বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ হলে ‘পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’ করতে প্রস্তুত হামাস

  • Update Time : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪, ৯.৫৯ এএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

যুগান্তরের একটি শিরোনাম “ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ হলে ‘পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’ করতে প্রস্তুত হামাস”

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ হলে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করতে প্রস্তুত হামাস এক বিবৃতিতে এমনটি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্সের।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাফা শহরে অভিযান চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সম্প্রতি এক হামলায় একটি শরণার্থী শিবিরে ২৩ শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়। আহত হয় ২০০ জনের বেশি।

শরণার্থী শিবিরে চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বোমা ব্যবহার করেছিল ইসরাইল। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে এমনটা উঠে এসেছে। কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই হামলার ঘটনায় অনেকেই জীবন্ত পুড়ে মারা যায়। বোমার আঘাতে শিশুদের শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেখতে পাওয়া যায় মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশুর লাশও।

 

 

প্রথম আলোর একটি শিরোনাম “ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত, সাজা ঘোষণা ১১ জুলাই”

ব্যবসায়িক নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি আদালত এ রায় দেন। ওই মামলায় আনা ৩৪টি অভিযোগের সব কটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা।

আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেন। আগামী ১১ জুলাই এ মামলায় ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, তাঁকে জরিমানা করার সম্ভাবনাই বেশি।

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটা তাঁর জন্য মর্যাদাহানিকর। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে বোঝাই যায়, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তবে এটাই কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলা নয়। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা চলছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষের পর হোয়াইট হাউস থেকে সরকারি গোপন নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে করা আরও একটি মামলা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরছেন তিনি।

৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। তাঁর হাতে এ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ১২ জন বিচারকের একটি বেঞ্চ। এর আগে তাঁরা রায় নিয়ে ১১ ঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেছেন। এমন সময় এ রায় ঘোষণা করা হলো, যখন কয়েক মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট পদে আসতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে রায়ের কারণে তাঁর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো বাধা আসবে না।

এদিকে এই মামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব’ বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আদালতে অভিযোগ এনেছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। এটাও বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ভুল কিছুই করেননি। প্রতিনিয়ত একই কথা বলছিলেন ট্রাম্পও। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের একাধিকবার বলেছেন, তিনি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

 

 

বণিক বার্তার একটি শিরোনাম “উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব রাখছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি”

টানা ২২ মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে বাংলাদেশে। পুরো সময়জুড়ে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে। কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও এ মূল্যস্ফীতিকে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে খাদ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবা খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও এখন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের মূল্যস্ফীতির গতিবিধি পর্যালোচনা করে বুধবার ‘ইনফ্লেশন ডায়নামিক্স ইন বাংলাদেশ: জানুয়ারি-মার্চ ২০২৪’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মূল্যস্ফীতির (হেডলাইন) গড় হার ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ মূল্যস্ফীতিতে পণ্য ও সেবা খাতের (কোর) অবদান ছিল ৪৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৪৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ জুড়ে ছিল খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অবদান ছিল ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে গড় হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। সে সময় এ মূল্যস্ফীতির ৫৬ দশমিক ১৮ শতাংশ জুড়ে ছিল খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। এছাড়া এতে পণ্য ও সেবা খাতের অবদান ছিল ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অবদান ছিল ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

দেশে গত দুই বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বেড়েছে দফায় দফায়। সর্বশেষ গতকালও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন ঘোষণায় ডিজেল ও কেরোসিনের বেড়েছে লিটারে ৭৫ পয়সা। এ অনুযায়ী ডিজেল ও কেরোসিনের নতুন দাম এখন প্রতি লিটার ১০৭ টাকা ৭৫ পয়সা। আর আড়াই টাকা বাড়িয়ে পেট্রল ও অকটেনের লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১২৭ ও ১৩১ টাকা। এছাড়া গ্যাসের দামও গ্রাহক পর্যায়ে গত দুই বছরে বাড়ানো হয়েছে দুবার। আর শিল্প খাতে ক্যাপটিভে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম চলতি বছরেই দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে। আবার বিদ্যুতের দাম গত বছর বেড়েছে তিন দফায়। এরপর চলতি বছরের মার্চে তা আরো এক দফায় বাড়ানো হয়।

ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেয়া শর্ত অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে দাম বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনছে সরকার। সংস্থাটির সর্বশেষ রিভিউ মিশনের সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে আসতে তাদের বছরে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে চারবার। এছাড়া জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রেও সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে দাম সমন্বয়ের শর্ত দিয়েছে আইএমএফ, যা এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশে মূল্যস্ফীতির চাপকে আরো জোরালো করে তুলবে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। তাদের ভাষ্যমতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির

দাম বাড়লে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূতসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবার উৎপাদন খরচ বেড়ে দামও বাড়ে। বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বমুখিতা এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—দুইভাবেই মূল্যস্ফীতিকে চাপে ফেলছে।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে মূল্যস্ফীতির ওপরে প্রথম দফায় প্রভাব ফেলেছিল টাকার অবমূল্যায়ন। বর্তমানে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দ্বিতীয় দফায় মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে, সেটির কার্যকারিতা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দামের কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর যে প্রভাব দেখা যাচ্ছে, সেটিকে মুদ্রানীতি এখনো প্রশমিত করতে পারেনি। এক্ষেত্রে আরো অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। আর আইএমএফের মতে এক বছরও সময় লাগতে পারে।’

দেশে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালজুড়ে গড়ে ৯ শতাংশে ছিল। এর এক-চতুর্থাংশই এসেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যস্ফীতির কারণে। পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, হোটেল, বিনোদন কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সেবা এখানে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী, যার হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রেস্টুরেন্ট, তামাক, গহনা, ভ্রমণসংশ্লিষ্ট পণ্যও এখানে অবদান রেখেছে। গত মার্চে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় ওই মাসে মূল্যস্ফীতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবদান ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্থিতিশীলতার প্রভাবে আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর ধারাবাহিকতায় মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে ২০২২ সালের আগস্টে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে হেডলাইন মূল্যস্ফীতির এক-তৃতীয়াংশই ছিল আমদানিনির্ভর পণ্যের অবদান। অবশ্য আমদানীকৃত খাদ্যপণ্যের দাম কমায় গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতিতে এ খাতের অবদান কিছুটা কমেছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সামনের মাসগুলোয় এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আগামী বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে হেডলাইন মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদি সাত্তার মনে করছেন, আগামী অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। কিন্তু টাকার যে পরিমাণ অবমূল্যায়ন হয়েছে শুল্কের পরিমাণও সে হারে বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে এনবিআর রাজস্ব নীতিতে শুল্কের পরিমাণে কিছুটা ছাড় দিলে তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

গত অর্থবছরের পুরো সময়ে ৯ শতাংশের ওপরে ছিল বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেও এ ঊর্ধ্বমুখিতা বজায় থাকতে দেখা গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের অর্থনীতিতে গত তিন দশকে আর কখনই এত দীর্ঘসময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হতে দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রভাবকের চেয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়েছে বেশি। বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে। যদিও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমা শুরু হয় ২০২২ সালেই। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হলেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের সাবেক সচিব ও সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সত্ত্বেও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামের ক্ষেত্রে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি বিষয় হচ্ছে এর ক্যাপাসিটি চার্জের হিসাব হচ্ছে ডলারে। ফলে টাকার অবমূল্যায়নে ক্যাপাসিটি চার্জও বেড়েছে। বাড়তি এ ব্যয় সমন্বয়ের জন্যই দাম বাড়াতে হয়েছে।’

বিদ্যুতের অব্যাহত লোকসানের চাপ সামাল দিতে না পেরে ২০২৩ সালে তিন দফা খুচরা পর্যায়ে মোট ১৫ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানো হয়। এছাড়া ২০২২ সালের নভেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় মোট ২৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এক বছরের মাথায় এ বছরের মার্চে আবারো বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। এক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের দাম বেড়েছে গড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ, যা কার্যকর হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই।

ভর্তুকির চাপ এড়াতে ২০২২ সালের আগস্টে গড়ে ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয় জ্বালানি তেলের দাম। এরপর ২৩ দিনের মাথায় সব জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানো হয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি তেলে স্বয়ংক্রিয় মূল্যবৃদ্ধির পদ্ধতি ঘোষণা করে সরকার। এরপর গত মার্চ ও এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমানো হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে।

গ্যাসের দামও গত দুই বছরে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ৫ জুন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সমন্বয়ের অংশ হিসেবে গত বছরের জানুয়ারিতে বাড়ানো হয় গ্যাসের দাম। এতে আবাসিক বাদে বাকি সব শ্রেণীর গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে দুই দফায় শিল্প খাতে ব্যবহৃত ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

 

 

ইত্তেফাক এর একটি শিরোনাম “আনার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে ভারত”

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার(৩০ মে) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে সরকার এ বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পক্ষকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।’

জয়সওয়াল বলেন, ‘‘এই বিশেষ মামলাটি ‘তদন্ত করা হচ্ছে’ এবং বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সমন্বয় করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে।’’

এদিকে আনার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

 

 

The Daily Star বাংলার একটি শিরোনাম “জেনেভা ক্যাম্পে পেট্রল বোমার আঘাতে আহত শিশুর মৃত্যু”

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গত শুক্রবার দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পেট্রল বোমার আঘাতে আহত এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফাজ্জল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার মাদক চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে জেনেভা ক্যাম্পের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের মধ্যে পেট্রল বোমা বিস্ফোরণ হলে ক্যাম্পের বাসিন্দা শিশু রাসেল (১২) আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় রাসেলের ভাই আশিক মামলা করেছিলেন। মামলার পর পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান পরিদর্শক তোফাজ্জল।

জানতে চাইলে আশিক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাই রাসেল তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ত। সে তো কোনো দলের সঙ্গে ছিল না। পানি আনতে কল পাড়ে যায়। হঠাৎ সেখানে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করলে আমার ভাই আহত হয়।’

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024