সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেরদৌসের আয়োজনে ‘উচ্ছ্বাসে উৎসবে’ মুগ্ধতা ছড়ালেন তারা ওকে গাইতে দাও (পর্ব-২) বিদেশে শিক্ষা বাণিজ্যে পা রাখার চেষ্টা করছে চায়না সুচিকিৎসা পাচ্ছেন বলেই খালেদা জিয়া এখন পর্য্যন্ত সুস্থ আছেন: আইনমন্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বিসিপিএসকে কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির সরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বহুমাত্রিক করেছে : প্রধানমন্ত্রী জনগণের সম্মতি ছাড়া রেল চলালচলের চুক্তি মানিনা – ‘এবি পার্টি’ যুদ্ধ এবং ‘এআই’ বরেন্দ্র এলাকায় পানির হাহাকার: মাটির নিচের পানি কোথায় গেলো? চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে স্পেশাল ট্রেন আরও এক মাস সময় বাড়ালো

ইসলামি বিপ্লবের পরে ইরানের শাসকদের যে পরিণতি হয়েছে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ৯.৫৪ এএম
ইরানের সাম্প্রতিক রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই তাদের কর্মকালে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৫ বছরের ইতিহাসে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি ছাড়া সব রাষ্ট্রপ্রধানকেই কোনও না কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

হয়তো ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের মৃত্যু অথবা রাজনৈতিকভাবে নিশানা হতে হয়েছে। অথবা কারাবাস করতে হয়েছে এদের মধ্যে কাউকে, কেউবা দেশ ছাড়া হয়েছেন।

অনেককে আবার রাষ্ট্রপতি হিসাবে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত করাও হয়েছে ।

মোহাম্মদ আলী রাজাইয়ের পর এব্রাহিম রাইসি দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, যার মেয়াদ শেষ হয় অকস্মাৎ মৃত্যুর কারণে।

রোববার পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে একটি বাঁধ উদ্বোধন থেকে ফেরার পথে মি. রাইসি যে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করছিলেন সেটা বিধ্বস্ত হয়।

সোমবার উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মৃত্যুর বিষয়টা নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতি রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদ কিন্তু সেই শহর যেখানে ১৯৬০ সালে জন্ম হয়েছিল এব্রাহিম রাইসির।

এমন প্রেক্ষাপটে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের শাসক ও তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অবসানের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

মেহেদী বাজারগান।

মেহেদি বাজারগান: পদত্যাগ

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর সরকারের প্রথম (অস্থায়ী) প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মেহেদি বাজারগান যার বিরুদ্ধে প্রথম দিন থেকেই অভিযোগ ছিল। ওই পদে থাকাকালীন আরও বেশি ক্ষমতা চেয়েছিলেন তিনি।

তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলসহ নানা বাধার সম্মুখীন হওয়ার পরও কিছু করতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের দু’দিন পর দেশবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় মেহেদি বাজারগান জানিয়েছিলেন, যখন কারও সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রীকেও ধর্মীয় নেতার অনুমতির প্রয়োজন হয়, তখন অসহনীয় ব্যথা অনুভব হয়।

আবোলহাসান বানি সদর।

আবুল হাসান বনি সদর: বরখাস্ত এবং পলায়ন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রথম ধর্মগুরু আয়াতোল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আবুল হাসান বনি সদরকে মনোনীত করেছিলেন।

৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছিলেন তিনি।

যুদ্ধ বিষয়ক পরিচালনা এবং ইসলামিক রিপাবলিক পার্টির ‘আরোপিত’ প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী রাজাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধিতা ফাটলকে প্রশস্ত করে।

ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ভূমিকার উপর জোর দিয়েছিলেন মি. সদর, তবে ইসলামিক রিপাবলিক পার্টি চেয়েছিল আইআরজিসি (রিপাবলিকান গার্ডস) আরও বড় ভূমিকা পালন করুক।

কিন্তু তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা খোমেনির তার প্রতি এতটাই আস্থা ছিল যে তিনি সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে আবুল হাসান বনি সদরকে সাধারণ বাহিনীর নেতৃত্ব বসিয়েছিলেন।

আবুল হাসান বনি সদর এবং ইসলামিক রিপাবলিক পার্টির (যাদের ইরানি মজলিসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল) মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে (আবুল হাসান বনি সদর) বরখাস্ত করা হয়।

ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের জুন মাসে ইরানের প্রথম রাষ্ট্রপতিকে তার “রাজনৈতিক অযোগ্যতার” ভিত্তিতে সংসদের চূড়ান্ত ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।

ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন বিচারের সময় আলী খোমেনিসহ আবুল হাসান বনি সদরের বিরোধিরা তার বিরুদ্ধে জোরদার ভাষণ দেন।

বরখাস্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এরপর ফ্রান্সে পালিয়ে যান তিনি এবং বাকি জীবন সেখানেই কাটান।

মোহাম্মদ আলী রাজাই।

মোহাম্মদ আলী রাজাই: বোমা হামলায় মৃত্যু

আবুল হাসান বনি সদরকে বরখাস্ত করার পর ইরানের রাষ্ট্রপতি হন মোহাম্মদ আলী রাজাই।

রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার কয়েক সপ্তাহের কর্মকালে তেমন বিশেষ কিছু ছিল না। ১৯৮১ সালের দোসরা আগস্ট তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সে বছরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ বাহনারের সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটা ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট।

বোমা হামলার জন্য পিপলস মোজাহেদিন অর্গানাইজেশনকে (সাজমান-ই-মুজাহিদিন-ই-খালক) দায়ী করা হয়েছিল, যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এই দায় কখনওই স্বীকার করেনি।

রাজাইয়ের পর প্রেসিডেন্ট হন সৈয়দ আলী হোসেইনি খামেনি। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষে এবং আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্ব্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

বিপ্লবের পর মি. খামেনি ইরান সরকারের একমাত্র শীর্ষপদধারী ব্যক্তি, যিনি তার মেয়াদ শেষে আরও উঁচু পদ লাভ করেন এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাতেও জয়ী হন।

মীর হুসেন মোসাভি।

মীর হুসেন মোসাভি: কারাবাস

আলী আকবর বেলায়েতিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করতে চেয়েছিলেন মি. খামেনি। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। সংসদে আস্থা ভোটে জিততে পারেননি মি. বেলায়েতি। শেষ পর্যন্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে মি. খামেনিকে মীর হুসেন মোসাভির নাম সংসদে প্রস্তাব করতে হয়েছিল।

তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে, মীর হুসেন মোসাভিকে একবার পদত্যাগ পর্যন্ত করতে হয়েছিল।

মি. খামেনির নেতৃত্বে এবং ১৯৮০-এর দশকে সংবিধান সংশোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করা হয়।

এরপর রাজনীতি থেকে অবসর নেন মীর হুসেন মোসাভি এবং ২০ বছরে একবারও জনসমক্ষে আসেননি।

এরপর সেই ২০ বছরের ‘রাজনৈতিক নীরবতা’ ভেঙে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হন তিনি। যদিও তার এই অভিযানে সফল হয়নি।

নির্বাচনের পরে, বিক্ষোভকারীরা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে অপসারণের জন্য জোরদার শুরু করে। এর নাম দেওয়া হয় ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ বা সবুজ আন্দোলন।

বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষের কারণে মীর হুসেন মোসাভিকে গৃহবন্দি করা হয়।

আরব বিশ্বে অস্থিরতার পর ২০১৩ সালের দোসরা ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয় তাকে। এখনও কারাগারেই আছেন তিনি।

আকবর হাশেমি রাফসানজানি।

আকবর হাশেমি রাফসানজানি: ‘সন্দেহজনক’ মৃত্যু

আকবর হাশেমি রাফসানজানি ১৯৮৯ সালে ইরানের রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন। তার মেয়াদের প্রথম চার বছর বেশ কঠিন ছিল।

হেজবুল্লাহর মতো একাধিক সংগঠন তার সাংস্কৃতিক নীতির বিরোধিতা শুরু করে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি রাফসানজানির কর্মকালের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এই দফায় প্রকাশ্যে তার ‘অভিজাত ও মুক্ত বাজার নীতির’ বিরোধিতা করেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।

খোমেনির পর আকবর হাশেমি রাফসানজানিকে ইরানের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ব্যক্তি হিসাবে মনে করা হয়।

২০০৫ সালের নির্বাচনের দ্বিতীয় রাউন্ডে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কাছে হেরে যান তিনি। কিন্তু তার (মাহমুদ আহমাদিনেজাদের) রাজনৈতিক ক্ষমতাচ্যুতির প্রক্রিয়ার নির্ণায়ক মুহূর্ত আসে ২০০৯ সালের ১৭ই জুলাই।

সে বছর নির্বাচনে জিতলেও মি আহমাদিনেজার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। তেহরানসহ ইরানের একাধিক দেশে এ নিয়ে বিরোধিতাও দেখানো হয়েছিল।

এরপর ১৭ই জুলাই তেহরানে জুমার নামাজের সময় মি হাশেমি তার শেষ রাজনৈতিক উপদেশ দেন। বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করেন এবং মাহমুদ আহমাদিনেজাদের নির্বাচনি ফলাফলকে ‘সন্দেহজনক’ বলেও মন্তব্য করেন।

এরপর ২০১৩ সালে আরও একবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। এই খবর অনেকের কাছেই সত্যি চমকপ্রদ ছিল।

সাবেক সংস্কারবাদী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ খাতামি তাকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালের ২১শে মে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল তার মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে।

এর ঠিক দুই বছর পর তিনি ইরানের সংসদের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ মজলিস-ই-খোবরাগানের নির্বাচনে তেহরান থেকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জেতেন।

২০১৭ সালের আটই জানুয়ারি সুইমিং পুলে স্নান করতে গিয়ে তার মৃত্য হয় আকবর হাশেমি রাফসানজানির। তার মৃত্যুকে সন্দেহজনক বলে মনে করা হয়।

২০১৮ সালে তার মৃত্যুর পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন ইরানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি।

মি. রাফসানজানির পরিবারের অভিযোগ, স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গিয়েছিল তার শরীরে।

মোহাম্মদ খাতামি।

মোহাম্মদ খাতামি: সংস্কারকে অগ্রাধিকার

১৯৯৭ সালের ২৩শে মে দুই কোটিরও বেশি ভোট পেয়ে ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মুহাম্মদ খাতামি। তবে মেয়াদের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই তার সরকারে চিন্তার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।

২০০১ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সংস্কারবাদী সংবাদমাধ্যমকে ‘শত্রুর ডেটাবেস’ বলে অভিহিত করেন এবং কয়েক ডজন প্রকাশনা বন্ধ করে দেন।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ খাতামি বলেছিলেন, তার সরকার প্রতি নয় দিনে একবার সংকটের মুখোমুখি হয়।

২০০৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনার পর, ইরানের অভ্যন্তরে প্রচার মাধ্যমে মি. খাতামির ছবি প্রকাশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তার দেশত্যাগের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ইরানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মি. খাতামির সরিয়ে দেওয়া এবং কিছু সংস্কারবাদীর বিরোধিতা সত্ত্বেও গত নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জনগণকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

মাহমুদ আহমাদিনেজাদ: রাগী নেতা

মাহমুদ আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০০৫ সালে। তার নির্বাচনের পর আয়াতোল্লাহ খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ ধর্মগুরুদের বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছিল ইরান রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছে।

কিন্তু এই ‘রাজনৈতিক বন্ধুত্ব’ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জেতেন মি. আহমাদিনেজাদ ।

শপথ অনুষ্ঠানে তিনি ইরানি নেতার হাতের পরিবর্তে কাঁধে চুম্বন করেন। ইরানে এ ধরনের কোনও প্রথা নেই।

কয়েকদিন পরে, তিনি আসফানদিয়ার রহিম মাশাইকে প্রথম ডেপুটি হিসাবে উপস্থাপন করেন। তবে তার এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি মি. খামেনির। ব্যক্তিগত এক চিঠিতে তিনি (মি. খামেনি) বলেছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পছন্দকে সঠিক বলে মনে করেন না।

তারপরেও নিজের সিদ্ধান্ত বদল করেননি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির কার্যালয় তার সেই চিঠি জনসমক্ষে প্রকাশ না করা পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিলেন মি. আহমাদিনেজাদ।

সংঘাত এখানেই শেষ হয়নি। এরপর তথ্যমন্ত্রী হায়দার মোসলেহিকে বরখাস্তের প্রতিবাদ করেন মি. খামেনি। তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আহমাদিনেজাদ।

বরং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ১১ দিন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাননি তিনি। ২০১৭ সালে তৃতীয় দফা রাষ্ট্রপতি হওয়ার চেষ্টা করেন তিন। যদিও গার্ডিয়ান কাউন্সিল তার প্রার্থীপদ প্রত্যাখ্যান করে।

হাসান রুহানি।

বিবিসি নিউজ বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024