শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

চায়নাকে পিছনে ফেলে  এশিয়ার ‘ধনীদের রাজধানী’ এখন মুম্বাই

  • Update Time : বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪, ৯.০০ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

সংখ্যায় চায়না রাজধানী বেইজিংকে পিছনে ফেলে দিল ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাই। এই শহরটাই এখন এশিয়ার বিলিয়নেয়ারদের রাজধানী।

এ তথ্য জানিয়েছেন চায়নার সাংহাইয়ের হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট। সোমবার তারা সারা বিশ্বের ধনীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মুম্বইয়ে বিলিয়নেয়ার, অর্থাৎ, ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির সংখ্যা ৯২।

এশিয়ার আর কোনও শহর আগে নেই।

আগে রয়েছে শুধু আমেরিকার নিউইয়র্ক এবং ব্রিটেনের লন্ডন। নিউ ইয়র্ক আর লন্ডনের বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৯ এবং ৯৭।

ভারতীয় অর্থনীতির প্রতি আস্থা রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে,” বলেছেন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এবং প্রতিবেদনের প্রধান গবেষক রুপার্ট হুগেওয়ার্ফ।

তালিকায় ভারতের নতুন মুখের মধ্যে রয়েছেন রোহিকা সাইরাস মিস্ত্রি । যিনি আর্থিক সংস্থা স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্টের নেতৃত্ব রয়েছেন। এবং পেইন্ট প্রস্তুতকারক এশিয়ান পেইন্টসের ইনা অশ্বিন দানি৷ মিস্ত্রি টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত সাইরাস মিস্ত্রির স্ত্রী।

ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, অবশ্যই মুকেশ অম্বানি। মোট সম্পদের পরিমাণ, ১১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছেন আদানি, সম্পদের পরিমাণ ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

মুম্বাইকে এই জায়গা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মুকেশ অম্বানি। এছাড়া আদানি গ্রুপের গৌতম আদানি-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা ২০২৩ সালে ৭.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটিয়েছেন মুম্বইয়ের।

এক বছরেই ভারত ধনকুবেরদের তালিকায় নতুন ৯৪ জনকে যুক্ত করেছে। ২০১৩ সালের পর এক বছরে ভারতে বেশি সংখ্যক নতুন ধনীর জন্ম হয়নি। ২০১৩ সালের পর এটাই ছিল ভারতের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

তবে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যায় তালিকার শীর্ষে রয়েছে চিন। চিনের বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ৮১৪।

তবে, দেশটির রিয়েল এস্টেট এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতগুলি বৃদ্ধির কারনে ২০২২ সাল থেকে চিনে ধনকুবেরদের সংখ্যা ১৫৫ জন কমেছে। স্টক মার্কেটগুলিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

৮০০ বিলিয়নেয়ার নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩-এ মার্কিন মুলুকে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা বেড়েছে ১০৯ জন। ভারতের মোট বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ২৭১।

চীনে, বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী নংফু স্প্রিং-এর ঝং শানশান, ৬৩ ডলার বিলিয়ন সম্পদ নিয়ে টানা চতুর্থ বছরে ধনী তালিকার শীর্ষে। কিন্তু ই-কমার্স অপারেটর Pinduoduo-এর প্রতিষ্ঠাতা কলিন হুয়াং টেনসেন্ট হোল্ডিংস-এর পনি মা-কে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করে ।

হুয়াং এর সম্পদ ৭১% বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ ডলার বিলিয়ন হয়েছে কারণ ডিসকাউন্ট অপারেটরের উপার্জনের ফলাফল বাজারের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে, যখন কোম্পানির বিদেশী প্ল্যাটফর্ম টেমু ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে থাকে।

সামগ্রিকভাবে, চীনের বিলিয়নেয়ারদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সম্পদ ১৫% কমেছে। যখন দুই বছর আগের হুরুন তালিকা থেকে ৪০% তাদের জায়গা হারিয়েছে, হুগেওয়ার্ফ বলেছেন।

“গত কয়েক বছরে চীনে সম্পদ সৃষ্টি গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, রিয়েল এস্টেট এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য থেকে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ কমে গেছে,” তিনি যোগ করেছেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন প্রপার্টি ডেভেলপার ডালিয়ান ওয়ান্ডা গ্রুপের ওয়াং জিয়ানলিন। যিনি দেখেছেন তার সম্পদ এক বছরের মধ্যে ১১বিলিয়ন ডলার থেকে ৪.২বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

একইভাবে, লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক সমসাময়িক অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজির রবিন জেং ইউকুন এবং সোলার প্যানেল প্রস্তুতকারক লঙ্গি গ্রিন এনার্জি টেকনোলজির লি ঝেংগুওর সম্পদ হ্রাস পেয়েছে। কারণ সরবরাহের অস্থিরতা তাদের শিল্পে ধস নামে।

টেক বিলিয়নেয়ার ছাড়াও, তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন জনপ্রিয় পপস্টার টেলর সুইফট। যার রয়েছে $১.২ বিলিয়ন। “তার অর্ধেকেরও বেশির ভাগ্ রয়্যালটি এবং ট্যুর থেকে এসেছে। যার মধ্যে ইরাস ট্যুরের প্রথম লেগ থেকে $১৯০ মিলিয়ন এবং এর কনসার্ট ফিল্ম থেকে $৩৫ মিলিয়ন,” হুগওয়ার্ফ বলেছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে তার প্রথম ছয়টি অ্যালবাম ২০২০ সালেশ্যামরক ক্যাপিটালের কাছে বিক্রি হওয়ার পরে $৩০০ মিলিয়নে পৌছায় ।”

মার্কিন বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের মোট সম্পদ ৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

হুরুন-এর ধনী তালিকাটি ১৫ জানুয়ারী পর্যন্ত তাদের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিদের শেয়ারহোল্ডিংয়ের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024