শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনীতির মাঠে মোকাবিলা করা উচিত

  • Update Time : সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪, ৮.৩০ এএম

ফরিদ জাকারিয়া

রোনা ম্যাকড্যানিয়েলকে NBC নিউজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে নিয়োগ ও পরবর্তীতে বরখাস্ত করা একটি ছোট মিডিয়া ঝড় মনে হতে পারে, তবে এটি আমাদের একটি বৃহত্তর বিষয়ে বিবেচনা করতে বাধ্য করে । এবং বিষয়টি আরো সামনে বারবার এ হিসেবে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের সাথে কীভাবে মোকাবেলা করা উচিত?  সংক্ষেপে বলতে গেলে, ম্যাকড্যানিয়েল নভেম্বর ২০২০ সালে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন এবং স্থানীয় রিপাবলিকান কর্মকর্তাদের উপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও তিনি অস্বীকার করেছিলেন যে নির্বাচন ছিল সুষ্ঠু।

এগুলো সবই ভয়ানক ঘটনা। আমরা এ নিয়ে এত বেশি শুনেছি যে কখনও কখনও এর গুরুত্ব নিয়ে আমরা অবসন্ন হয়ে পড়ি। তাই আমি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ট্রাম্প ছিলেন মার্কিন ইতিহাসের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ভীতি দেখানোর জন্য একটি জনতাকে উস্কানি দিয়েছিলেন। এবং তিনি অর্ধেক রিপাবলিকান হাউস সদস্যদের 2020 সালের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন না করার জন্য ভোট দিতে সক্ষম হয়েছিলেন, যদিও তা 50টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি দ্বারা বৈধভাবে অনুমোদিত এবং ডজন ডজন আদালতের রায়ে সমর্থিত হয়েছিল। এটা একটা বড় ব্যাপার।

কিন্তু সমস্যা হলো: তখন থেকে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেছিলেন যে ২০২০ সালের নির্বাচন মুক্ত এবং সুষ্ঠু ছিল না। এবংএই বিশ্বাসকারীরা ৮৫ মিলিয়নেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান। আমরা তাদের প্রতি কীভাবে মনোভাব পোষণ করি? যারা এই বিশ্বাসকে নেতৃত্ব দিয়েছে? আমরা কী তাদের সবাইকে বাতিল করব? এনবিসি নিউজে কথা বলার অনুমতি কি কারও থাকা উচিত যার এই মতামত রয়েছে? আমার মনে হয় এনবিসির নির্বাহীরা ৮৫ মিলিয়ন আমেরিকানের মতামতকে তাদের সম্প্রচারে উপস্থাপনের একটি যুক্তিসঙ্গত উপায় খুঁজছিলেন।

আমি এই দ্বিধা বুঝতে পারি। ম্যাকড্যানিয়েল এমন আচরণ করেছেন যা রক্ষণশীল বা রিপাবলিকান নয় বরং গণতন্ত্র বিরোধী। তিনি দেশের সাংবিধানিক ভিত্তিকে আক্রমণ করেছেন। কিন্তু উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রকৃতি হলো আমরা সব ধরনের মানুষকে তাদের মতামত প্রকাশের অনুমতি দেয়া। প্রকাশ্য কমিউনিস্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

আরো সৎ হতে গেলে বলতে হয়, অনেক রিপাবলিকান নেতারা এখানে একটি কাপুরুষের খেলা খেলছেন। তারা যে ট্রাম্পের মিথ্যার সাথে একমত তা সম্ভব নয়। তারা শুধু জানেন তাদের দলের ভোটার এটা বিশ্বাস করেন এবং এর সাথে দ্বিমত পোষণ করা রাজনৈতিকভাবে আত্মহত্যা। বেশিরভাগ নির্বাচিত রিপাবলিকানরা যারা কোনোভাবে ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছিলেন তারা এখন সাবেক নির্বাচিত রিপাবলিকান।

তবে কেউ কেউ ট্রাম্পবাদের চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন। ম্যাকড্যানিয়েল এনবিসির সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন, জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমাদের কি এই ধরনের স্বাভাবিকতায় ফিরে যাওয়ার উত্সাহ দেওয়া উচিত, নাকি একসময় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করতেন এমন ব্যক্তিদের চিরকালের জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত?

উদারনৈতিক গণতন্ত্রসমূহ অনুদার উপায় ব্যবহারের প্রলোভন এড়িয়ে চলা উচিত, এমনকি তারা উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রতি বিরোধীতামূলক মতামতের মুখোমুখি হলেও। আমি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলি নিয়ে চিন্তিত। যদিও তা আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে,  কিন্তু অপরাধ যে সময়ে ঘটেছিলো সেই সময় তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তাই প্রশ্ন ওঠে তিনি কি এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হতেন, যদি তিনি আজকের বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না হতেন?

এখন পর্যন্ত, তাকে সীমার বাইরে রাখার এই প্রচেষ্টাগুলি কাজ করছে না। ৮৮টি গুরুতর অভিযোগ এবং মিডিয়া অভিজাতদের সকল নিন্দা সত্ত্বেও তিনি জনমতে এগিয়ে। শেষপর্যন্ত, ওভার-এডুকেটেড উদারপন্থীরা, যাদের সাধারনের প্রতি কোনো মনোযোগ নেই, তারাই এই দেশ চালাচ্ছেন – এই বিশ্বাস তাঁর সমর্থকদের শক্তি যোগাচ্ছে। তাই আপনি কী মনে করেন তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যখন বড় শহরগুলোর কিছু আইনজীবী চালাকি করে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অযোগ্য করার উপায় বের করবে?

আমি আমার নতুন বই “বিপ্লবের যুগ”-এ যেমনটি লিখেছি, নতুন পপুলিস্ট ডানপন্থার উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রতি অবজ্ঞা ভীতিকর, আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রতি সবচেয়ে গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। তবে বামপন্থীদেরও এই দিকটিতে তাদের বাড়াবাড়ি রয়েছে। অনেকে “উদারবাদের কিছু নিয়ম এবং প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করতে চান… তারা ‘ভুল’ ধারণা থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ করতে চান। তারা কোটা বা নির্দেশনামা দ্বারা জাতিগত সাম্য অর্জন করতে চান। তারা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা বা শিল্পকলা ব্যবহার করতে চান, শিক্ষা বা শৈল্পিক লক্ষ্যের পরিবর্তে। তাত্ত্বিকভাবে তাদের ধারণার সৎ উদ্দেশ্যে বিশ্বাসী – যেমন, আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার – তারা এই বিমূর্ত সৎ ধারণাকে অনিচ্ছুক সমাজের উপর চাপিয়ে দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে অনমনীয় বাম বা প্রতিক্রিয়াশীল ডানদের ওপর থেকে নেওয়া বিপ্লবী পদক্ষেপগুলি প্রগতির চেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডানপন্থী পপুলিজমের ধরন নানা রকমের এবং বিদেশীবিদ্বেষী  এমনকি হয়তো আমেরিকাকে গভীর অন্ধকারে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু উদারনৈতিক গণতন্ত্রে এটিকে পরাজিত করার উপায় আইনি পদ্ধতি ব্যবহার করা নয়। বরং এটা তাকেওরাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দেয় এবং যারা তাকে সমর্থন করে তাদেরকেও ভুল পথে নিয়ে যায়। বরং তার মিত্রদের উচিত বিতর্ক করা,  এবং শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অবস্থান তুলে ধরা যাতে  আপনি আমেরিকানদের তাদের উদ্বেগের সমাধান করতে পারেন,। এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়া ও রাজনীতির মাঠে তাকে পরাজিত করা।

ফরিদ জাকারিয়া The Post-এর জন্য একটি বিদেশ বিষয়ক কলাম লেখেন। তিনি CNN-এর Fareed Zakaria GPS-এর উপস্থাপকও ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024