সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন বসছে আজ

  • Update Time : বুধবার, ৫ জুন, ২০২৪, ৯.১৫ এএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

ইত্তেফাক এর একটি শিরোনাম “দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন বসছে আজ”

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ বুধবার (৫ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে। বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া এ বৈঠকের আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে চলতি অধিবেশন কতদিন চলবে তা নির্ধারণ করা হবে। আগামী রোববার (৯ জুলাই) চলতি অধিবেশন শেষ হবে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪–২৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

সাধারণত বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হয়। আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এরআগে ১০ জুন সম্পূরক বাজেট পাস হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সাধারণত চলতি সংসদের কোনও সদস্য মৃত্যুবরণ করলে মৃত্যুর পর অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করে রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন মুলতবি করা হয়। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার সম্প্রতি কলকাতায় গিয়ে ‘খুন’ হন। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় বুধবার বৈঠকে তার জন্য শোক প্রস্তাব নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সংসদের দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নোত্তর রয়েছে। এ ছাড়া আরও চারটি মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর হবে।

চন্দ্রবাবু ও নীতিশকে নিয়ে রহস্য
এই পটভূমিতে ভারতের নির্বাচনি চালচিত্রে সহসা খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন জেডিইউ নেতা নীতিশ কুমার ও টিডিপির নেতা এন চন্দ্রবাবু নাইডু। ঘটনাচক্রে তাদের দুজনেরই ঘন ঘন রাজনৈতিক সঙ্গী বদল করার খুব পুরনো ইতিহাস আছে।

সবশেষ ফলাফল অনুযায়ী জেডিইউ ১২টি আসনে ও টিডিপি ১৬টির মতো আসনে হয় জিতেছে বা এগিয়ে আছে।

ফলে এই দুই দলের ২৮ জন এমপি-র সমর্থন পেলে বিজেপি জোটের গরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা থাকে না।

এরা ছাড়াও অবশ্য বিজেপির সঙ্গে আরও কয়েকটি ছোট ছোট শরিক দল আছে– তবে তারা কেউই চারটি বা ছ’টির বেশি আসন পায়নি।

ভারতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চন্দ্রবাবু ও নীতিশ দুজনেই হয়তো রাজনৈতিক দরকষাকষি করার চেষ্টা চালাবেন।

বিজেপিকে বা উল্টোদিকে কংগ্রেসকে সমর্থন করলে তার বিনিময়ে তারা কী কী পেতে পারেন, সেটাও হয়তো বাজিয়ে দেখার চেষ্টা হবে তাদের তরফে।

বস্তুত অন্ধ্র ও বিহারের (যথাক্রমে চন্দ্রবাবু ও নাইডুর রাজ্য) জন্য ইতোমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের দাবি উঠেছে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এদিন (মঙ্গলবার) রাত পর্যন্ত অন্তত নীতিশ কুমার বা চন্দ্রবাবু নাইডু – কেউই প্রকাশ্যে অন্তত কোনও বিবৃতি দেননি বা ফলাফল নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানাননি। ফলে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

ইতিমধ্যে সন্ধ্যায় দিল্লিতে খবর রটে যায়, ইন্ডিয়া জোটের তরফে এনসিপি দলের একটি গোষ্ঠীর নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ার না কি ইতিমধ্যেই নীতিশ ও চন্দ্রবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সমর্থন চেয়েছেন।

কিন্তু পরে শারদ পাওয়ার নিজেই এ খবর অস্বীকার করে জানান, তার সঙ্গে ওই দুজনের কোনও কথাবার্তা হয়নি।

কংগ্রেস এখন কী করবে?
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিকদের মধ্যে যারা সব চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, সেই কংগ্রেস কিন্তু এ কথা একবারও অস্বীকার করেনি যে তারাও জোটের পক্ষ থেকে সরকার গড়ানোর দাবি জানাতে পারে।

মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লিতে ২৪ নম্বর আকবর রোডে এআইসিসি সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দুজনেই বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেই তারা এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এনডিএ (বর্তমান আকারে) যদিও গরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে, সেই জোটের একাধিক শরিক কিন্তু আগে কংগ্রেসেরও রাজনৈতিক সঙ্গী ছিল।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস কি বিরোধী আসনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে না কি তারাও সরকার গড়ার জন্য চেষ্টা চালাবে?

জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমরা আমাদের ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে শিগগিরি আলোচনায় বসব। আমার ধারণা সেই বৈঠক আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে।”

“এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে এবং এর উত্তর খোঁজা হবে। আমরা আমাদের জোট শরিকদের মর্যাদা দিই – এবং তাদের মতামত না নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”

আরও নির্দিষ্ট উত্তরের জন্য চাপাচাপি করা হলে রাহুল গান্ধী শুধু বলেন, ইন্ডিয়া জোট এ ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেবে তারাও সেই অনুযায়ীই চলবেন।

তবে একই প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের জবাব ছিল আরও ইঙ্গিতপূর্ণ – কারণ তার কথায় আভাস ছিল, কংগ্রেস এখন ‘নতুন রাজনৈতিক সঙ্গী’ খোঁজার চেষ্টা করবে।

হিন্দিতে প্রশ্নের জবাব দিয়ে মি খাড়গে বলেন, “যতক্ষণ না আমরা জোটের শরিকদের সঙ্গে এবং নতুন শরিকদের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করছি … যে কীভাবে আমরা একযোগে কাজ করতে পারি ও গরিষ্ঠতা পেতে পারি, ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।”

“আমি যদি এখনই সব কৌশল ফাঁস করে দিই, তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদি তো সতর্ক (‘হুঁশিয়ার’) হয়ে যাবেন!”

ফলে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের কথাবার্তা থেকে আভাস মিলেছে, তারা আপাতত সব রাস্তাই খোলা রাখতে চাইছেন এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গড়ার দাবি জানানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছেন না।

ইন্ডিয়াকেই ‘সাহায্য করবেন’ মমতা
ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন যে তিনি বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গেই আছেন।

মিস ব্যানার্জী এদিন বলেন, “আমি অবশ্যই ইন্ডিয়াকে সাহায্য করব … ওখানে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি চেষ্টা করব যাতে মোদিকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে পারি।”

এর আগে ভোটের মাঝপথে তিনি আচমকাই বলেছিলেন, বিরোধী জোট যদি জেতার মতো অবস্থায় চলে আসে তাহলে তিনি ইন্ডিয়াকে ‘বাইরে থেকে’ সমর্থন করে দেবেন।

তখন থেকেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেস কি আদৌ ইন্ডিয়ার শরিক? কিংবা নির্বাচনের পরে কি তারা আদৌ ইন্ডিয়ার অংশ থাকবে?

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ হল এমন একটি রাজ্য যেখানে ইন্ডিয়া জোটের প্রধান শরিকদের মধ্যে কোনও নির্বাচনি সমঝোতা হয়নি।
রাজ্যের ৪২টি আসনেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের জোট প্রার্থী দিয়েছিল। কেরালাতে আবার কংগ্রেস ও বামপন্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধেও লড়েছে।

অথচ ‘ইন্ডিয়া’ জোট গঠনের সময় মমতা ব্যানার্জী ছিলেন সব চেয়ে সক্রিয় শরিকদের একজন। তিনি বহুবার প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন, এমন কী ‘ইন্ডিয়া’ নামটিও না কি তার মাথা থেকেই প্রথম বেরিয়েছিল।

এখন মঙ্গলবার রাতে এসে দেখা যাচ্ছে, ইন্ডিয়া জোটের মূল শরিক দলগুলোর মধ্যে তৃণমূল সম্ভবত তৃতীয় শক্তিশালী দল হতে যাচ্ছে।

তারা যদি শেষ পর্যন্ত ২৯টি আসন পায়, তাহলে তৃণমূলের অবস্থান হবে কংগ্রেস (৯৯) ও সমাজবাদী পার্টির (৩৭) ঠিক পরেই।

ফলে এখনকার বিরোধীরা যদি সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তৃণমূলকে অবধারিতভাবে তাতে একটা সক্রিয় ভূমিকা নিতেই হবে।

জোটে তিনি আসলে আছেন কি সেই, তা নিয়ে গত বেশ কয়েক মাস ধরে রীতিমতো ধোঁয়াশা রাখার পর ভোটগণনার দিন সন্ধ্যায় এসে মমতা ব্যানার্জী অবশেষে স্পষ্ট করে দিলেন– তার দলের সমর্থন ইন্ডিয়াই পাবে।

প্রথম আলোর একটি শিরোনাম “ছয় দশক পর ‘নতুন ইতিহাস’ তৈরি হচ্ছে: মোদি”

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজয় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তাঁর দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করবে। তিনি বলেছেন, এটা তাদের সংকল্প বিকশিত ভারতের বিজয়। এটি দলের স্লোগান ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’–এর বিজয়। একই সঙ্গে ভারতের সংবিধানের প্রতি জনগণের গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন।

লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মধ্যেই আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে এসব কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, জনগণ বিজেপি এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) ওপর আবারও বিশ্বাস রেখেছে।

মোদি বলেন, ১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোনো সরকার দুবার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার পর টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, ছয় দশক পর ‘নতুন ইতিহাস’ তৈরি হয়েছে।

বক্তব্যে বিশেষভাবে ওডিশা রাজ্যে ভালো ফলের কথা উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে এই প্রথম তারা সরকার গঠন করবে। ওই রাজ্যে লোকসভা ভোটেও ভালো করেছে বিজেপি।

মোদি বলেন, ‘আজকের এই পবিত্র দিনে, এটা নিশ্চিত যে এনডিএ তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করছে। আমরা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ, তাঁরা বিজেপি, এনডিএর ওপর পুনরায় পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছেন। এটা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বিজয়, এটা ভারতের সংবিধানের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের বিজয়, এটা বিকশিত ভারতের সংকল্পের বিজয়। এটি “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ”–এর বিজয়।’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক এই চর্চা সফলভাবে পরিচালনার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাঁরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এত বড় নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীও সুচারুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৪৩৪টি আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। ৮৯টি আসনে জয় পেয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। অন্য দলগুলোর মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ৩২টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২২টি, জনতা দল (জেডি-ইউ) ১১টি, ডিএমকে আটটি, তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) আটটি, শিবসেনা (উদ্ভব) ছয়টি, শিবসেনা (এসএইচএস) ছয়টি, লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) চারটি ও সিপিআই (এম) চারটি আসনে জয় পেয়েছে।

 

যুগান্তরের একটি শিরোনাম “বড় চ্যালেঞ্জ আইএমএফের চাপ মোকাবিলা

মন্দা থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) চাপ মোকাবিলা করা। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির হার কমাতে আগামী অর্থবছরেও মুদ্রানীতিকে ব্যবহার করতে হবে। এটি করলে সুদহার বাড়াতে ও টাকার প্রবাহ কমাতে হবে।

ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থানে দেখা দেবে স্থবিরতা। তখন ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যাবে। এই চাপ কমাতে হলে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এটি করতে সুদের হার কমাতে ও টাকার প্রবাহ বাড়াতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতির হারে কিছুটা চাপ পড়লেও মানুষের আয় বাড়লে তা কিছুটা প্রশমন করা সম্ভব হবে। কিন্তু আইএমএফের শর্তের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই দিকে হাঁটতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ও দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপ করে দেশের সার্বিক অর্থনীতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে চলমান সংকটের স্থায়িত্ব আরও বাড়ছে। ২০২২ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ডলারের সংকট কেটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। ডলার সংকট কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ডলার সংকট থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গিয়ে এ সংকট কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে আলোচ্য সময়ের মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার আরও অবমূল্যায়ন হবে। এতে একদিকে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দেনা বেড়ে যাবে। টাকার মান কমে গিয়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাবে। তখন মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।

এই চাপ মোকাবিলায় আইএমএফ বলেছে, টাকার আরও অবমূল্যায়ন করতে। তাহলে ডলার প্রবাহ বেড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু গত ২ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় ৪৬ থেকে ৫২ শতাংশ। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতিতে যে চাপ পড়েছে সেটি এখনও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে টাকার মান আরও কমালে চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। কারণ ডলারের দাম বাড়ানোর পরও এখন এর সরবরাহ বাড়ছে না। ফলে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের সুফল আসছে না অর্থনীতিতে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলন, আইএমএফের যেসব শর্ত জরুরিভিত্তিতে বাস্তবায়ন প্রয়োজন সেগুলো করা হচ্ছে না। ব্যাংক খাতের সংস্কার করা জরুরি। যত দ্রুত এটি করা হবে ততই মঙ্গল। কিন্তু এটি করা হচ্ছে না। যেসব শর্ত বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে করা প্রয়োজন সেগুলো করা হচ্ছে দ্রুত। এতে অর্থনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর একটি ছন্দ থাকতে হবে। সেটি নেই। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাত বিপাকে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়বে না, কর্মসংস্থান হবে না। ফলে চড়া মূল্যস্ফীতির আঘাতে মানুষ আরও বেশি জর্জরিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাজারে টাকার প্রবাহ কমাতে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এতে টাকার প্রবাহ কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্পে ও উৎপাদন খাতে। চড়া মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে ২ বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, টাকার প্রবাহ কমানো হয়েছে। বিনিয়োগ কমেছে। ভোক্তার চাহিদা কমেছে। তাতেও মূল্যস্ফীতির হার কমেনি। উলটো বেড়ে যাচ্ছে। মে মাসে এই হার আরও বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি ওঠেছে। আইএএফের শর্ত অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে আরও কঠোর মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে। এতে সুদের হার আরও বাড়বে, ডলারের দাম বাড়বে। ফলে বিনিয়োগ কমে মন্দা আরও প্রলম্বিত হবে।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা শুরু হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত একদফা এর দাম কমেছে, বেড়েছে দুদফা। এর প্রভাবে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু কমানোর পর তা কমেনি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রভাব ইতোমধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।

ডলার সংকট এখনও অর্থনৈতিক মন্দার প্রধান কারণ। ডলার সংকট কাটাতে হুন্ডি ও টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আইএমএফের সরাসরি কোনো শর্ত নেই। সরকার থেকেও এ ব্যাপারে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেই। ফলে মুদ্রা পাচার যেমন চলছে, তেমনি রেমিট্যান্সের একটি অংশ আসছে হুন্ডিতে। ফলে বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়ছে না। যেটুকু ডলার আসছে তা আবার পাচার হয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে ডলারের দাম বাড়ানো হলেও সংকট কাটছে না। মাঝপথে ভোক্তার ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, হুন্ডি ও টাকা পাচার বন্ধ করলে ডলার সংকট অনেকটা কমে যায়। কিন্তু সরকার এটি করছে না। ডলার সংকট নিরসনে যে পথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হাঁটছে সেই পথে স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। টাকার মান কমানোর ফলে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়েনি।

তিনি আরও বলেন, আইএমএফের কিছু শর্ত ভালো। এগুলো আমরাও অনেকবার বলেছি। কিন্তু সেগুলো করা হচ্ছে না। যেগুলো ধীরে ধীরে করার কথা, সেগুলো করছে দ্রুত। এতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেয়ে আরও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২ বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণের ফলে অর্থনীতিতে কি প্রভাব পড়েছে তার একটি মূল্যায়ন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে দেখা যায়, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণের ফলে টাকার প্রবাহ কমেছে, সুদের হার বেড়েছে। সরকারের ঋণের খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সরকারকে ঋণ দিয়ে ব্যাংকগুলো লাভ করছে। কিন্তু সরকার জনগণের করের টাকায় ওই ঋণের সুদ পরিশোধ করছে। এতে জনগণর ওপর চাপ বেড়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমেনি। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার মুদ্রানীতি খুব বেশি সংকোচনমুখী করতে চাচ্ছে না। সুদের হার আর না বাড়িয়ে স্থিতিশীল রাখতে চায়। কারণ বিনিয়োগ বাড়িয়ে তারা কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরি করতে চায়। কিন্তু আইএমএফের শর্ত মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতিকে আরও কঠোর করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন খাতে টাকার জোগান আর কমানো যাবে না। অন্য খাতে কমিয়ে উৎপাদন খাতে টাকার জোগান বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তা না হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে না। এটি না বাড়লে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

আইএমএফ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারের অনুক‚লে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ইতোমধ্যে দুটি কিস্তিতে ১১৬ কোটি ডলার পেয়েছে। তৃতীয় কিস্তি বাবদ আরও ১১৫ কোটি ডলার জুনের মধ্যেই পাওয়া যাবে। ওই ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এখন অর্থনীতিতে চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড়ের পর ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আইএমএফ এক প্রতিবেদনে বলেছিল, এই ঋণের অর্থ বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিপত্রের ঘাটতি কমাবে। একই সঙ্গে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ কমবে। বাস্তবে স্থিতিপত্রের চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে। কিন্তু তা বাজারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। পণ্যের দাম কমেনি। বরং বেড়েই চলেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম প্রতি মাসে গড়ে ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বেড়ে চলেছে। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে এখন ডাবল ডিজিট অতিক্রম করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024