সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০১ অপরাহ্ন

‘বাড়িঘর সমস্তই পুড়াইয়া ফালাইছে’

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪, ১২.০৫ এএম

(প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ)

নাম: মালতী শিকদার

স্বামী: স্বর্গীয় কৃষ্ণকান্ত শিকদার (১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর হাতে নিহত)

গ্রাম : ডান্ডুহাট, ডাক: বাইশারি, ইউনিয়ন: বাইশারি

থানা: বানারীপাড়া, জেলা: বরিশাল

শিক্ষাগত যোগ্যতা: নিরক্ষর

 

১৯৭১ সালে বয়স:?

১৯৭১ সালে পেশা: গৃহিণী

বর্তমান পেশা: গৃহিণী

প্র: ১৯৭১ সালে আপনাদের গ্রামে যখন মিলিটারি আসলো, কিভাবে আসলো আপনি কি জানেন?

উ: তারা আইছে গানবোটে।

প্র: কোথা থেকে আসছে?

উ: আইছে বালিগোড়া থেইকা, পল্টন থেইকা আইছে। গানবোট থেইকা নাইমা হাঁটিয়া আইয়া আর কি গেরামে ঢুইকা গেছে, ঢুইকা যাইয়া তারপর ঘর দোয়ার পুড়াই দেয়, হেদের রাইফেল থেইকা ফায়ার করছে।

প্র: কতগুলি বাড়ি পুড়াইলো?

উ: আমাগো এ জাগা দিয়া বাড়িঘর আছিলোই না। হিন্দুদের বাড়িঘর মোটেই আছিলো না। সমস্তই পুড়াই ফালাইছে।

প্র: ২/৪ জনের নাম বলতে পারবেন কার কার বাড়িঘর পুড়াইলো?

উ: বাড়িঘর পুড়াইছে কৃষ্ণকান্ত শিকদারের। হেরপর তারকনাথ শিকদার, হেরপর

অইছে সূর্যকান্ত শিকদার, হেরপর সুধীরের বাপের নাম অইলো চন্দ্রকান্ত শিকদার, শশীকুমার শিকদার।

প্র: আপনি শাহপুরের কথা কিছু বলতে পারবেন?

উ: শাহপুরের কেউর নাম তো আমি বলতে পারবো না।

প্র: যখন মিলিটারি আসলো তখন আপনি কোথায় ছিলেন?

উ: আমি ঘরের মধ্যেই আছিলাম। ওদের দেইখ্যা আর কি গেছি পোলাপান, স্বামী লইয়া ঐ আশ্রমের মধ্যে। আশ্রমের মধ্যে চইলা যাইয়া আর তো যাইতে পারি না কোথাও। ঐ দিগদা মিলিটারি আইয়া পড়ছে, আমরা তো আশ্রমের মধ্যে ঢুকছি। হেই সময় ওরা আইয়া আর কি আশ্রমে সবরে আটকাইছে। মহিলা মারে নাই, পুরুষ মারছে।

প্র: কিভাবে মারলো?

উ: গুলি করছে, গুলি অইছে।

প্র: কার গায়ে গুলি পড়ছিলো?

উ: পড়ছিলো আমার স্বামীর গায়ে।

 

 

প্র: আপনার স্বামী তখন কি করতেছিলো?

উ: দাঁড়াইয়া দেখতে আরাই করে। উনার জন্মস্থান এই জাগায়। বাড়িঘর পুড়িয়া যায় হেইয়ার লাইগা দেখতে বাইর অইছে।

প্র: তারপর?

উ: তারপরে আর কি! হে সময় গুলি করছে, বাম হাতে গুলি লাগছে।

প্র: তারপর?

উঃ দুই সাইডে আর কি ফাইট অইতে আছে। এপার ওই পার, নদীর দুই পারে ফাইট অইছে।

প্র: নদীর ওপারে কারা ছিলো?

উ: নদীর ওপার আছিলো মিলিটারি, আর এপার আছিলো মুক্তিবাহিনী।

প্র: তারপরে?

উ: হেই সময় আর কি গুলি করছে।

প্র: গুলি করার পর কি অবস্থা অইলো আপনার?

উ: আশ্রমে সাধুরা আছিলো। হেরা আর কি কিছু করছে। এরপর আমার স্বামীরে বরিশাল লইয়ে গেলাম। কোনো কাজ অয় নাই।

 

 

প্র: আপনার স্বামী কতদিন পরে মারা গেলো?

উ: বেশি দিন আছিলো না। অল্প কয়েকদিন আছিলো।

প্র: আপনার কি বাড়িঘর পুড়াই দিছিলো?

উ: হ্যাঁ, আমাদের কিছুই আছিলো না। সমস্তই পুড়াইয়া ফালাইছে। একবার না,

দুইবার পুড়াইছে।

প্র: কারা পুড়াইলো?

উ: পুড়াইছে মিলিটারিরা।

প্র: আপনার এলাকায় মিলিটারি কয়জন লোক মারছে?

উ: লোক অনেক। আমি সবার নাম কইতে পারমু না।

প্র: কত জন লোক মারছিলো আপনার এলাকায় জানা আছে?

উ: ২৭ জনরে মারছে শুনছি।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর নাম: নিরঞ্জন দাশগুপ্ত অনু

সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ: অগাস্ট ১৮, ১৯৯৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024