সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেরদৌসের আয়োজনে ‘উচ্ছ্বাসে উৎসবে’ মুগ্ধতা ছড়ালেন তারা ওকে গাইতে দাও (পর্ব-২) বিদেশে শিক্ষা বাণিজ্যে পা রাখার চেষ্টা করছে চায়না সুচিকিৎসা পাচ্ছেন বলেই খালেদা জিয়া এখন পর্য্যন্ত সুস্থ আছেন: আইনমন্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বিসিপিএসকে কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির সরকার বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বহুমাত্রিক করেছে : প্রধানমন্ত্রী জনগণের সম্মতি ছাড়া রেল চলালচলের চুক্তি মানিনা – ‘এবি পার্টি’ যুদ্ধ এবং ‘এআই’ বরেন্দ্র এলাকায় পানির হাহাকার: মাটির নিচের পানি কোথায় গেলো? চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে স্পেশাল ট্রেন আরও এক মাস সময় বাড়ালো

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৭৬)

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪, ১১.০০ পিএম

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ভাস্কর পণ্ডিতের মৃত্যুশ্রবণে রঘুজী অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া অবশেষে স্বয়ং সসৈন্যে বাঙ্গলায় আসিয়া উপস্থিত হন। তিনি প্রথমে উড়িষ্যায় আগমন করেন এবং তথাকার শাসনকর্তা দুর্লভরামকে বন্দী করিয়া, বীরভূম প্রদেশ দলিত করিতে করিতে বিহারে উপস্থিত হন। তথায় বিদ্রোহী আফগান সৈন্যদিগের সহিত তাঁহার মিলন সংঘটিত হয়। বিহারে নবাবের সহিত মহারাষ্ট্রীয়দিগের ঘোরতর যুদ্ধ ঘটে। ক্রমাগত যুদ্ধে উভয় পক্ষই অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়া উঠে। বিশেষতঃ নবাবের অনেক আফগানসৈন্য উৎসাহসহকারে যুদ্ধ না করিয়া, বিদ্রোহী আফগানদিগের সহিত মিলিত হইবার জন্য চেষ্টা করিতেছিল। নবাব আফগানদিগের ব্যবহারে অত্যন্ত মর্মাহত হইয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়েন।

সম্মুখে ভীষণ শত্রুগণ সর্ব্বধ্বংসসূচক হুঙ্কার ছাড়িতেছে, এদিকে নিজ সৈন্যগণ বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ব্বক তাঁহার পক্ষ পরিত্যাগ করিতে উত্থত, এরূপ অব- স্থায় নবাবের মন অত্যন্ত বিচলিত হইয়া উঠিল। এক দিন সহসা তিনি অন্তঃপুরমধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া নবাব-বেগমের সম্মুখে উপবিষ্ট হইলেন। নবাববেগম তাঁহাকে বিষন্নচিত্ত দেখিয়া অনুযোগ করিলেন। অনন্তর নবাবের বিষাদের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে, নবাব বলিলেন যে, আমি আমার লোকদিগের মধ্যে অন্ত্যরূপ ভাব দেখিতেছি, কেন যে এ সকল ব্যাপার ঘটিতেছে, বলিতে পারি না। নবাববেগম এই কথা শুনিয়া নিজেই মজঃফর আলি খাঁ ও ফকীর আলি খাঁ নামক দুই ব্যক্তিকে রঘুজীর নিকট দূতস্বরূপ পাঠাইয়া দেন।

যাহাতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয়, তাহাই তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল। তাঁহারা মহারাষ্ট্রীয়দিগের পথপ্রদর্শক ও নবাবের প্রবল শত্রু মীর হাবীবের নিকট উপস্থিত হইলে, মীর হাবীব তাঁহাদিগকে রঘুঙ্গীর নিকট লইয়া যান। রঘুজীও পুনঃ পুনঃ যুদ্ধে পরিক্লান্ত হইয়া মনে মনে সন্ধিস্থাপনে উৎসুক হইলেও মীর হাবীব তাহাতে বাধা দিয়া তাঁহাকে আলিবদ্দীর বিরুদ্ধে বারংবার উত্তেজিত করেন। মীর হাবীবের উত্তেজনায় রঘুজী সন্ধির প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিয়া, মুর্শিদাবাদ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হইলেন। রঘুজীকে সন্ধির প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিতে দেখিয়া, নবাব ও বেগমের পরামর্শানুসারে পুনর্ব্বার নবাবসৈন্যগণ মহারাষ্ট্রীয়দিগের পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করিতে লাগিল এবং তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়া ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিল।

মহারাষ্ট্রীয়গণ যেরূপ নবাব আলিবদ্দী খাঁকে ব্যাকুল করিয়াছিল, সেই রূপ কতিপয় আফগান সেনানীও তাঁহাকে কিছুদিন অশান্তির হিল্লোলে ভাসমান করিয়া তুলে। তাহার প্রধান সেনাপতি মোস্তাফা খা, সমশের খাঁ প্রভৃতি বিদ্রোহী হইয়া বিহার প্রদেশে অত্যন্ত গোলযোগ ঘটাইয়াছিল। মোস্তাফা খাঁ প্রথমে হত হয়। তাহার পর আফগানেরা কথঞ্চিৎ ভগ্নোপ্তম হইয়া কৌশলপূর্ব্বক নবাবের রাজ্যে নানারূপ উৎপাত করিতে থাকে। আলিবন্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা এবং সিরাজউদ্দৌলার পিতা জৈনুদ্দীন তৎকালে বিহারের শাসনকর্তার পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আফগানের। কথঞ্চিং শান্তভাব অবলম্বন করায় জৈনুদ্দীন তাহাদিগকে নিজ সৈন্যগণের অন্তর্ভূত করিতে ইচ্ছা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024