রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩)

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪, ১১.০০ পিএম

  শ্রী নিখিলনাথ রায়

                 

                                                           কাটরার মসজীদ

                                                           জাহানকোষা তোপ

বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ মুসলমান-রাজধানী মুর্শিদাবাদের গৌরবচিহ্ন সমস্তই ধরণীপৃষ্ঠ হইতে মুছিয়া গিয়াছে। সর্ব্বগ্রাসী কালের অনন্ত গর্ভে তাহারা চিরদিনের জন্য আশ্রয় লইয়াছে। দুই শত বৎসর অতীত হইতে না হইতে, ভাগীরথীর উভয় তীরবর্তী তিন চারি ক্রোশব্যাপী নগরের অধিকাংশ এক্ষণে মরুভূমিতে পরিণত। তাহার বিরাট্ সৌধমালা অণু-পরমাণুতে মিশিয়া গিয়াছে। দিল্লী, আগরা, এমন কি প্রচীনতম গৌড় পর্যন্ত ভগ্ন-অট্টালিকাস্তূপ বক্ষে করিয়া আপন আপন পূর্ব্ব গৌরবের পরিচয় দিতেছে। কিন্তু তাহাদের বহু পরে নির্মিত মুর্শিদাবাদ শ্রীহীন, চিহ্নহীন, গৌরবহীন হইয়া ধ্বংসের শেষ আঘাত অপেক্ষা করিয়া ‘বসিয়া আছে। মুর্শিদাবাদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী আপনার মঙ্গল-ঘট ভাগীরথীবক্ষে বিসর্জন দিয়া যেন আর আসিবেন না বলিয়া চলিয়া গিয়াছেন।

তাঁহার রত্নরাজিমণ্ডিত মুকুট চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িয়াছে; গজদন্তনির্ম্মিত সিংহাসন শতখণ্ডে বিভক্ত; পরিধানের বহুমূল্য রেশমীবন্ত্র শতগ্রন্থিযুক্ত; বাদলার মালা বালকের ক্রীড়নক হইয়াছে। সেই অনন্ত ঐশ্বর্য্যময় চিত্র কে যেন মলিনতার ছায়া দ্বারা ঢাকিয়া দিয়াছে। মুর্শিদাবাদের ন্যায় এত শীঘ্র আর কোন স্থানের অধঃপতন ঘটিয়াছে বলিয়া মনে হয় না। মুর্শিদাবাদের কত অট্টালিকার: নাম শুনা যাইত, চেহেলসেতুন, এন্তাজ মহাল মহালসরা, আর কত নাম করিব! এই সমস্ত এক্ষণে কালগর্ভে শায়িত। কোন কোনটির। স্থান নির্দেশ করা যায়, কোন কোনটির স্থানের চিহ্নমাত্রও অনুসন্ধান- করিয়া পাওয়া যায় না। দুই একটি সমাধিক্ষেত্র ব্যতীত ইহার পূর্ব্ব পরিচয়ের আর কিছুই নাই।

যাঁহারা মুর্শিদাবাদের নিজামতী আসনে উপবিষ্ট হইয়াছিলেন, তাঁহারা প্রায় সকলেই নূতন নূতন অট্টালিকায়। ও-উত্থানে মুর্শিদাবাদকে পরিশোভিত করিতে চেষ্টা করেন। তদ্ভিন্ন নবাবের কর্মচারী ও জগৎশেঠ, প্রভৃতি প্রধান প্রধান ধনাঢ্যবর্গের সৌন্দর্য্যময়ী সৌধমালায় ভূষিত হইয়া মুর্শিদাবাদ ভারতসাম্রাজ্যের রাজ- ধানী দিল্লী নগরীর সহিতও সময়ে সময়ে স্পর্দ্ধা করিত। জানি না, ভাগ্যলক্ষ্মী কেন মুর্শিদাবাদের প্রতি এরূপ বিরূপ হইলেন। রাজসম্মান সকলের ভাগ্যে চিরস্থায়ী হয় না, তাই বলিয়া একেবারে যে তাহার। শোচনীয় দুর্দশা ঘটিবে, ইহাও বড় আক্ষেপের বিষয়। দিল্লী আগরার যাহা আছে, তাহাতে এক্ষণেও তাহাদিগকে বিশাল সাম্রাজ্যের রাজধানী বলিয়া বুঝিতে পারা যায়; কিন্তু কাহারও সাধ্য নাই যে, মুর্শিদাবাদকে বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ মুসলমান রাজধানী বলিয়া উপলব্ধি করিতে পারে।

 

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১২)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১২)

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024