রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

সালাম মুর্শেদীর গুলশানের বাড়ি:  হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা

  • Update Time : রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪, ৭.৩৪ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা বাড়ি সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন চেম্বার জজ আদালত।

আট সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার  আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতে সালাম মুর্শেদীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা। রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অনীক আর হক।

এর ফলে সালাম মুর্শেদীর বাড়ি এখন যে অবস্থাতে আছে সেই অবস্থাতে থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের রায়ের পর অনীক আর হক বলেন, সালাম মুর্শেদীর গুলশানের যে বাড়ি, সেটি আসলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আজ রায় দিয়েছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি। সরকারের লিস্টে (তালিকা) রয়েছে। তাই এটি (সালাম মুর্শেদীর কাছে) হস্তান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে রায় পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়িটি হস্তান্তর  করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তা বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, গুলশানের ওই সম্পত্তির দখল ও অবস্থানের ওপর দুই পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। গুলশানের বাড়িটি আপাতত সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকছে। সালাম মুর্শেদী আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী ও সাবেক ফুটবলার। তিনি গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ২৯ নম্বর বাড়িটি (সি.ই.এন (ডি)-২৭) দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ। পরিত্যক্ত সম্পত্তির ‘খ’ তালিকাভুক্ত এই বাড়ি দখলে রাখার অভিযোগ তুলে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন (বর্তমানে সংসদ সদস্য)।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে বাড়িসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র হলফনামা আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট। এর আগে সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা গুলশানের বাড়ি তিন মাসের মধ্যে ছাড়তে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। বাড়িটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের  নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

১৯ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।আদালত রায়ে বলেছেন, দুদকসহ অন্যান্য সংস্থার তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত যে সালাম মুর্শেদী গুলশানের যে বাড়িতে বসবাস করছেন সেটা সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি।

গত বছরের ১৬ জানুয়ারি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা গুলশানের বাড়ি সংক্রান্ত মূল নথি ও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন এ্যাফিডেভিট করে এক সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন। তারও আগে সরকারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে বাড়ি বানানোর অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে রিট করা হয়। ৬ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ রিট করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024