মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের ফলে অর্ধেক মানুষের জীবনমান দারিদ্র্যসীমার নিচে: ইউএনডিপি

  • Update Time : সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ৬.০৭ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

ইউএনডিপি জানিয়েছে গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারে অর্থনীতি সংকট রয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ এখন জনগণকে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যেখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণী নিম্নবিত্তে পরিণত হচ্ছে এবং দারিদ্র্য ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, তিন বছর আগের তুলনায় এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণী অর্ধেক হয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মুখোমুখি হয়ে পরিবারগুলোর খাদ্যের ব্যয় কম করতে বাধ্য হচ্ছে। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে গৃহযুদ্ধের শুরু করার পর থেকে ১২ হাজার ৬ শ’জনেরও বেশি সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। এটি মিয়ানমারে পরিচালিত বৃহত্তম জরিপগুলোর মধ্যে একটি এবং এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক উত্থান- পতনের প্রতিনিধিত্ব করে।


কয়েক দশকের বিচ্ছিন্নতার পর, মায়ানমার ২০১১ সালে উদারকরণ এবং বিদেশী বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, ২০১৬ সালে মায়ানমারের অর্থনীতি বিশ্বের অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউএনডিপির প্রশাসক আচিম স্টেইনার নিউইয়র্ক থেকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটি এমন একটি দেশ যা অত্যন্ত ইতিবাচক পথে ছিল। তিনি আরও বলেন, এখন মিয়ানমারের অর্থনীতি “ভেঙে পড়ছে” এবং হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি বন্ধ হওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহীরা তিন বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে, কয়েক দশক ধরে যুদ্ধ চালিয়ে আসা জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দিয়েছে।

বিরোধীদের দমন করার জন্য একটি নিষ্ঠুর অভিযানে মানবাধিকার তদন্তকারীরা যাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন জান্তা তা চালিয়েছে। এমনকি যারা যুদ্ধে জড়িত নয়, তাদের দৈনন্দিন জীবনও অসহনীয় হয়ে উঠেছে, ইউএনডিপি তার প্রতিবেদনে বলেছে।

স্টেইনার বলেন,‘‘ মিয়ানমারের মুদ্রার মূল্য কমেছে । লাখ লাখ শ্রমিক দেশ ছেড়ে চলে গেছে এবং পণ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মজুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের লাখ লাখ মানুষের কর্মক্ষেত্রগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে। কেউবা সহিংসতা থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জীবিকা নির্বাহ করতে অক্ষম হয়েছে।’’

 

অভ্যুত্থান এবং করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বৈত প্রভাবের কারণে ২০২১ সালে মিয়ানমারের জিডিপি প্রায় ১৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সামরিক নেতারা গত বছর দাবি করেছিলেন যে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং জিডিপি বার্ষিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংক একটি পূর্বাভাস প্রকাশ করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের কাছাকাছি হবে।

 

ইউ. এন. ডি. পি-র মতে, তীব্র সংঘাতের অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বের কায়াহ রাজ্যে। যেখানে একটি বিদ্রোহী আন্দোলন নির্বিচারে সামরিক বিমান হামলার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে সেখানকার  মানুষের আয় অর্ধেক হয়ে গেছে-যে কোনও রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

 

 

মাথাপিছু গড় আয় প্রতি মাসে প্রায় ১৪ ডলারে নেমে এসেছে। যা জাতিসংঘ নির্ধারিত বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন তা পূরণ করার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে কম। সংস্থাটি জানিয়েছে, অক্টোবরে যখন ইউএনডিপি তার সমীক্ষা শেষ করে, তখন মিয়ানমারের জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ “একটি সুতায় ঝুলে ছিল”। তারপর থেকে, জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন যে, বড় ধরনের বিদ্রোহী আক্রমণের ফলে দেশজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সম্ভবত সেই জনসংখ্যার অধিকাংশকে দ্বারপ্রান্তে এবং দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, এদিকে সামরিক বাহিনী তাদের অভিযান ধীর করার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারিতে, সেনাবাহিনী ঘোষণা করে যে তারা নতুন সৈন্য নিয়োগ শুরু করবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণ এবং অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা পরিচালনা থেকে সামরিক বাহিনী তার বেশিরভাগ অর্থ উপার্জন করে।

 

 

জাতিসংঘ অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অনুসারে গত বছর, আফগানিস্তানকে ছাড়িয়ে মায়ানমার আফিমের বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক হয়ে উঠেছে। দেশটি অনলাইন কেলেঙ্কারি পরিচালনার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি। হর্সি বলেন, অর্থনীতি ভেঙে পড়ার পরেও সামরিক বাহিনী তাদের যুদ্ধের প্রচেষ্টায় অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষদের জন্য জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024