সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

বর্জ্য উৎপাদন কমাতে ব্র্যাক ও বিএসএ-র উদ্যোগে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন

  • Update Time : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪, ৫.৫৬ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৩০ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে  জাতিসংঘ। এ বছর দিবসটি পালনে রোববার ৩১শে মার্চ ২০২৪ ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্স (বিএসএ) ও ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউডিপি) যৌথভাবে ‘ওয়েস্টওয়াইজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শূন্য বর্জ্য উদ্যোগের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করতে অনুষ্ঠানে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হয়।

 

 

ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস-এর ঊর্ধ্ধতন পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, “ব্র্যাক রিসাইকেল হ্যান্ডমেইড পেপার ও ব্র্যাক নার্সারি এন্টারপ্রাইজ শূন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বর্জ্যকে আমরা মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করছি। এ ছাড়া ইতোমধ্যে আমরা ৬৫ মেট্রিক টন বর্জ্য কাগজ পুনর্ব্যবহার করেছি এবং ১৫ লাখের মতো পণ্য তৈরি করেছি। অন্যদিকে, খাদ্যবর্জ্যকে জৈব সারে রূপান্তরে ব্র্যাক নার্সারির উদ্ভাবনী উদ্যোগ সবুজ পৃথিবী ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে আমাদের প্রতিশ্রুতির সাক্ষ্য বহন করে।”

 

শূন্য বর্জ্য উদ্যোগ সম্প্রসারণে কাজ করা প্রাণ-আরএফএল-এর সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, “কোনো পণ্য পুনরায় ব্যবহার, রিসাইকেল ও বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শূন্য বর্জ্য উদ্যোগের বাস্তবায়ন সম্ভব। নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্যাকেজিং খাতে প্লাস্টিকের পরিমাণ কমিয়ে আনা, ফার্নিচার কারখানার কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করে দরজা ডোর তৈরি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করে ফুলের টব, ওয়েস্ট বিন ও ডাস্টপ্যানের মতো পণ্য তৈরি আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রচেষ্টার কয়েকটি উদাহরণ।”

ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ঢাকা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক অশ্বানি নায়ার বলেন, “শূন্য বর্জ্যের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ছোটখাট প্রতিটি উদ্যোগেরই পৃথিবীকে রক্ষা করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পৃথিবীর দিকে। হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনায় দৃষ্টান্ত তৈরির প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।”

 

ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘ওয়েস্টওয়াইজ’ মেলায় বর্জ্য থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরির উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয় যা কিনা একটি চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়াস। রিসাইকলিং নিয়ে কাজ করে এমন কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগ উক্ত অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছিল রিড্রেস রিসাইকেল, আরবাব গ্রুপ, ব্র্যাক রিসাইকেল হ্যান্ডমেড পেপার, ব্র্যাক নার্সারি এন্টারপ্রাইজ, পিসিস কর্পোরেশন, লামাটি ও যত্নের দোকান। এই উদ্যোগগুলো কাপড়ের বর্জ্য, খাদ্য বর্জ্য, কাগজের বর্জ্য এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে নিরন্তর কাজ করছে।

মেলাটি ঘুরে দেখে ফারাহ কবির বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে এত সুন্দর কিছু তৈরি হতে পারে তা এই মেলায় না আসলে আমি কখনই জানতে পারতাম না। আমি এখান থেকে পণ্য কিনে ব্যবহার করতে চাই।”

মেলায় উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী পণ্যগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি নানা চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন। যেমন বাজারের সাধারণ পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতা এবং পণ্য বাজারজাত করণের প্রতিবন্ধকতার কথা বলেন তারা। এই অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল ব্যক্তি এবং সাংগঠনিক পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনার বিষয়ে গুরুতারোপ করা। বাঙ্গু ভিগান-এর রুবাইয়া আহমেদ রান্নাঘরের বর্জ্য ব্যবহার করে কিভাবে প্রসাধন সামগ্রী তৈরি করা যায়, তা এই মেলায় প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি ব্র্যাক নার্সারির পক্ষ থেকে খাদ্যের বর্জ্য কম্পোস্টিং করে কিভাবে সার তৈরি করে তা গাছে ব্যবহার করা যায় সে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এর কার্যকারিতা সম্পর্কেও জানানো হয়।

 

 

 

ব্র্যাকের নগর উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান ইমামুল আজম শাহী বলেন, “বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে আজ থেকে আমি নিজের জীবনে ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নেবো। বিশেষত খাবারের বর্জ্য থেকে সার তৈরির ব্যাপারে আমি আগ্রহী হয়েছি এবং ভবিষ্যতে এটি করব।”

প্রতিদিন আমরা অনেক পরিমানে বর্জ্য উৎপাদন করি। পরীক্ষামূলক ভাবে, ব্র্যাক সেন্টারে একদিনের জন্য টেবিলের নিচের সকল ময়লার ঝুড়ি সরিয়ে ফেলা হয় এবং সকল কর্মীকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে বর্জ্য ফেলার অনুরোধ করা হয় যাতে করে কর্মীরা কম বর্জ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন টন মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্ট (জনসাধারণের ফেলা দৈনন্দিন বর্জ্য) উৎপন্ন হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বার্ষিক বর্জ্যের পরিমাণ হতে পারে ৩ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন টন। ক্রমবর্ধমান এসব বর্জ্য জনস্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রভাবিত করায় আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024