বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারে যুদ্ধ : সীমান্তের ওপার থেকে ভারী মর্টাল শেলের শব্দ

  • Update Time : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪, ৩.০৯ পিএম

জাফর আলম, কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারে থেকে ভারী গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে ওই এলাকায় কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

শনিবার (২ মার্চ) ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্তের ওপার থেকে মর্টার শেলের ভয়ঙ্কর শব্দে সীমান্তের বাসিন্দারা রয়েছে আতঙ্কে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, সকাল থেকে থেমে থেমে ওপারে মিয়ানমার থেকে ভারী মর্টার শেলের শব্দ শুনতে পাই। মর্টার শেলের শব্দে সীমান্তে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলে ও চাষিরা। এ ছাড়া সকাল থেকে সেখানে আগুনের কালো ধোঁয়াও দেখা যাচ্ছে। আমরা সীমান্তের লোকজনের খোঁজ রাখছি। জানা গেছে, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তের পূর্বে মিয়ানমারের কুমিরহালি, নাইচদং, কোয়াংচিগং, শিলখালী, নাফপুরা গ্রামে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘর্ষ চলছে।

ওই সীমান্তের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার এলাকায় নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ড টহল বৃদ্ধি করেছে।

সীমান্তের বাসিন্দারা বলেন,সকাল থেকে মিয়ানমার থেকে ভারী গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এখন নতুন করে সেখানে আগুন দেখা যাচ্ছে। এতে আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভয়ঙ্কর শব্দ শুনেছি। এ রকম শব্দ খুব কম শোনা যায়।মিয়ানমারে চলমান এই যুদ্ধে সীমান্তবাসীদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সীমান্তের ওপারে সকাল থেকে কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

হোয়াইক্যং এর স্থানীয়রা বলেন, সীমান্তের ওপারে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। ওপারের পরিস্থিতির কারণে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসরতদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।এদিকে, এখনও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নাফ নদ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ কালে চারশ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন বিজিবি-কোস্ট গার্ড সদস্যরা।এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তাহসিন রহমান বলেন, ওপারের চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নাফ নদ দিয়ে সীমান্তে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা থেকে আমরা (কোস্ট গার্ড) নাফ নদে টহল জোরদার রেখেছি। নতুন করে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আমরা ইতোমধ্যে দুই শতাধিকের বেশি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাকে প্রতিহত করেছি।

বিজিবির টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের তৎপর রাখা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024