট হচ্ছে ১৫৬ উপজেলায়।

প্রথম আলর একটি শিরোনাম “সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা”

দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার (বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতের পর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আজিজ আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অযোগ্য ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে সাবেক জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে, পূর্বে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, ফরেন অপারেশন অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্টের ৭০৩১ (সি) ধারার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে আজিজ আহমেদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য হবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর (আজিজ আহমেদ) কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অবমূল্যায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আজিজ আহমেদ তাঁর ভাইকে বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি এড়াতে সহযোগিতা করেন। এটা করতে গিয়ে তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন। এ ছাড়া অন্যায্যভাবে সামরিক খাতে কন্ট্রাক্ট পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য সরকারি নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন।

আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করা হলো। সরকারি সেবা আরও স্বচ্ছ ও নাগরিকদের সেবা লাভের সুযোগ তৈরি, ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মুদ্রা পাচার ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অপরাধের অনুসন্ধান ও বিচার নিশ্চিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টায় সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

বণিক বার্তার একটি শিরোনাম “সাত মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডলার রিজার্ভ কমেছে ১ বিলিয়নের বেশি”

আমদানি দায় ও ঋণ পরিশোধের জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের বিদেশী হিসাবে (নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট) ডলার জমা রাখে। গত অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা ডলারের রিজার্ভ বেড়েছিল ৬ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরে তা ক্রমেই নিম্নমুখী। বিশেষ করে গত সাত মাসে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ কমেছে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। ব্যাংকগুলোর দায় পরিশোধের তুলনায় ডলার প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণেই মূলত এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাছাড়া সোয়াপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার সরবরাহের কারণেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত এপ্রিল শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা ডলারের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫০৪ কোটি ৭৩ লাখ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫৪৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডলার স্থিতি ছিল ৫৯০ কোটি ৫ লাখ। এর পরের মাস আগস্টে তা কিছুটা কমে ৫৮০ কোটি ৮৭ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ছিল। এরপর থেকে তা ক্রমেই কমতে থাকে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে ৫৯২ কোটি ৪০ লাখ, নভেম্বরে ৫৯৭ কোটি ৯ লাখ, ডিসেম্বরে ৫৫৫ কোটি ৯৭ লাখ, জানুয়ারিতে ৫৮৪ কোটি ৪২ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৫৫৩ কোটি ৪৫ লাখ ও মার্চে ৫৪৩ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের রিজার্ভ ছিল দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে।

সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির কারণে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে এসেছে। জুলাই-মার্চ সময়ে ৪৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল ৫৩ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

আমদানি কমার বিপরীতে এ সময় অবশ্য দেশের রফতানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রফতানি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ৪৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের। সে হিসাবে এ সময়ে রফতানি বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উৎস রেমিট্যান্স আহরণও কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ১৯ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৭ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স।

আমদানি কমার বিপরীতে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও দেশের রিজার্ভ ক্রমেই নিম্নমুখী। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) স্বীকৃত বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ গত এপ্রিল শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে। রিজার্ভ ক্ষয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট বা আর্থিক হিসাবের ঘাটতি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এ ঘাটতি ৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।

আর্থিক হিসাবে এ ঘাটতিকে উসকে দিয়েছে রফতানির অপ্রত্যাবাসিত অর্থ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে নিট ট্রেড ক্রেডিট ছিল ঋণাত্মক ১২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। দেখা যাচ্ছে, রফতানির পরিমাণ বাড়লেও এর বড় একটি অংশ অপ্রত্যাবাসিত থেকে যাচ্ছে, যার প্রভাবে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে ও রিজার্ভে ক্ষয় হচ্ছে।

সরকার বর্তমানে বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নেয়ার চেয়ে পরিশোধ করছে বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে নিট বিদেশী ঋণ ছিল ঋণাত্মক ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা সত্ত্বেও দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোকে কিছু ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ডলার আসছে না। এ কারণেই ব্যাংকগুলোর ডলারের রিজার্ভ কমে গেছে। কমেছে তাদের দায় শোধের সক্ষমতাও। যদিও দায় সামনে আরো বাড়বে।’

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দূরদর্শী নীতি গ্রহণ জরুরি জানিয়ে এ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ‘ডলারের দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, কোনো কারণে যেন এ থেকে পিছিয়ে না আসা হয়। তবে এটি একটি মধ্যবর্তী পন্থা, শেষ পর্যন্ত আমাদের পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের দিকেই যেতে হবে। এতে হয়তো একলাফে ডলারের দাম বেড়ে যাবে, কিন্তু পরিস্থিতি উত্তরণে এটি সহ্য করতে হবে আমাদের। ডলারের দাম বাজারভিত্তিক হয়ে গেলে রফতানি অর্থ প্রত্যাবাসনে গতি আসবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যদি ডলারের প্রবাহ বাড়ে তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

এদিকে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এতে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রবাসীদের কাছ থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ উৎসাহিত করতে বর্তমানে দেশের ৩০টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

ডলার সংকটের মধ্যে একসঙ্গে এত ব্যাংক এমডির বিদেশ সফর নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনাও চলছে বেশ। তাই এ বিষয়ে ব্যাংক এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি) গতকাল এক বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সেলিম আর এফ হোসেন স্বাক্ষরিত সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিজ (ডিওজে) ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সংলাপের আয়োজন করেছে। ২০-২৩ মে আয়োজিত এ ষষ্ঠ বার্ষিক ইউএস-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ব্যাংকিং সংলাপে বাংলাদেশের ২৬টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে অংশ নিতে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। ডিওজের এ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর অগ্রণী, ব্র্যাক, সিটি ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এমডিরা নিউইয়র্কে অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট প্রোডাক্টসের প্রসারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। চার ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ডলার ডিপোজিট আহরণের এ প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের ব্যাংকিং সংলাপটির কোনো সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের আমন্ত্রণে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। পাশাপাশি চার ব্যাংক মিলে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ কার্যক্রমকে প্রসারিত করতে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৩০০-৩৫০ বাংলাদেশী ও বিদেশীরা থাকবেন। দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে।’

 

মানবজমিন এর একটি শিরোনাম “ভারতের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সংখ্যা অনেক কমেছে, বিজেপির প্রার্থী একজন”

ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারে বারবার উঠে এসেছে সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ। নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যে একটা বড় টার্গেট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নজরে থাকলেও ২০১৯-সালের তুলনায় রাজনৈতিক দলগুলো দেশটির চলতি লোকসভা নির্বাচনে অনেক কম সংখ্যক মুসলিমকে প্রার্থী করেছে। ২০১৯-এ মোট ১১৫ জন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও এবার সেই সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২৪-এর নির্বাচনী ময়দানে মাঠে নেমেছেন মাত্র ৭৮ জন মুসলিম প্রার্থী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়ে বলা হয়ঃ বিজেপি চলতি লোকসভা নির্বাচনে একজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছে। বিহারে বিজেপির সহযোগী জেডি(ইউ) আরও একজনকে প্রার্থী করেছে। প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি থেকে আরজেডি, এনসিপি থেকে সিপিআই(এম) সর্বত্রই চিত্র মোটামুটি একই। এবারের লোকসভার ময়দানে ৭৮ জন মুসলিম প্রার্থীকে মাঠে নামানো হয়েছে। এই সংখ্যাটাই ২০১৯ সালে ছিল ১১৫।

২০১৯ সালে, ২৬ জনের মতো মুসলিম প্রার্থী সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে কংগ্রেস ও টিএমসি থেকে চারজন, বিএসপি ও এসপি থেকে তিনজন এবং এনসিপি ও সিপিআই(এম)-এর একজন করে। অন্যরা আসামের এআইইউডিএফ, তৎকালীন লোক জনশক্তি পাসওয়ান, আইইউএমএল এবং জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের।

এদিকে, বিএসপি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩৫ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশে অর্ধেকেরও বেশি, ১৭ জন রয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের চার জন ছাড়াও, বিহার ও দিল্লিতে তিন জন, উত্তরাখণ্ডে দুই জন, এবং রাজস্থান, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা এবং গুজরাটে একজন করে মুসলিম প্রার্থীকে ভোটযুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে।

বিএসপি এর আগের ১৯-এর লোকসভা ভোটে ৩৯ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল। এবার উত্তর প্রদেশে বিএসপির ১৭ জন মুসলিম প্রার্থী থাকলেও, ২০১৯ সালে, রাজ্যে মাত্র ৬জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল দল।

কংগ্রেস এবার লোকসভা নির্বাচনে ১৯ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছে। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা ৬ , তারপর অন্ধ্রপ্রদেশ, আসাম, বিহার এবং উত্তর প্রদেশে ২ জন করে এবং কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও লাক্ষাদ্বীপ কেরালা, উড়িষ্যায় একজন করে মুসলিমকে প্রার্থী করেছে দলটি।

২০১৯-এর ভোটে কংগ্রেস ৩৪ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলায় এবং ৮ জন ইউপিতে। এর মধ্যে জিতেছে মাত্র চারটি আসনে। কিন্তু, কংগ্রেস ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ১০০ টি কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে চলতি নির্বাচনে। ১৯-এ কংগ্রেস ৪২১টি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও এবার দল মাত্র ৩২৮টি আসনে লড়াইয়ে নেমেছে।

টিএমসি এবার তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিমকে প্রার্থী করেছে। মোট ৬ জনকে ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে দলটি। এর মধ্যে ৫ জনই লড়ছেন বাংলা থেকে। এর পাশাপাশি আসামে একজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছে দলটি। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩।

মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও, এসপি এবার মাত্র চারজন মুসলিম প্রার্থীকে ভোটযুদ্ধে নামিয়েছে। এসপির মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে এখন তিনজন উত্তর প্রদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর চতুর্থজন অন্ধ্র প্রদেশ থেকে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।

আরজেডি, মুসলিম-যাদব ভোটব্যাঙ্ক সহ আরেকটি দল, এবার বিহারে দুজন মুসমিলকে প্রার্থী করেছে, ২০১৯-এ এই সংখ্যা ছিল ৫।

২০১৯ সালে, বিজেপি ৪৩৬টি আসন জুড়ে তিনজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল, যার মধ্যে কেউ জেতেন নি। ২০১৪ সালে, বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪২৮টি আসনে। সেবার সাতজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল দলটি, সেবারও কেউ জয়ী হন নি। এবার বিজেপি ৪৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যার মধ্যে একজন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন।

 

 

The Daily Star বাংলার একটি শিরোনাম “সহজ হচ্ছে বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী”

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় এপোস্টল কনভেনশন স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই কনভেনশনে স্বাক্ষর সম্পাদন হলে বিদেশগামী  শিক্ষার্থী ও মানুষের বিভিন্ন সনদ, দলিল, হলফনামায় নিজ দেশের যথাযথ সত্যায়ন থাকলে অন্য দেশে গিয়ে পুনরায় সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না। এর ফলে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কার্যকর হলে শিক্ষার্থী, অভিবাসী, কর্মী, পারিবারিক পুনর্মিলন প্রত্যাশীসহ বিদেশগামী সবার যে, নানা ধরনের ডকুমেন্ট এ দেশে এবং বিদেশের দূতাবাসসহ নানা দপ্তরে সত্যায়নের প্রয়োজন হয়, সেটি শুধু এ দেশে সত্যায়ন করলেই হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে সব দেশের দূতাবাস নেই। ৯০টি দেশের দূতাবাস রয়েছে দিল্লিতে। সেখান থেকে সত্যায়ন করে আনতে আবার ভারতের ভিসা লাগে। এসবের জন্য যে অর্থ, সময় ও পরিশ্রম ব্যয় হয়, এই কনভেনশনে যুক্ত হলে তা বেঁচে যাবে।’

এটি কার্যকর হতে প্রায় ছয় মাস লাগবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024